সামবেদ
অনুবাদকদুর্গাদাস লাহিড়ী

সূচিপত্র

ভূমিকা - সামবেদ সংহিতা
সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি
সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি
সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি
সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি
সামবেদ - ৫ম অধ্যায় পাবমান কাণ্ড
সামবেদ - ৬ষ্ঠ অধ্যায় আরণ্যক কাণ্ড
সামবেদ - মহানাম্নী আর্চিক

ভূমিকা - সামবেদ সংহিতা

ভূমিকা

সামবেদ সংহিতা - সাম মানে গান। যে মন্ত্র গান করা যায়, তাকেই সাম বলে। যজ্ঞ করার সময় কোন কোন ঋগ আবৃত্তি না করে সুর করে গাওয়া হত। এই গেয় ঋগ্‌সমূহকে বলা হয় সামবেদ। আর সামর সংকলনই সামবেদ সংহিতা। সামবেদের অধিকাংশ মন্ত্র ঋকবেদ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এই বেদের নিজস্ব মন্ত্রের সংখ্যা ৭৫টি। বৈদিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত গানের সঙ্কলন হলো সামবেদ। এই কারণে সামবেদকে অনেক সময় সঙ্গীত গ্রন্থ বলা হয়। এই বেদকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। এই প্রথমভাগ আর্চিক এবং দ্বিতীয় ভাগ গান। আর্চিক আবার দুই ভাগে বিভক্ত। এই ভাগ দুটো হলো‒ পূর্বার্চিক ও উত্তরার্চিক।

সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি

প্রথম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতা অগ্নি

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।২।৪।৭।৯ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য

৩ মেধাতিথি কান্ব;
৫ তশনা কাব্য;
৬ সুদীতি পুরুমীঢ় আঙ্গিরস;
৮ বৎস কান্ব;
১০ বামদেব॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ- (০১) ‌অগ্ন আ যাহি বীতয়ে গৃণানো হব্যদাতয়ে। নি হোতা সৎসি বর্হিষি ॥ ১ ॥

অর্থঃ- (০১) হে অগ্নি, আনন্দের জন্য এস; স্তবযুক্ত হয়ে দেবলোকে আহূতিভার বহনের জন্য এস; হে দেবগণের আহ্বাতা; যজ্ঞাসনে উপবেশন কর॥

মন্ত্রঃ- (০২) ত্বমগ্নে যজ্ঞানাং হোতা বিশ্বেষাং হিতঃ। দেবেভির্মানুষে জনে ॥ ২ ॥

অর্থঃ- (০২) তুমি হে অগ্নি, সকল যজ্ঞের হোতা। দেবতাদের সঙ্গে যুক্তভাবে প্রতি মানুষে, প্রতি জীবে হিতকারী।

মন্ত্রঃ- (০৩) অগ্নিং দূতং বৃণীমহে হোতারা বিশ্ববেদসম্। অস্য যজ্ঞস্য সুক্রতুম্ ॥ ৩ ॥

অর্থঃ- (০৩) এই যজ্ঞের সকর্মা (মঙ্গলসম্পাদক), দেবগণের দূত, হোতা, বিশ্বধন অগ্নিকে বরণ করি।

মন্ত্রঃ- (০৪) অগ্নির্বৃত্রাণি জঙ্ঘনদ্ দ্রবিণস্যুর্বিপন্যয়া। সমিদ্ধঃ শুক্র আহূতঃ ॥ ৪ ॥

অর্থঃ- (০৪) আবরকশক্তিকে পুনঃ পুনঃ বিনাশের জন্য অগ্নি মেধাশক্তি দ্বারা সতত গমনস্বভাবযুক্ত। তিনি প্রাণসন্দীপ্ত, জ্যোতিষ্মান্, সকল কামনায় আহূত।

মন্ত্রঃ- (০৫) প্রেষ্ঠং বো অতিথিং স্তুষে মিত্রমিব প্রিয়ম্। অগ্নে রথং ন বেদ্যম্ ॥ ৫ ॥

অর্থঃ- (০৫) প্রিয়তম অতিথিকে, মিত্রের ন্যায় প্রিয় অগ্নিকে তোমাদের জন্য তোষণ করি। হে অগ্নি, তুমি সূর্যের মত জ্ঞেয়।

মন্ত্রঃ- (০৬) ত্বং নো অগ্নে মহোভিঃ পাহি বিশ্বস্যা অরাতেঃ। উত দ্বিষো মর্ত্যস্য ॥ ৬ ॥

অর্থঃ- (০৬) তুমি আমাদের, হে অগ্নি মহাধনে পালন কর। সকল শত্রু হতে আর মর্ত্যের দ্বেষ হতে রক্ষা কর।

মন্ত্রঃ- (০৭) এহ্যূ ষু ব্রবাণি তেহগ্ন ইত্থেতরা গিরঃ। এভির্বর্ধাস ইন্দুভিঃ ॥ ৭ ॥

অর্থঃ- (০৭) এস হে অগ্নি, তোমাকে এ ভাবেই স্তুতি করবো। এ ভাবেই সকল যজ্ঞের দ্বারা তুমি বর্ধিত হও।

মন্ত্রঃ- (০৮) আ তে বৎসো মনো যমৎ পরমাচ্চিৎ সধস্থাৎ। অগ্নে ত্বাং কাময়ে গিরা ॥ ৮ ॥

অর্থঃ- (০৮) এস হে অগ্নি পরমলোক থেকে। বৎস ঋষি তোমাকে কামনা করে স্তবমালায় তোমার মন আকর্ষণ করে।

মন্ত্রঃ- (০৯) ত্বামগ্নে পুস্করাদধ্যথর্বা মূর্ধ্নো বিশ্বস্য বাঘতঃ ॥ ৯ ॥

অর্থঃ- (০৯) তোমাকে, হে অগ্নি, স্বকর্মে অবিচল আদিত্য (=অথর্ব) যিনি বিশ্বের ঋত্বিক, তিনি শীর্ষে অবস্থান করে অন্তরিক্ষ হতে মন্থন করে আনেন।

মন্ত্রঃ- (১০) অগ্নে বিবস্বদা ভরাস্মভ্যমূতয়ে মহে। দেবো হ্যসি নো দৃশে ॥ ১০ ॥

অর্থঃ- (১০) হে অগ্নি, তমোনাশক তুমি, আমাদের পালনের জন্য মহাধন আন আর আমাদের দর্শনের জন্য তুমিই দেবতা।

সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি

দ্বিতীয় খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতা অগ্নি

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ আয়ুঙ্ ক্ষ্বাহি, বিরূপা আঙ্গিরস,
২ বামদেব গৌতম,
৩।৮।৯ প্রয়োগ ভার্গব,
৮ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র,
৫।৭ শূ্নঃশেপ আজীগর্তি,
৬ মেধাতিথি কান্ব,
১০ বৎস কান্ব॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্র : (১১) নমস্তে অগ্ন ওজসে গৃণন্তি দেব কৃষ্টয়ঃ। অমৈরমিত্রমর্দয় ॥১॥

অর্থঃ- (১১) হে অগ্নি, মানুষেরা ওজঃশক্তির জন্য নত হয়ে তোমার স্তব করে। হে দেব, বলপ্রভাবে অমিত্রকে (=শত্রুকে) পীড়িত কর॥

মন্ত্র : (১২) দূতং বো বিশ্ববেদসং হব্যবাহমমর্ত্যম্। যজিষ্ঠমৃঞ্জসে গিরা ॥২॥

অর্থঃ- (১২) হে জনগণ, তোমাদের মঙ্গলের জন্য দেবদূত বিশ্বধন হব্যবাহী অমৃত যাজ্ঞিকশ্রেষ্ঠ অগ্নিকে স্তবের দ্বারা শোভিত কর॥

মন্ত্র : (১৩) উপ ত্বা জাময়ো গিরো দেদিশতীর্হবিষ্কৃতঃ। বায়োরনীকে অস্থিরন্ ॥৩॥

অর্থ : (১৩) হে অগ্নি, যজ্ঞনিস্পাদকের বারবার উচ্চারিত দীপ্ত স্তবমালা তোমাকে প্রাপ্ত হবার জন্য মুখ্যপ্রাণ বায়ুর নিকটে অবস্থান করে॥

মন্ত্র : (১৪) উপ ত্বাগ্নে দিবে দিবে দোষাবস্তর্ধিয়া বয়ম্। নমো ভরন্ত এমসি ॥৪॥

অর্থঃ- (১৪) হে তমোনাশক অগ্নি, প্রতিদিন আমরা প্রজ্ঞাদ্বারা নত হয়ে নমস্কার করতে করতে তোমাকেই কাছে পাই॥

মন্ত্র : (১৫) জরাবোধ তদ্বিবিড্ ঢি বিশেবিশে যজ্ঞিয়ায়। স্তোমং রুদ্রায় দৃশীকম্ ॥৫॥

অর্থঃ- (১৫) হে স্তুতিদ্বারা প্রবুদ্ধ অগ্নি, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের প্রয়োজনে যজ্ঞযোগ্য রুদ্রের উদ্দেশ্যে যে অলোকসামান্য স্ত্রোত্র তা তুমিই জান॥

মন্ত্র : (১৬) প্রতি ত্যং চারুমধ্বরং গোপীথায় প্র হূয়সে। মরুদ্যভিরগ্ন আ গহি ॥৬॥

অর্থ : (১৬) আমাদের রক্ষণের জন্য যে শোভন যজ্ঞে তুমি আহূত হও সেখানে তুমি হে অগ্নি, সকল প্রাণশক্তির সঙ্গে এস॥

মন্ত্র: (১৭) অশ্বং ন ত্বা বারবন্তং বন্দধ্যা অগ্নিং নমোভিঃ। সম্রাজন্তমদ্বরাণাম্ ॥৭॥

অর্থ : (১৭) সকল যজ্ঞের সম্রাট্ অশ্বপুচ্ছের মত শিখাবিশিষ্ট অগ্নি তোমাকে নমস্কারের দ্বারা বন্দনা করতে প্রবৃত্ত হই॥

মন্ত্র : (১৮) ঔর্বভৃণ্ডবচ্ছুচিমপ্নবানবদা হুবে। অগ্নিং সমুদ্রবাসসম্॥৮॥

অর্থ : (১৮) পৃথিবীজাত অগ্নিশিখাসম্ভূত রূপবানের ন্যায় অন্তরিক্ষে নিবাসকারী শুচি অগ্নিকে সকল দিক্ হতে আহ্বান করি॥

মন্ত্র : (১৯) অগ্নিমিন্ধানো মনসা ধিয়ং সচেত মর্ত্যঃ। অগ্নিমিন্ধে বিবস্বভিঃ ॥৯॥

অর্থ: (১৯) মর্ত্যের মানুষ অগ্নিকে প্রজ্বলিত করে মনের সহায়তায় কর্মে মিলিত হয়; জ্ঞানের দ্বারাও অগ্নিদেবকে প্রজ্বালিত করে॥

মন্ত্র : (২০) আদিৎ প্রত্নস্য রেতসো জ্যোতিঃ পশ্যন্তি বাসরম্। পরো যদিধ্যতে দিবি ॥১০॥

অর্থ : (২০) ঊর্ধ্বে দ্যুলোকে যা দীপ্তিলাভ করে তা স্বর্গীয় বারি হতে জ্যোতি আহরণ করে দিনের আলো দেখে॥

সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি

তৃতীয় খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১৪

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতা অগ্নি

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ প্রয়োগ ভার্গব;
২।৫ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য;
৩।১০ বামদেব গৌতম;
৪।৬ বসিষ্ঠ মেত্রাবরুণি;
৭ বিরূপ আঙ্গিরস;
৮ শূনঃশেপ আজীগর্তি;
৯ গোপবন আত্রেয়;
১১ প্রস্কন্ব কাণ্ব;
১২মেধাতিথি কাণ্ব

১৩ সিন্ধুদ্বীপ আন্বরীষ বা ত্রিত আপ্ত্য;
১৪ উশনা কাব্য॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ- (২১) অগ্নিং বো বৃধন্তমধ্বরাণাং পুরুতমম্। অচ্ছা নপ্ত্রে সহস্বতে ॥১॥

অর্থঃ- (২১) তোমাদের সন্তানের জন্য, বলের জন্য অহিংসিত যজ্ঞের বধর্নকারী অতিব্যাপ্ত অগ্নিকে প্রাপ্ত হও।

মন্ত্রঃ- (২২) অগ্নিস্তিগ্মেন শোচিষা যংসদ্বিশ্বং ন্যত্ত্রিণম্। অগ্নির্নো বৎসতে রয়িম্ ॥২॥

অর্থঃ- (২২) অগ্নি তীক্ষ্ণ জ্যোতিশিখাদ্বারা বিশ্বধন নিয়ন্ত্রণ করেন। অগ্নি আমাদের ধনদাতা॥

মন্ত্রঃ- (২৩) অগ্নে মৃড় মহাঁ অস্যয আ দেবয়ুং জনম্। ইয়েথ বর্হিরাসদম্ ॥৩॥

অর্থঃ- (২৩) হে অগ্নি, আমাদের সুখী কর; তুমি মহান। দেবকাম ব্যক্তিকে অনুগ্রহের জন্য যজ্ঞাসনে উপবেশন কর॥

মন্ত্রঃ- (২৪) অগ্নে রক্ষা ণো অংহসঃ প্রতি স্ম দেব রীষতঃ। তপিষ্ঠৈরজরো দহ ॥৪॥

অর্থঃ- (২৪) হে অগ্নি, আমাদের পাপ হতে রক্ষা কর। হে দেব, হিংসকদের হাত থেকে রক্ষা কর। তোমার তপের তাপে স্তুতিহীনদের দহন কর॥

মন্ত্রঃ- (২৫) অগ্নে যুঙ্ ক্ষ্বা হি যে তবাশ্বাসো দেব সাধবঃ। অরং বহন্ত্যাশবঃ ॥৫॥

অর্থঃ- (২৫) হে অগ্নি, তোমার যে সকল সৎকর্মপরায়ণ আলোকরশ্মিদের নিজরথে যুক্ত কর যে ক্ষিপ্রকর্মকুশলেরা তোমাকে সর্বত্র বহন করে॥

মন্ত্রঃ- (২৬) নি ত্বা নক্ষ্য বিশ্‌পতে দ্যুমন্তং ধীমহে বয়ম্। সুধীরমগ্ন আহুত॥৬॥

অর্থঃ- (২৬) তোমার প্রতি গমনশীল আমরা, হে জনগণপালক সুবীর আহূত অগ্নি, দীপ্যমান তোমাকেই ধ্যান করি॥

মন্ত্রঃ- (২৭) অগ্নির্মুর্ধা দিবঃ ককুৎপতিঃ পৃথিব্যা অয়ম্। অপাং রেতাংসি জিনবতি ॥৭॥

অর্থঃ- (২৭) অগ্নি দ্যুলোকের মস্তক, এক পৃথিবীরও শীর্ষস্থানীয়। তিনি বারিধারায় সকলকে প্রীত করেন॥

মন্ত্রঃ- (২৮) ইমমু ষু ত্বম্ স্মাকং সনিং গায়ত্রং নব্যাংসম্। অগ্নে দেবেষু প্র বোচঃ॥৮॥

অর্থঃ- (২৮) হে অগ্নি, গায়ত্রীছন্দে রচিত নবতর স্তুতি আমাদের এ উপহার তুমি দেবগণের মধ্যে প্রচার কর॥

মন্ত্রঃ- (২৯) যং ত্বা গোপবনো গিরা জনিষ্ঠদগ্নে অঙ্গিরঃ। স পাবক শ্রুধী হবম্ ॥৯॥

অর্থঃ- (২৯) যে তোমাকে গোপবন ঋষি স্তবে তুষ্ট করলো সেই তুমি হে অগ্নি, হে অঙ্গির, হে পাবক, আমাদের আহ্বান শোন॥

মন্ত্রঃ- (৩০) পরি বাজপতিঃ কবিরগ্নির্হব্যান্যক্রমীৎ। দধদ্ রত্নানি দাশুষে ॥১০॥

অর্থঃ- (৩০) অন্নবলপতি কবি অগ্নি সকল হব্য বহন করেন; হব্যদাতার জন্য রত্নধারণ করেন॥

মন্ত্রঃ- (৩১) উদূ ত্যং জাতবেদসং দৈবং বহন্তি কেভবঃ। দৃশে বিশ্বায় সূর্যমা ॥১১॥

অর্থঃ- (৩১) যিনি প্রাণিমাত্রকেই জানেন সেই সূর্যরূপী অগ্নিদেবকে বিশ্বের দর্শনের জন্য রশ্মিগণ ঊর্ধ্বে বহন করেন॥

মন্ত্রঃ- (৩২) কবিমগ্নিমুপ স্তুহি সত্যধর্মাণমধ্বরে। দেবমমীবচাতনম্ ॥১২॥

অর্থঃ- (৩২) হে স্তোতা, অহিংসিত যজ্ঞে কবি সত্যধর্মা ব্যাধিনাশক দ্যোতমান অগ্নিকে স্তব কর॥

মন্ত্রঃ- (৩৩) শং নো দেবীরভিষ্টয়ে শং নো ভবন্তু পীতয়ে। শং যোরভিস্রবন্তু নঃ ॥১৩॥

অর্থঃ- (৩৩) আমাদের অভিলাষ পূরণের জন্য আমাদের সুখকর পালনের জন্য সকল জলদা-শক্তি কল্যাণবারি বর্ষণের দ্বারা আমাদের সুখী করেন॥

মন্ত্রঃ- (৩৪) কস্য নূনং পরীণসি ধিয়ো জিন্বসি সৎপতে। গোষাতা যস্য তে গিরঃ॥

অর্থঃ- (৩৪) কার বহুকর্মকে পুরণ কর হে সৎপতি? ‒তোমার উদ্দেশ্যে যার স্তুতি সর্বধনকর॥

সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি

চতুর্থ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতা অগ্নি

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৩।৭ শংযু বার্হস্পত্য, তৃণপাণি;
২।৫।৮।৯ ভর্গ প্রাগাথ, বশিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি;
৬ প্রস্কন্ব কাণ্ব,
১০ সৌভরি কাণ্ব॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ- (৩৫) যজ্ঞাযজ্ঞা বো অগ্নয়ে গিরাগিরা চ দক্ষসে। প্রপ্র বয়মমৃতং জাতবেদসং প্রিয়ং মিত্রং ন শংসিষম্॥১॥

অর্থঃ- (৩৫) যজ্ঞে যজ্ঞে মন্ত্রে মন্ত্রে তোমাদের জন্য আমরা অমৃতসমান, সর্বজ্ঞ, প্রিয়, মিত্র, প্রশংসনীয় অগ্নির উদ্দেশ্যে সেই পবিত্রবলের উদ্দেশ্যে স্তব করি।।

মন্ত্রঃ- (৩৬) পাহি নো অগ্র একয়া পাহ্যূতত দ্বিতীয়রা। পাহি গীর্ভিস্তিসৃভিরূর্জাম্পতে পাহি চতসৃভির্বসো॥২॥

অর্থঃ- (৩৬) হে অগ্নি, আমাদের প্রথমের দ্বারা ( ‒ঋগ্বেদের দ্বারা পালন কর। আমাদের দ্বিতীয়ের দ্বারা ( ‒যজূর্বেদের দ্বারা) পালন কর; হে বলপতি, আমাদের তৃতীয় স্তবমালার দ্বারা ( ‒সামবেদের দ্বারা) পালন কর; হে ধনী, আমাদের চতুর্থের দ্বারা ( ‒অথর্ববেদের দ্বারা) পালন কর॥

মন্ত্রঃ- (৩৭) বৃহদ্ভিরগ্নে অর্চিভিঃ শুক্রেণ দেব শোচিষা। ভরদ্বাজে সমিধানো যবিষ্ঠা রেবৎপাবক দীদিহি॥৩॥

অর্থঃ- (৩৭) হে অগ্নি, প্রবল দীপ্তিসহায়ে, হে দেব, শুভ্রজ্যোতি সহায়ে যেমন ভরদ্বাজের কাছে সন্দীপ্ত হও তেমনি হে চিরযুবা, ধনাধীশ, হে পাবক, আমার কাছে প্রকাশিত হও।।

মন্ত্রঃ- (৩৮) ত্বে অগ্নে স্বাহূত প্রিয়াসঃ সন্তু সূরয়ঃ। যন্তারো যে মঘবানো জনানামুর্বং দয়ন্ত গোনাম্॥৪॥

অর্থঃ- (৩৮) সুষ্ঠরূপে আহূত হে অগ্নি, শ্রেষ্ঠদের মধ্যে তাঁরাই তোমার প্রিয় যাঁরা ধনের নিয়ামক হয়ে মানুষ ও পশুর মধ্যে তোমার সম্পদ সম্যক বিভাগ করে দেন॥

মন্ত্রঃ- (৩৯) অগ্নে জরিতর্বিশ্‌পপতিস্তপানো দেব রক্ষসঃ। অপ্রোষিবান্ গৃহপতে মহাঁ অসি দিবস্পায়ুর্দুরোণষুঃ॥৫॥

অর্থঃ- (৩৯) হে অগ্নি, হে স্তুত্য, হে জনগণপতি, হে দুষ্টসন্তাপক, হে দেব, হে অচঞ্চল গৃহপতি, তুমি মহান্, দ্যুলোকের পালক, তুমি গৃহপালনের অভিলাষী॥

মন্ত্রঃ- (৪০) অগ্নে বিবস্বদুষশ্চিত্রং রাধো অমর্ত্য। আ দাশষে জাতবেদো বহা ত্বমদ্যা দেবাঁ ঊষবুর্ধঃ॥৬॥

অর্থঃ- (৪০) হে অগ্নি, তমোনাশক তুমি; নিয়ে এস তার জন্য ঊষা হতে বিচিত্র সর্বার্থধন যে তোমাকে চায়; হে অমর্ত্য, হে জাতপ্রজ্ঞান, আজ আন সেই দেবদের যাঁরা ঊষাকালে জাগরিত॥

মন্ত্রঃ- (৪১) ত্বঃ নশ্চিত্র ঊত্যা বসো রাধাংসি চোদয়। অস্য বায়স্তমগ্নে রথীরসি বিদা গাধং তুচে তু নঃ॥৭॥

অর্থঃ- (৪১) হে বিচিত্রধন অগ্নি, আমাদের পালন ইচ্ছা করে সর্বার্থসাধক ধন দান কর; হে অগ্নি, এ ধনের তুমিই চালক যা আমাদের সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করবে।

মন্ত্রঃ- (৪২) ত্বমিৎ সপ্রথা অস্যগ্নে ত্রাতর্ঋতঃ কবিঃ। ত্বাং বিপ্রাসঃ সমিধান দীদিব আ বিবাসন্তি বেধসঃ॥৮॥

অর্থঃ- (৪২) তুমিই সর্বত্র বিস্তৃত হও হে অগ্নি, তুমিই ত্রাতা, তুমিই ঋত (সত্য), তুমিই কবি; হে সন্দীপ্ত, হে দেদীপ্যমান, তোমাকে জ্ঞানবৃদ্ধ স্তোতাগণ, সর্বত্র পরিচর্যা করেন।।

মন্ত্রঃ- (৪৩) আ নো অগ্নে বয়োবৃধং রয়িং পাবক শংস্যম্। রাস্বা চ ন উপমাতে পুরুস্পৃহং সুনীতি সুযশস্তরম্॥৯॥

অর্থঃ- (৪৩) হে অগ্নি, আমাদের জন্য আয়ুকারক প্রশংসনীয় ধন আন; হে পাবক, হে কাছের দেবতা, সুনীতিযুক্ত সুযশ বহস্পৃহ ধন দাও॥

মন্ত্রঃ- (৪৪) যো বিশ্বা দয়তে বসু হোতা মন্দ্রো জনানাম্। মঘোর্ন পাত্রা প্রথমান্যস্মৈ প্র স্তোমা যন্ত্বগ্নয়ে॥১০॥

অর্থঃ- (৪৪) যিনি বিশ্বধন, বসু, হোতা, জনগণের আনন্দদায়ক, সেই অগ্নির উদ্দেশ্যে সব স্তুতিমন্ত্র মধুপূর্ণ পাত্রের মত যাচ্ছে॥

সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি

পঞ্চম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতা অগ্নি

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ বশিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি;
২ ভর্গ প্রাগাথ;
৩।৭ সৌভরি কাণ্ব;
৪ মনু বৈবস্বতি;
৫ সুদীতিপুরমীঢ় আঙ্গিরস;
৬ প্রস্কন্ব কাণ্ব;
৮ কাণ্ব মেধাতিথি ও মেধ্যাতিথি;
৯ গাথি বিশ্বামিত্র;
১০ ঘৌর কণ্ব ॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ- (৪৫) এনা বো অগ্নিং নমসোর্জো নপাতমা হূবে। প্রিয়ং চেতিষ্ঠমরতিং স্বধ্বরং বিশ্বস্য দূতমমৃতম্॥১॥

অর্থঃ- (৪৫) তোমাদের জন্য বলপুত্র প্রিয় উত্তমচৈতন্য ভ্রমণশীল সুযজ্ঞ বিশ্বদূত অমৃতসমান অগ্নিকে স্তবের দ্বারা আহ্বান করি॥

মন্ত্রঃ- (৪৬) শেষে বনেষু মাতৃষু সং ত্বা মর্তাস ইন্ধতে। অতন্দো হব্যং বহসি হবিস্কৃত আদিদ্দেবেষু রাজসি॥২॥

অর্থঃ- (৪৬) হে অগ্নি, বনে মাতৃরূপা কাষ্ঠমধ্যে তুমি নিদ্রা যাও, মানুষেরা তোমাকে প্রজ্বালিত করে, তুমি হব্যদাতার হব্য অনলস অতন্দ্র হয়ে বহন করে থাক, তারপর দেবজ্যোতির মধ্যে দীপ্তিলাভ কর॥

মন্ত্রঃ- (৪৭) অদর্শি গাতুবিত্তমো যস্মিন্ ব্রতান্যাদধুঃ। উপো ষু জাতমার্যস্য বর্ধনমগ্নিং নক্ষন্তু নো গিরঃ॥৩॥

অর্থঃ- (৪৭) সকল পথের সন্ধান যিনি জানেন, যাঁর মধ্যে সকল ব্রত ধৃত আছে সেই অগ্নি দেখা দিলেন। আর্যগণের জন্য জাত জ্ঞানবৃদ্ধিকর অগ্নি আমাদের সকল স্তুতি গ্রহণ করুন।

মন্ত্রঃ- (৪৮) অগিরুক্ থে পুরোহিতো গ্রাবাণো বর্হিরধ্বরে। ঋচা যামি মরুতো ব্রহ্মণস্পতে দেবা অবো বরেণ্যম্।।৪।।

অর্থঃ- (৪৮) অগ্নি দ্যুলোকাগ্নির মধ্যে প্রধান, আকাশে মেঘের মধ্যে জলের সাথে বর্তমান। হে ব্রহ্মের পালক অগ্নি, প্রাণবায়ু মরুদগণের কাছে বর্ষমিরূপ বরণীয় পালন ঋক্ মন্ত্রের দ্বারা যাচ্ঞা করি।

মন্ত্রঃ- (৪৯) অগ্নিমীড়িম্বাবসে গাথাভিঃ শীরশোচিষম্। অগ্নিং রায়ে পুরুমীঢ় শ্রুতং নরোহগ্নিঃ সুদীহয়ে ছর্দিঃ॥৫॥

অর্থঃ- (৪৯) যে পুরুমীঢ়, তেনু আত্মরক্ষার জন্য পবিত্র শিখা অগ্নিকে গাথাদ্বারা স্তর কর, খ্যাত অগ্নিকে ধনের জন্য স্তব কর, সুদীতির জন্য কামনা কর, অন্য লোকেও এইভাবে অগ্নিকে স্তব কর।

মন্ত্রঃ- (৫০) শ্রুধি শ্রুৎকর্ণ বহ্নিভি-র্দেবৈরগ্নে সয়াবভিঃ। আসীদতু বর্হিষি মিত্রো অর্যমা প্রাতর্যাবভিরধ্বরে॥৬॥

অর্থঃ- (৫০) শোন হে অগ্নি, হে শ্রবণসমর্থ, আমার বচন; যে দেবেরা তোমার সঙ্গে হব্য বহন করেন তাঁদের নিয়ে এবং মিত্র অর্যমা ও প্রাতর্যাগে আগমনকারী অন্যদেবতাদের সঙ্গে নিয়ে এই অহিংসিত যজ্ঞে এসে যজ্ঞাসনে বোসো।

মন্ত্রঃ- (৫১) প্রে দৈবদাসো অগ্নির্দেব ইন্দ্রো ন মজ্‌মনা। অনু মাতরং পৃথিবীং বি বাবৃতে তস্থৈ নাদন্য শর্মণি॥৭॥

অর্থঃ- (৫১) ইন্দ্রের মত বলবান দৈবকর্মা অগ্নিদেব মাতা পৃথিবীকে আবৃত করে দ্যুলোকের আশ্রয়ে অবস্থিত থাকেন।

মন্ত্রঃ- (৫২) অধ জূমো অধ বা দিবো বৃহতো রোচনাদধি। অয়া বর্ধস্ব তন্বা গিরা মমা জাতা সুক্রতো পৃণ॥৮॥

অর্থঃ- (৫২) পৃথিবী হতে, দ্যুলোক হতে, অথবা বিশাল আলোকলোক হতে এস হে, সুক্রতু (সুকর্মা), আমার স্তুতিতে বেড়ে ওঠ, আমার সন্তানদের কামনা পূর্ণ কর।

মন্ত্রঃ- (৫৩) কায়মানো বনা ত্বং যন্মাতুরঞ্জগন্নপঃ। ন তত্তে অগ্নে প্রমৃষে নিবর্তনং যদ্ দূরে সন্নিথা ভুবঃ॥৯॥

অর্থঃ- (৫৩) হে অগ্নি, যখন তোমার নিজের উৎপত্তিস্থান বনকাষ্ঠমধ্যে ও সকলজীবের স্রষ্টা জলরাশিকে কামনা করে তাদের মধ্যে প্রবেশ কর তখন তুমি চিরতরে হারিয়ে যাও না তুমি আমাদের থেকে দূরে গেলেও আবার ফিরে আস।

মন্ত্রঃ- (৫৪) মি ত্বামগ্নে মনূর্দধে জ্যোতির্জনায় শশ্বতে। দীদেথ কণ্ব ঋতজাত উক্ষিতো যং নমস্যন্তি কৃষ্টয়ঃ॥১০॥

অর্থঃ- (৫৪) জ্যোতিস্বরূপ্ তোমাকে হে অগ্নি, মানুষের হিতের জন্য সূর্যদেব সদাই ধারণ করেন; মেধাবী সত্যজাত সদা বর্ধমান তুমি দীপ্তিলাভ কর, যে তোমাকে মানুষেরা নমস্কার জানায়।

সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি

ষষ্ঠ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতা অগ্নি

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ বশিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি;
২ ভর্গ প্রাগাথ;
৩।৭ সৌভরি কাণ্ব;
৪ মনু বৈবস্বতি;
৫ সুদীতিপুরমীঢ় আঙ্গিরস;
৬ প্রস্কন্ব কাণ্ব;
৮ কাণ্ব মেধাতিথি ও মেধ্যাতিথি;
৯ গাথি বিশ্বামিত্র;
১০ ঘৌর কণ্ব ॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ- (৪৫) এনা বো অগ্নিং নমসোর্জো নপাতমা হূবে। প্রিয়ং চেতিষ্ঠমরতিং স্বধ্বরং বিশ্বস্য দূতমমৃতম্॥১॥

অর্থঃ- (৪৫) তোমাদের জন্য বলপুত্র প্রিয় উত্তমচৈতন্য ভ্রমণশীল সুযজ্ঞ বিশ্বদূত অমৃতসমান অগ্নিকে স্তবের দ্বারা আহ্বান করি॥

মন্ত্রঃ- (৪৬) শেষে বনেষু মাতৃষু সং ত্বা মর্তাস ইন্ধতে। অতন্দো হব্যং বহসি হবিস্কৃত আদিদ্দেবেষু রাজসি॥২॥

অর্থঃ- (৪৬) হে অগ্নি, বনে মাতৃরূপা কাষ্ঠমধ্যে তুমি নিদ্রা যাও, মানুষেরা তোমাকে প্রজ্বালিত করে, তুমি হব্যদাতার হব্য অনলস অতন্দ্র হয়ে বহন করে থাক, তারপর দেবজ্যোতির মধ্যে দীপ্তিলাভ কর॥

মন্ত্রঃ- (৪৭) অদর্শি গাতুবিত্তমো যস্মিন্ ব্রতান্যাদধুঃ। উপো ষু জাতমার্যস্য বর্ধনমগ্নিং নক্ষন্তু নো গিরঃ॥৩॥

অর্থঃ- (৪৭) সকল পথের সন্ধান যিনি জানেন, যাঁর মধ্যে সকল ব্রত ধৃত আছে সেই অগ্নি দেখা দিলেন। আর্যগণের জন্য জাত জ্ঞানবৃদ্ধিকর অগ্নি আমাদের সকল স্তুতি গ্রহণ করুন।

মন্ত্রঃ- (৪৮) অগিরুক্ থে পুরোহিতো গ্রাবাণো বর্হিরধ্বরে। ঋচা যামি মরুতো ব্রহ্মণস্পতে দেবা অবো বরেণ্যম্।।৪।।

অর্থঃ- (৪৮) অগ্নি দ্যুলোকাগ্নির মধ্যে প্রধান, আকাশে মেঘের মধ্যে জলের সাথে বর্তমান। হে ব্রহ্মের পালক অগ্নি, প্রাণবায়ু মরুদগণের কাছে বর্ষমিরূপ বরণীয় পালন ঋক্ মন্ত্রের দ্বারা যাচ্ঞা করি।

মন্ত্রঃ- (৪৯) অগ্নিমীড়িম্বাবসে গাথাভিঃ শীরশোচিষম্। অগ্নিং রায়ে পুরুমীঢ় শ্রুতং নরোহগ্নিঃ সুদীহয়ে ছর্দিঃ॥৫॥

অর্থঃ- (৪৯) যে পুরুমীঢ়, তেনু আত্মরক্ষার জন্য পবিত্র শিখা অগ্নিকে গাথাদ্বারা স্তর কর, খ্যাত অগ্নিকে ধনের জন্য স্তব কর, সুদীতির জন্য কামনা কর, অন্য লোকেও এইভাবে অগ্নিকে স্তব কর।

মন্ত্রঃ- (৫০) শ্রুধি শ্রুৎকর্ণ বহ্নিভি-র্দেবৈরগ্নে সয়াবভিঃ। আসীদতু বর্হিষি মিত্রো অর্যমা প্রাতর্যাবভিরধ্বরে॥৬॥

অর্থঃ- (৫০) শোন হে অগ্নি, হে শ্রবণসমর্থ, আমার বচন; যে দেবেরা তোমার সঙ্গে হব্য বহন করেন তাঁদের নিয়ে এবং মিত্র অর্যমা ও প্রাতর্যাগে আগমনকারী অন্যদেবতাদের সঙ্গে নিয়ে এই অহিংসিত যজ্ঞে এসে যজ্ঞাসনে বোসো।

মন্ত্রঃ- (৫১) প্রে দৈবদাসো অগ্নির্দেব ইন্দ্রো ন মজ্‌মনা। অনু মাতরং পৃথিবীং বি বাবৃতে তস্থৈ নাদন্য শর্মণি॥৭॥

অর্থঃ- (৫১) ইন্দ্রের মত বলবান দৈবকর্মা অগ্নিদেব মাতা পৃথিবীকে আবৃত করে দ্যুলোকের আশ্রয়ে অবস্থিত থাকেন।

মন্ত্রঃ- (৫২) অধ জূমো অধ বা দিবো বৃহতো রোচনাদধি। অয়া বর্ধস্ব তন্বা গিরা মমা জাতা সুক্রতো পৃণ॥৮॥

অর্থঃ- (৫২) পৃথিবী হতে, দ্যুলোক হতে, অথবা বিশাল আলোকলোক হতে এস হে, সুক্রতু (সুকর্মা), আমার স্তুতিতে বেড়ে ওঠ, আমার সন্তানদের কামনা পূর্ণ কর।

মন্ত্রঃ- (৫৩) কায়মানো বনা ত্বং যন্মাতুরঞ্জগন্নপঃ। ন তত্তে অগ্নে প্রমৃষে নিবর্তনং যদ্ দূরে সন্নিথা ভুবঃ॥৯॥

অর্থঃ- (৫৩) হে অগ্নি, যখন তোমার নিজের উৎপত্তিস্থান বনকাষ্ঠমধ্যে ও সকলজীবের স্রষ্টা জলরাশিকে কামনা করে তাদের মধ্যে প্রবেশ কর তখন তুমি চিরতরে হারিয়ে যাও না তুমি আমাদের থেকে দূরে গেলেও আবার ফিরে আস।

মন্ত্রঃ- (৫৪) মি ত্বামগ্নে মনূর্দধে জ্যোতির্জনায় শশ্বতে। দীদেথ কণ্ব ঋতজাত উক্ষিতো যং নমস্যন্তি কৃষ্টয়ঃ॥১০॥

অর্থঃ- (৫৪) জ্যোতিস্বরূপ্ তোমাকে হে অগ্নি, মানুষের হিতের জন্য সূর্যদেব সদাই ধারণ করেন; মেধাবী সত্যজাত সদা বর্ধমান তুমি দীপ্তিলাভ কর, যে তোমাকে মানুষেরা নমস্কার জানায়।

সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি

সপ্তম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতা অগ্নি

মন্ত্রের ছন্দঃ

ছন্দ ১।৩, ৫-৯ ত্রিষ্টুপ, ২।৪ জগতী ১০ ত্রিপাদ্ বিরাট্ গায়ত্রী ॥

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ শ্যাবাশ্ব আত্রেয় বা বামদেব গৌতম;
২ উপস্তুত বার্ষ্টিহব্য;
৩ বৃহদুকথ্ বামদেব্য;
৪ কুৎস আঙ্গিরস;
৫।৬ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য;
৭ বামদেব গৌতম;
৮।১০ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি;
৯ ত্রিশিরা ত্বাষ্ট্র॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ- (৬৩) আ জুহোতা হবিষা মর্জয়ধ্বং নি হোতারং গৃহপতিং দধিধ্বম্। ইডস্পদে নমসা রাতহবাং সপর্যতা যজতং পস্ত্যানাম ॥১॥

অর্থ : (৬৩) তাঁর উদ্দেশে নিবেদন কর, হোতাকে প্রশংসিত কর, গৃহপতিকে অন্তরে ধারণ কর; সকল গৃহের উপাস্যকে স্তুতি দ্বারা, যজ্ঞভূমিতে সেই হব্যগ্রহণকারীকে পূজার দ্বারা প্রীত কর।

মন্ত্র (৬৪) চিত্র ইচ্ছিশোস্তরুণস্য বক্ষথো ন যো মাতরাবন্বেতি ধাতবে। অনূধা যদজীজনদধা চিদা ববক্ষ সদ্যো মহি দূত্যাংত চরন্॥২॥

অর্থ (৬৪): এই শিশুর এই তরুণের কাজ বড়ই বিচিত্র। এ স্তন্যপানের জন্য মায়ের কাছে যায় না। এর মাতার (-অরণি কাষ্ঠ যা থেকে অগ্নি উৎপন্ন) স্তন নেই, তবু এ জন্মমাত্রই মহান দেবদৌত্যকার্যের ভার গ্রহণ করলো॥

মন্ত্র (৬৫) ইদং ত একং পর উ ত একং তৃতীয়েন জ্যোতিষা সং বিশস্ব। সংবেশনস্তন্বেতচারুরেধি প্রিয়ো দেবানাং পরমে জনিত্রে॥৩॥

অর্থ (৬৫): হে অগ্নি, এই পার্থিব অগ্নি তোমার একরূপ, অন্তরিক্ষে বিদ্যুৎ তোমার আর এক রূপ, আর দ্যুলোকে সুর্যরূপ জ্যোতির্ময় তোমার শরীর তৃতীয়রূপ – এ তিন রূপে তুমি সকল কিছুর মধ্যে প্রবেশ কর। তারপর তুমি কল্যাণরূপ ধারণ করে দেবশ্রেষ্ঠ পরমপিতা সূর্যদেবের প্রিয় হও॥

মন্ত্র (৬৬) ইমং স্তোমমর্হতে জাতবেদসে রথমিব নং মহেমা মনীষয়া। ভদ্রা হি নঃ প্রমতিরস্য সংসদ্যগ্নে সখ্যে মা রিষামা বয়ং তব॥৪॥

অর্থ (৬৬) : সুর্যসমান পূজনীয় সর্বজ্ঞান অগ্নির উদ্দেশে প্রজ্ঞার দ্বারা এই স্তুতি রচনা করি। অগ্নির উপাসনায় আমাদের বুদ্ধি হোক কল্যাণময়ী। হে অগ্নি, আমরা তোমার সখা হলে কেউ হিংসা করতে পারবে না॥

মন্ত্র (৬৭) মূর্ধানং দিবো অরতিং পৃথিব্যা বৈশ্বানরমৃত আ জাতমগ্নিম্। কবিং সম্রাজমতিথিং জনানামাসন্নঃ পাত্রং জনয়স্ত দেবাঃ॥৫॥

অর্থ (৬৭) দ্যুলোকের মস্তক, পৃথিবীর শাসক, বিশ্বনায়ক, সৎকর্মের প্রকাশক, কবি, সম্রাট, অতিথির ন্যায় পূজ্য, জনগণের মুখপাত্র অগ্নিদেবকে দেবগণ (-রশ্মিগণ) প্রকাশিত করেন॥

মন্ত্র (৬৮) বি ত্বদাপো ন পর্বতস্য পৃষ্ঠাদুকথেভিরগ্নে জনয়স্ত দেবাঃ। তং ত্বা গিরঃ সুষ্টুতয়ো বাজয়ন্ত্যাজিং ন গির্ববাহো জিগ্যুরশ্বাঃ॥৬॥

অর্থ (৬৮) বারিধারা যেমন পর্বতপৃষ্ঠকে সিক্ত করে সেরূপ হে অগ্নি, দেবতুল্য মানুষেরা তোমাকে সামগানে স্নান করান। হে স্তুতিবাহন, অশ্ব যেমন পথকে ব্যাপ্ত করে, সেই সুন্দর স্তুতিও তেমনি তোমাকে উজ্জ্বলরূপে ব্যাপ্ত করুক॥

মন্ত্র (৬৯) আ বো রাজানমধ্বরস্য রুদ্রং হোতারং সত্যযজং রোদস্যোঃ। অগ্নিং পুরা তনয়িত্নোরচিত্তাদ্ধিরণ্যরূপমবসে কৃণুধ্বম্॥৭॥

অর্থ (৬৯) যজ্ঞের রাজা, রুদ্ররূপ, হোতা, দ্যুলোক-ভূলোকের সৎকর্মা, আদি অজ্ঞেয় মহানাদধ্বনি হতে হিরণ্যরূপে জাত অগ্নিকে তোমাদের রক্ষার জন্য উপাসনা কর॥

মন্ত্র (৭০) ইন্ধে রাজা সমর্যো নমোভির্যস্য প্রতীকমাহুতং ঘৃতেন। নরো হব্যেভিরীডতে সবাধ আগ্নিরগ্রমুষসামশোচি॥৮॥

অর্থ (৭০) রাজা, ঈশ্বর স্তবের দ্বারা সম্যক্ দীপ্ত, যাঁর পূর্ণদর্শন ঘৃতের দ্বারা সংবর্ধিত, মানুষেরা আগ্রহের সঙ্গে হবির দ্বারা তাঁকে পূজা করে; অগ্নিদেব ঊষার আগে দীপ্তি লাভ করতে চলেছেন; কাছের আকাশ দূরের আকাশ তিনি ছেয়ে ফেললেন; জলের আধার আকাশে মহান বিদ্যুৎরূপে তিনি বর্ধিত হলেন॥

মন্ত্র (৭১) প্র কেতুনা যাত্যগ্নিরা রোদসী বৃষভো রোরবীতি। দিবশ্চিদন্তাদুপমামুদানডপামুপস্থে মহিষো ববর্ধ ॥৯॥

অর্থ (৭১) : বিশাল পতাকা উড়িয়ে অগ্নিদেব দ্যুলোক ভূলোক জুড়ে বৃষের মত শব্দ করতে করতে চলেছেন; কাছের আকাশ দূরের আকাশ তিনি ছেয়ে ফেললেন; জলের আধার আকাশে মহান বিদ্যুৎরূপে তিনি বর্ধিত হলেন ॥

মন্ত্র (৭২) অগ্নিং নরো দীধিতিভীররণ্যোর্হস্তচ্যুতং জনয়ত প্রশস্তম্। দূরেদৃশং গৃহপতিমথব্যুম্।।১০।।

অর্থ (৭২) যিনি প্রশস্ত, দূরে দৃশ্যমান, গৃহপতি, দেবগণের উদ্দেশ্যে গমনশীল, সেই অগ্নিকে মানুষেরা আঙ্গুলের সাহায্যে অরণিকাষ্ঠ থেকে উৎপন্ন করেন (-প্রজ্জ্বালিত করেন)॥

সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি

অষ্টম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৮

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতা অগ্নি; ৩ পূষা

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ত্রিষ্টুপ

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ আগ্নেয় বুধ ও গবিষ্টির,
২।৫ ভালদ্দন বৎসপ্রি;
৩ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য,
৪।৭ গাথি বিশ্বামিত্র,
৬ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি,
৮ পায়ু ভারদ্বাজ॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (৭৩) অবোধ্যগ্নিঃ সমিধা জনানাং প্রতি ধেনুমিবায়তীমুষাসম্। যহ্বা ইহ প্র বয়ামুজ্জিহানাঃ প্র ভানবঃ সস্রতে নাকমচ্ছ ॥ ১॥

অর্থ (৭৩) ঊষাকালে দুগ্ধদাত্রী গাভীগণ যেমন মানুষের কাছে যায় অগ্নিও সেরূপ সমিধকাঠে প্রজ্জ্বালিত হন। তাঁর সেই মহান্ শিখাগুলি শাখাবিস্তারকারী বৃক্ষের মত দ্যুলোকের পানে ছুটে চলে।

মন্ত্র (৭৪) প্র ভূর্জয়ন্তং মহাং বিপোধাং মূরৈরমূরং পুরাং দর্মাণম্। নয়ন্তং গীর্ভির্বনা ধিয়ং ধা হরিশ্মশ্রুং ন বর্মণা ধনর্চিম্ ॥ ২॥

অর্থ (৭৪) ভুবনজয়ী, প্রাণদ, মূঢের মত দৃষ্ট অথচ অবাধজ্ঞানসম্পন্ন, পুরনাশক, বেদবাণীর দ্বারা ভজনীয়, সর্বকর্মধারক শ্মশ্রুর মত উজ্জ্বল সুবর্ণশিখারূপ বর্মের দ্বারা আবৃত অগ্নিকে উত্তমরূপে স্তব কর।

মন্ত্র (৭৫) শুক্রং তে অন্যদ্যজতং তে অন্যদ্বিষুরূপে অহনী দ্যৌরিবাসি। বিশ্বা হি মায়া অবসি স্বধাবন্ ভত্রা তে পুষন্নিহ রাতিবস্তু ॥ ৩॥

অর্থ (৭৫) সে উদিতভানু পূষারূপী অগ্নি, তোমার এই যে লোহিতবর্ণ এ তোমার এক রূপ, আর যজ্ঞযোগ্য পূজনীয় তোমার যে রূপ তা অন্য; দিন ও রাত্রি সৃষ্টিরূপ কর্মের দ্বারা তুমি অন্তরিক্ষের মত বিশ্বব্যাপী। যে নিয়ন্তা, এই বিশ্বমায়ার তুমিই পালক; হে পূষা, তোমার এই দান কল্যাণময় হোক॥

মন্ত্র (৭৬) ইড়ামগ্নে পুরুদংসং সনিং গোঃ শশ্বত্তমং হবমানায় সাধ। স্যান্নঃ সূনুস্তনয়ো বিজাবাগ্নে সা তে সুমতির্ভূত্বস্মে ॥ ৪॥

অর্থ (৭৬) হে অগ্নি, তোমার উপাসকের জন্য বহুকর্মযুক্ত ধন ও শাশ্বতী বেদবাণী তুমি দিয়ে থাক। হে অগ্নি, আমাদের এমন পুত্র দাও যার থেকে বংশ বিস্তার হবে আর তোমার কল্যাণ আমাদের ওপর বর্ষিত হবে।

মন্ত্র (৭৭) প্র হোতা জাতো মহান্নভো বিন্নৃষদ্মা সীদদপাং বিবর্তে। দধদ্যো ধায়ী সু তে বয়াংসি যন্তা বসূনি বিধতে তনূপাঃ ॥ ৫॥

অর্থ (৭৭) অগ্নি মহান্ হয়ে হোতারূপে জাত হলেন, মানুষের মধ্যে নিবাস করলেন, জলের মধ্যে অবস্থান করলেন॥ ওই মহাশূন্যে জন্মলাভ করে সকল কিছুই তিনি জানলেন আর সকল জীব ও ধনসম্পদের নিয়ামক হলেন॥

মন্ত্র (৭৮) প্র সম্রাজমসুরস্য প্রশস্তয়ং পুংসঃ কৃষ্টীনামনুমাদ্যস্য। ইন্দ্রস্যেব প্র তবসস্কৃতানি বদ্দদ্বারা বন্দমানা বিবষ্টু॥ ৬॥

অর্থ (৭৮) প্রাণের দীপ্ত আধার, প্রশস্ত পৌরুষযুক্ত মানুষের পূজ্য, ইন্দ্রের মত বলশালী সেই প্রথমজাতকে স্তুতিদ্বারা বন্দনা কর॥

মন্ত্র (৭৯) অরণ্যোর্নিহিতো জাতবেদ্য গর্ভ ইবেৎসুভৃতো গর্ভিণীভিঃ। দিবেদিব ঈড্যো জাগৃবদ্ভির্হবিষ্মিদ্ভির্মনুষো-ভিরগ্নিঃ ॥ ৭॥

অর্থ (৭৯) গর্ভিণীর গর্ভে সুরক্ষিত ভাবে অবস্থিত প্রাণের মত দুই অরুণি কাঠের মধ্যে নিহিত আছেন জাতবেদা অগ্নি। যাঁরা নিজকর্মে সচেতন সেই হবির দাতা নরকূলে অগ্নি প্রতিদিন পূজিত।।

মন্ত্র (৮০) সনাদগ্নে মৃণসি যাতুধানান্ন ত্বা রক্ষাংসি পৃতনাসু জিণ্ড্যঃ। অনুদহ সহমূরান্ কয়াদো মা তে হেত্যা মুক্ষত দৈব্যায়াঃ॥ ৮॥

অর্থ (৮০) হে অগ্নি, যাদের হাত দুই অরণি কাঠের মধ্য মধ্য নিহিত আছেন জাতবেদা অগ্নি। যাঁরা, যাদের হাত থেকে জীবন রক্ষিতব্য তাদের ধ্বংস কর; তারা যেন তোমার ওপর জয়লাভ না করে; অপক্বমাংসভোজীগণ যেন তোমার দিব্য অস্ত্রের আঘাত থেকে মুক্তিলাভ না করে॥

সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি

নবম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতা অগ্নি

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ অনুষ্টুপ

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ গয় আত্রেয়,
২ বামদেব,
৬।৪ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য,
৫ দ্বিত মৃক্তবাহ্য আত্রেয়,
৩ অত্রিপুত্র বসুগণ,
৭।৯ গোপবন আত্রেয়,
৮ পুরু আত্রেয়,
১০ বামদেব কশ্যপ বা মারীচ অথবা বৈবস্বত মনু অথবা উভয়কৃত॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (৮১) অগ্ন ওজিষ্ঠমা ভর দ্যুম্নমষ্মভ্যমধ্রিগো। প্র নো রায়ে পনীয়সে রৎসি বাজায় পন্থাম্‌॥১॥

অর্থ (৮১) হে অগ্নি, হে সদাগমনশীল, শ্রেষ্ঠ ধন বল প্রদান কর; গূঢ় বাক্যের দ্বারা বোধগম্য আশ্চর্যকর পরমধনের জন্য পথ নির্দেশ কর॥

মন্ত্রঃ (৮২) যদি বীরো অনুষ্যাদগ্নিমিন্ধীত মর্ত্ত্যঃ । আজুহ্বধ্বব্যমানুষক্‌ শর্ম ভক্ষীত দৈব্যম্‌॥২॥

অর্থ (৮২) মরণশীল মানুষ যদি বীর্যমান হয়ে নিরন্তর অগ্নিদেবকে উপাসনা করে তবেই দিব্যসুখ ও আশ্রয় লাভ করতে পারে॥

মন্ত্রঃ (৮৩) ত্বেষস্তে ধূম ঋন্বতি দিবি সঞ্ছুক্রু আততঃ । সূরো ন দি দ্যুতা ত্বং কৃপা পাবক রোচসে॥৩॥

অর্থ (৮৩) হে পূত শুদ্ধ অগ্নি, তোমার মহান্‌ ধূম দ্যুলোকে গমন করে বারিরূপে ব্যাপ্ত হয়; তুমি নিজ সামর্থ্যে সূর্যের মত দীপ্ত হয়ে প্রকাশিত হও॥

মন্ত্রঃ (৮৪) ত্বং হি ক্ষৈতবদ্যশোহগ্নে মিত্র ন পত্যসে । ত্বং বিচর্ষণে শ্রবো পুষ্টিং ন পুষ্যতি॥৪॥

অর্থ (৮৪) হে অগ্নি, রাজপুত্রের মত কান্তি তোমার, বন্ধুর মত আবিষ্ট কর; বিশ্বদ্রষ্টা তুমি হে বহুধন, যশ, আর পুষ্টি দিয়ে আমাদের পোষণ কর॥

মন্ত্রঃ (৮৫) প্রাতরগ্নিঃ পুরুপ্রিয়ো বিশ স্তবেতাতিথিঃ । বিশ্বে যস্মিন্নমর্ত্যে হব্যং মর্তাস ইন্ধতে॥৫॥

অর্থ (৮৫) বিশ্বে যে অবিনশ্বরকে নশ্বর মানুষেরা হব্যদান ক’রে পূজা করে, তিনি জনগণের অতিথিবৎ পূজ্য, বহুপ্রিয়, প্রাতঃকালে পূজিত অগ্নিদেব॥

মন্ত্রঃ (৮৬) যদ্‌ বাহিষ্ঠং তদগ্নয়ে বৃহদর্চ বিভাবসো । মহিষীব ত্বদ্‌ রয়িস্‌ত্বদ্‌ বাজা উদীরতে॥৬॥

অর্থ (৮৬) উত্তম যে স্তব তা’ অগ্নির উদ্দেশ্যে উচ্চারিত । হে বিভাবসু, তোমা হতে বিপুল ধন ও অন্ন উৎপন্ন হয়॥

মন্ত্রঃ (৮০) বিশোবিশো বো অতিথিং বাজয়ন্তঃ পুরুপ্রিয়ম্‌ । অগ্নিং বো দুর্যং বচঃ স্তুষে শুষস্য মন্মভিঃ॥ ৭॥

অর্থ (৮৭) সকল জনের অতিথি, বহুপ্রিয় অগ্নিকে অন্নকাম মানুষ তোমাদের জন্য আমি যথাশক্তি মননের দ্বারা দূর্জ্ঞেয় বাক্যে তুষ্ট করি॥

মন্ত্রঃ (৮৮) বৃহদ বয়ো হি ভাববেহর্চা দেবায়াগ্নয়ে। যং মিত্রং ন প্রশস্তয়ে মর্তাসো দধিরে পুরঃ ॥৮॥

অর্থ (৮৮) মর্তের মানুষেরা স্তব ক’রে যে অগ্নিকে বন্ধুর মত পুরোভাগে স্থাপন করে, সেই দীপ্তশিখা অগ্নিদেবকে মহানন্দে অর্চনা কর॥

মন্ত্রঃ (৮৯) অগন্ম বৃত্রহন্তনং জ্যেষ্ঠমগ্নিমানবম্‌ বৃহদনীক ইধ্যতে॥৯॥

অর্থ (৮৯) যিনি মহান দীপ্তিতে ঋক্ষপুত্র শ্রুতর্বার কাছে প্রকাশিত হয়েছিলেন সেই প্রথমজাত, পাপনাশক, মানুষের হিতকর অগ্নিকে আমি জানি॥

মন্ত্রঃ (৯০) জাতঃ পরেণ ধর্মণা যৎ সবৃদ্ধিঃ সহাভুবঃ॥পিতা যৎ কশ্যপস্যাগ্নিঃ শ্রদ্ধা মাতা মনুঃ কবিঃ॥১০॥

অর্থ (৯০) যা উৎকৃষ্ট, পরম ধর্মজাত যা সকলের সঙ্গে মিলিত হয়ে বর্ধিত হয়, যে বিশ্বলোকের (=কশ্যপ) পালয়িতা, সেই অগ্নিই শ্রদ্ধা, মাতা, ক্রান্তদর্শী মনু॥

[কশ্যপ=একপ্রকার আলোক যা সূর্যের ভ্রমণপথকে নিয়ন্ত্রিত করে।]

সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি

দশম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৬

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১ বিশ্বদেবগণ, ২ অঙ্গিরা, ৩-৬ অগ্নি

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ অনুষ্টুপ

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ অগ্নিস্তাপস,
২।৩ বামদেব কশ্যপ বা অসিত দেবল,
৪ সোমাহুতি ভার্গব বা ভর্গাহুতি সোম

৫ পায়ু ভারদ্বাজ,
৬ প্রস্কন্ব কান্ব॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (৯১) সোমং রাজানং বরুণমগ্নিমন্বারভামহে । আদিত্যং বিষ্ণুং সূর্যং ব্রহ্মাণং চ বৃহস্পতিম্‌॥১॥

অর্থ (৯১) আমাদের রক্ষার জন্য আমরা সোমরাজাকে, বরুণ অগ্নিকে আহ্বান করি; আর আহ্বান করি আদিত্য বিষ্ণু, সুর্য, ব্রহ্মা ও বৃহস্পতিকে॥

মন্ত্র : (৯২) ইত এত উদারুহন্দিবঃ পৃষ্ঠান্যারুহন্‌। প্র ভুর্জয়ো যথা পথো দ্যামঙ্গিরসো যযুঃ। ২॥

অর্থ : (৯২) পৃথিবীবিজয়ী রাজা যে পথে দিব্যধামে গমন করেন আঙ্গিরাগণও সেই পথে দ্যুলোকে গমন করেন॥

মন্ত্র : (৯৩) রায়ে আগ্নে মহে ত্বা দানায় সমিধিমহি । ঈড়িষ্বা হি মহে বৃষন্‌ দ্যাবা হোত্রায় পৃথিবী॥৩॥

অর্থ : (৯৩) হে অগ্নি, শ্রেষ্ঠ ধনলাভের জন্য তোমাকে সন্দীপ্ত করি॥হে বর্ষণকারী, মহান্‌ আহুতিকর্মের জন্য দ্যুলোক ও ভূলোককে প্রশংসিত কর॥

মন্ত্র : (৯৪) দধন্বে বা যদীমনু বোচদ্‌ ব্রহ্মেতি বেরু তৎ । পরি বিশ্বানি কাব্যা নেমিশ্চক্রমিবাভুবৎ॥৪॥

অর্থ : (৯৪) যজ্ঞে উপাসক যে হব্য দান করেন, যে মন্ত্র উচ্চারণ করেন ব্রহ্মস্বরূপ অগ্নি তা সমস্তই জানেন॥নেমি যেমন চক্রকে ব্যাপ্ত করে বর্তমান থাকে অগ্নিও সেরূপ উপাসকের সমস্ত কর্মই ব্যাপ্ত করে আছেন॥

মন্ত্র : (৯৫) প্রত্যগ্নে হরসা হরঃ শৃণাহি বিশ্বতস্পরি । যাতুধানস্য রক্ষস্যে বলং ব্যুব্জবীর্যম্‌॥৫॥

অর্থ : (৯৫) হে অগ্নি, তোমার তেজের দ্বারা হিংসকের বল নষ্ট কর, বিঘ্নকারীর বলবীর্য ভেঙে দাও॥

মন্ত্র : (৯৬) তমগ্নে বসুঁরিহ রুদ্রাঁ আদিত্যাঁ উত।যজা স্বধ্বরং জনং মনুজাতং ঘৃতপ্রুষম্‌॥৬॥

অর্থ : (৯৬) হে অগ্নি, এই যজ্ঞে বসু, রুদ্র ও আদিত্যদের অর্চনা কর; সোভন যজ্ঞযুক্ত ও বৃষ্টিপ্রদানকারী মনুজাতদেরও ভজনা কর॥

সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি

একাদশ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ অগ্নি; ৫ পবমান সোম; ৬ অদিতি

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ঊষ্ণিক্

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ দীর্ঘতমা ঔচথা,
২।৪ গাথি বিশ্বামিত্র,
৩ গোতম রাহুগণ,
৫ ত্রিত আপ্ত্য,
৬ ইরিম্বিঠি কান্ব,
৭।৮।১০ বিশ্বমনা বৈয়শ্ব,
৮ ঋজিশ্বা ভারদ্বাজ॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্র: (৯৭) পুরু ত্বা দাশিবাং বোচেহরিরগ্নে তব স্বিদা। তোদস্যেব শরণ আ মহস্য॥১॥

অর্থ : (৯৭) হে অগ্নি, আমি তোমার উদ্দেশ্যে অনেক হব্য দান ক’রে তোমার কাছে অনেক কামনা করি। হে অগ্নি, মহান্‌ প্রভুর গৃহে যেমন সেবক থাকে, আমিও তোমার তেমনি সেবক॥

মন্ত্র: (৯৮) প্র হোত্রে পূর্ব্যং বচোহগ্নয়ে ভরতা বৃহৎ। বিপাং জ্যোতীংষি বিভ্রতে ব বেধসে॥২॥

অর্থ : (৯৮) হে নরগণ, মেধাসম্পন্নদের তেজ ধারণকারী জগৎনিয়ন্তা, দেবগণের আহ্বানকারী অগ্নিদেবের উদ্দেশে মহান সনাতন বাণী উচ্চারণ কর॥

মন্ত্র : (৯৯) অগ্নে বাজস্য গোমত ঈশানঃ সহসো যহো । অস্মে দেহি জাতবেদো মহি শ্রবঃ॥৩॥

অর্থ : (৯৯) হে অগ্নি, তুমি বলজাত, তুমি বাক্‌, বল ও অন্নের ঈশ্বর; হে জাতবেদা, আমাদের মহান প্রখ্যাত অন্ন বল দাও॥

মন্ত্র : (১০০) অগ্নে যজিষ্ঠো অধ্বরে দেবান্‌ দেবয়তে যজ। হোতা মন্দ্রো বি রাজস্যতি স্রিধঃ॥৪॥

অর্থ : (১০০) হে অগ্নি, তুমি যজ্ঞকারিগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যাজ্ঞিক, যারা দেবকাম তাদের জন্য তুমি দেবতাদের মিলিত কর; তুমি হোতা আনন্দময়, তুমি অবিশ্বাসীকে পরাভূত ক’রে বিরাজ কর।

মন্ত্র : (১০১) জজ্ঞানঃ সপ্ত মাতৃভির্মেধামাশাসত শ্রিয়ে। অয়ং ধ্রুবো রয়ীণাং চিকেতদা॥৫॥

অর্থ : (১০১) সোম যখন জন্মালেন তখন সপ্তমাতারূপিণী সপ্তছন্দ সৌন্দর্যের জন্য সোমকে ঘিরে স্তব করতে লাগলেন, কারণ তিনি সর্বজ্ঞ, আর তিনিই নিশ্চিত ধনের সন্ধান জানেন॥

মন্ত্র : (১০২) উত স্যা নো দিবা মাতরদিতিরূত্যাগমৎ॥সা শন্তানা ময়স্করদপ স্রিধঃ॥৬॥

অর্থ : (১০২) সেই অখণ্ড মননশক্তি আমাদের নিত্য রক্ষার জন্য আগমন করুন; তিনি আমাদের শান্তিকর সুখ বিধান করুন, বিঘ্ন নাশ করুন।

মন্ত্র : (১০৩) ঈদিষ্বা হি প্রতীব্যাংত যজস্ব জাতবেদসম্‌॥চরিষ্ণু ধূমমগৃভীতশোচিষম॥৭॥

অর্থ : (১০৩) যিনি বিঘ্ননাশকারী, জাতবেদা, যাঁর ধূম সর্বত্র সঞ্চারিত, যাঁর তেজ কেহ গ্রহন করতে পারে না, সেই অগ্নিকে স্তব কর, পূজা কর॥

মন্ত্র : (১০৪) ন তস্য মায়য়া চ ন রিপুরীশীত মর্ত্যঃ॥যো অগ্নয়ে দদাশ হব্যদাতয়ে॥৮॥

অর্থ : (১০৪) যিনি কর্মফলদাতা অগ্নির উদ্দেশে দান করেন তার শত্রু কোন প্রকার মায়াদ্বারা তার কোন ক্ষতি করতে পারে না॥

মন্ত্র : (১০৫) অপ ত্যং বৃজিনং রিপুং স্তেনমগ্নে দুরাধ্যম্‌॥দবিশ্বমস্য সয়পতে কৃধী সুগম্‌॥৯॥

অর্থ : (১০৫) হে অগ্নি, সেই কুটিলপথগামীকে, শত্রুকে, চোরকে, দারিদ্র্যকে নাশ কর। হে সজ্জনপালক, এই সমস্ত দূর ক’রে আমাদের সুপথগামী কর।

মন্ত্র : (১০৬) শ্রুষ্ট্যগ্নে নবস্য মে স্তোমস্য বীর বিশ্‌পতে॥নি মায়িনস্তপসা রক্ষস্যে দহ॥১০॥

অর্থ : (১০৬) হে বীর, হে জনগণপালক, আমার এই নতুন স্ত্রোত্র শুনে মায়াসৃষ্টিকারী বিঘ্নকারক শক্তিকে তোমার তপের তাপে দহন কর॥

সামবেদ - ১ম অধ্যায় আগ্নেয় কাণ্ডঃ অগ্নিস্তুতি

দ্বাদশ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৮

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতা অগ্নি

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ১-৭, ককূপ, ৮ ঊষ্ণিক

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৪ প্রয়োগ ভার্গব অথবা সৌভরি কান্ব,
২।৩।৫।৬।৭ সৌভরি কান্ব, ৮ বিশ্বমনা বৈয়শ্ব॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্র: (১০৭) প্র মংহিষ্ঠায় গায়ত ঋতাব্নে বৃহতে শুক্রশোচিষে। উপস্তুতাসো অগ্নয়ে॥১॥

অর্থ : (১০৭) হে স্তোতাগণ, তোমরা শ্রেষ্ঠদাতা, সত্যধর্মা, মহান, পবিত্র দীপ্তিময় অগ্নির উদ্দেশে গান কর॥

মন্ত্র: (১০৮) প্র সো অগ্নে তবোতিভিঃ সুবীরাভিস্তরতি বাজকর্মভিঃ । যস্য ত্বং সখ্যমাবিথ॥২॥

অর্থ : (১০৮) হে অগ্নি, তুমি যাকে সখা কর সে তোমার দেওয়া উত্তম বল ও অন্নদ্বারা সকল বিঘ্ন অতিক্রম করে॥

মন্ত্র: (১০৯) তং গূর্ধয়া স্বর্ণরং দেবাসো দেবমরতিং দধন্বিরে। দেবত্রা হব্যমুহিষে॥৩॥

অর্থ : (১০৯) হে স্তোতা, যিনি দ্যুলোকে হব্য নিয়ে যান সেই প্রসিদ্ধ অগ্নির স্তব কর; বিদ্বান্‌গণ তাঁরই কাছে গমন করেন এবং তাঁর মাধ্যমে দেবগণকে হব্য প্রদান করেন॥

মন্ত্র: (১১০) মা নো হৃণীথা অতিথিং বসুরগ্নিঃ পুরুপ্রশস্ত এষঃ। যঃ সুহোভা স্বধ্বরঃ॥৪॥

অর্থ : (১১০) যিনি দেবগণের উত্তম আহ্বানকারী, যিনি সুযাজ্ঞিক সেই অতিপ্রশস্ত ধনপ্রদ অতিথি অগ্নি যেন আমাদের অনাদর না করেন॥

মন্ত্র: (১১১) ভদ্রো নো অগ্নিরাহুতে ভদ্রা রাতিঃ সুভগ ভদ্রো অধ্বরঃ। ভদ্রা উত প্রশস্তয়ঃ॥৫॥

অর্থ : (১১১) সম্যক্‌ পূজিত অগ্নি আমাদের জন্য কল্যাণকর হোন; হে শোভনধন অগ্নি, তোমার দান আমাদের কল্যাণ করুক; এই অহিংসিত যজ্ঞ কল্যাণময় হোক; আমাদের স্তুতি কল্যাণকর হোক।

মন্ত্র: (১১২) যজিষ্ঠং ত্বা ববৃমহে দেবং দেবত্রা হোতারমমর্ত্যম্‌। অস্য যজ্ঞস্য সুক্রতুম্‌॥৬॥

অর্থ : (১১২) হে অগ্নি, তুমি শ্রেষ্ঠ যাজ্ঞিক, দেবগণের দেব, তুমি হোতা, তুমি অমর; এই যজ্ঞের সুকর্মা তোমাকে আমরা বরণ করি॥

মন্ত্র: (১১৩) তদগ্নে দ্যুন্মমা ভর যৎসাসাহা সদনে কঞ্চিদত্রিণম্‌। মন্যুং জনস্য দূঢ্যম্‌॥৭॥

অর্থ : (১১৩) হে অগ্নি, আমাদের সেই ধন দাও যে ধন গৃহে প্রবিষ্ট দুষ্ট বিধ্নকারীকে পরাভূত করে ও পাপবুদ্ধি ব্যক্তির ক্রোধ অভিভূত করে॥

মন্ত্র : (১১৪) যদ্বা উ বিশ্‌পতিঃ শিতঃ সুপ্রীতো মনুষো বিশে। বিশ্বেদগ্নিঃ প্রতি রক্ষাংসি সেধতি॥

অর্থ : (১১৪) জনগণের পালক তীক্ষ্ণ অগ্নি প্রীত হয়ে যখন গৃহে অবস্থান করেন তখন তিনি সকল বিঘ্ন সমূলে বিনাশ করেন॥

সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

প্রথম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র (৩য় ঋকের দেবতা অগ্নি বা হবীংষি)

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ শংযুর্বার্হস্পত্য,
২ শ্রুতকক্ষ সুকক্ষ অথবা আঙ্গিরস,
৩ হর্যত প্রাগাথ,
৪।৫ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ (৫ সুকক্ষ আঙ্গিরস),
৬ দেবজামি ইন্দ্রমাতা ঋষিকা,
৭।৮ গোষুক্তি-অশ্বসুক্তি কান্বায়ন,
৯।১০ মেধাতিথি কান্ব, আঙ্গিরস প্রিয়মেধ॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (১১৫) তদ্‌ বো গায় সুতে সচা পুরুহূতায় সত্বনে। শং যদ্‌ গবে ন শাকিনে॥১॥

অর্থ : (১১৫) হে স্তোতাগণ, গবাদি পশুর কাছে উদ্ভিদ্‌ যেমন সুখকর হয় সেরূপ সোমাভিষবে বহুলোকের বন্দনীয় সর্বশক্তিমান ইন্দ্রের সুখদায়ক স্তোত্র একত্র মিলিত হয়ে গান কর॥

মন্ত্রঃ (১১৬) যস্তে নূনং শতক্রতবিন্দ্র দ্যুম্নিতমো মদঃ ।তেন নূনং মদে মদে॥২॥

অর্থ : (১১৬) হে শতযজ্ঞকারী ইন্দ্র, পরমানন্দদায়ক সোমরস তোমার জন্য আমরা অভিষব করেছি, সেই রস পান ক’রে বারবার মত্ত হয়ে আমাদের আনন্দ দান কর॥

মন্ত্রঃ (১১৭) গাব উপ বটাবটে মহী যজ্ঞস্য রপ্‌সুদা। উভা কর্ণা হিরণ্যয়া॥৩॥

অর্থ : (১১৭) দ্যুলোক ও ভূলোক উভয়ে বাণীযুক্তা, উভয়ের শ্রবণসামর্থ্য দীপ্তিময়ী; হে দেবরশ্মিগণ, পৃথিবীতলে যক্ষক্ষেত্রে অবনমিত হও॥

মন্ত্রঃ (১১৮) অরমশ্বায় গায়ত শ্রুতকক্ষারং গবে। অরমিন্দ্রস্য ধাম্নে॥৪॥

অর্থ : (১১৮) শ্রুতকক্ষ ঋষি তেজ ও বলের জন্য গান করছেন, তিনি ইন্দ্রধাম প্রাপ্তির জন্য আকুল হয়ে গান করছেন॥

মন্ত্রঃ (১১৯) তমিন্দ্রং বাজয়ামসি মহে বৃত্রায় হন্তবে। স বৃষা বৃষভো ভূবৎ॥৫॥

অর্থ : (১১৯) বিপুলাকৃতি বৃত্রকে (=মেঘকে) বধের জন্য আমরা ইন্দ্রকে রহস্যময়বাক্যের দ্বারা স্তব করি॥সেই অভীষ্টবর্ষী ইন্দ্র আমাদের অভিলাষ পূরণ করুন॥

মন্ত্রঃ (১২০) ত্বমিন্দ্র বলাদধি সহসো জাত ওজসঃ।ত্বং সন্‌ বৃষন্‌ বৃষেদসি॥৬॥

অর্থ : (১২০) হে ইন্দ্র, তুমি তেজ ও বল হতে জন্মেছ; হে অভীষ্টবর্ষী তুমিই মনোবাঞ্ছা পূরণকর্তা॥

মন্ত্রঃ (১২১) যজ্ঞ ইন্দ্রমবর্ধয়দ্‌ যদ্‌ ভূমিং ব্যবর্তয়ৎ।চক্রাণ ওপশং দিবি॥৭॥

অর্থ : (১২১) যজ্ঞ ইন্দ্রকে বর্ধিত করেছে কারণ তিনি অন্তরিক্ষ শায়িত মেঘ থেকে বৃষ্টি প্রদান ক’রে পৃথিবীর আগর্তন রক্ষা করেছেন॥

মন্ত্রঃ (১২২) যদিন্দ্রাহং যথা ত্বমীশীয় বস্ব এক ইৎ। স্তোতা মে গোসখা স্যাৎ॥৮॥

অর্থ : (১২২) হে ইন্দ্র, তুমি যেমন একাই ধনের ঈশ্বর সেরূপ আমি ঐশ্বর্যযুক্ত হলে আমার ভক্ত ধনযুক্ত হোত॥

মন্ত্রঃ (১২৩) পন্যং পন্যমিৎ সোতার আ ধাবত মদ্যায়।সোমং বীরায় মুরায়॥৯॥

অর্থ : (১২৩) হে সোমপ্রস্তুতকারিগণ, এই আশ্চর্য সোমকে হর্ষ ও শৌর্যযুক্ত বীর ইন্দ্রের উদ্দেশে উৎসর্গের জন্য দ্রুত আগমন কর॥

মন্ত্রঃ (১২৪) ইদং বসো সুতমন্ধঃ পিবা সুপুর্ণমুদরম্‌ ।অনাভয়িন্‌ ররিমা তে॥১০॥

অর্থ : (১২৪) হে সর্বধন ইন্দ্র, উদরপূর্ণ ক’রে সোম পান কর; হে নির্ভীক, এ দান তোমার জন্য॥

সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

দ্বিতীয় খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র (৯ অগ্নি ও ইন্দ্র)

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।২ সুকক্ষ ও শ্রুতকক্ষ আঙ্গিরস,
৩ ভরদ্বাজ (ঋগ্বেদে শংযু বার্হস্পত্য),
৪ শ্রুতকক্ষ (ঋগ্বেদে সুকক্ষ আঙ্গিরস),
৫।৬ মধুছন্দা বৈশ্বামিত্র,
৭।৯।১০ ত্রিশোক কান্ব,
৮ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (১২৫) ঊদ্ধেদভি শুতামঘং বৃষভং নর্যাপসম্‌।অস্তারমেষি সূর্য॥১॥

অর্থ : (১২৫) হে সূর্য কীর্তিযুক্তধনবিশিষ্ট, অভিলাষপূরণকারী, মানুষের হিতকারী উদার পুরুষের জন্য উদিত হও॥

মন্ত্রঃ (১২৬) যদদ্য কচ্চ বৃত্রহন্নুদগা অভি সূর্য। সর্বং তদিন্দ্র তে বশে॥২॥

অর্থ : (১২৬) হে সূর্য, হে বৃত্রবধকারী, হে ইন্দ্র, আজ এই যেসব পদার্থের সামনে উদিত হয়েছ, এ সকলই তোমার বশে এসেছে॥

মন্ত্রঃ (১২৭) য আনয়ৎ পরাবতঃ সুনীতী তুর্বশং যদুম্‌। ইন্দ্রঃ স নো যুবা সখা॥৩॥

অর্থ : (১২৭) যিনি সুষ্টু নীতির দ্বারা পরিচালিত হয়ে দূরদেশ থেকে তুর্বশ ও যদুকে এনেছিলেন সেই যুবা ইন্দ্র আমাদের সখা॥[তুর্বশ=ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষযুক্ত মানুষ॥যদু=আচার্যের উপদেশে বিপথ হতে বিরত মানুষ॥(নিঘন্টু ভাষ্য)]॥

মন্ত্রঃ (১২৮) মা ন ইন্দাভ্যাত দিশঃ সূরো অক্তুম্বা যমৎ।ত্বা যুজা বনেম তৎ॥৪॥

অর্থ : (১২৮) হে ইন্দ্র, প্রবল শত্রু যেন রাত্রির অন্ধকারে চতুর্দিকে আমাদের ঘিরে না ফেলে; তোমার সহায়তায় আমরা তাদের রুখতে পারবো॥

মন্ত্রঃ (১২৯) এন্দ্র সানসিং রয়িং সজিত্বানং সদাসহম্‌।বর্ষিষ্ঠমূতয়ে ভর॥৫॥

অর্থ : (১২৯) হে ইন্দ্র, আমাদের পালনের জন্য, তুল্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে জয় করবার জন্য, নিরন্তর সেবনযোগ্য শত্রুপরাভবকারী প্রচুর ধন আন॥

মন্ত্রঃ (১৩০) ইন্দ্রং বয়ং মহাধন ইন্দ্রমর্ভে হবামহে।যুজং বৃত্রেষু বজ্রিণম্‌॥৬॥

অর্থ : (১৩০) আমরা ইন্দ্রকে প্রচুর ধনের জন্য আহ্বাব করি, আমরা ইন্দ্র অল্পধনের প্রয়োজনেও আহ্বান করি। বজ্রধারী ইন্দ্র শত্রুনিবারণে সহায়ক॥

মন্ত্রঃ (১৩১) অপিবৎ কদ্রুবঃ সুতমিন্দ্রঃ সহস্রবাহ্বে।তত্রাদদিষ্ট পৌংস্যম্‌॥৭॥

অর্থ : (১৩১) ইন্দ্রদেব অমিতবলের জন্য কলসপূর্ণ সোম পান করবেন, তার ভলে ইন্দ্রের পৌরুষ অত্যন্ত বৃদ্ধি পেল॥

মন্ত্রঃ (১৩২) বয়মিন্দ্র ত্বায়বোহভি প্র নোনুমো বৃষন্‌।বিদ্ধী ত্বাতস্য নো বসো॥৮॥

অর্থ : (১৩২) হে ইচ্ছাপূরক ইন্দ্র, তোমার কাছে কামনা ক’রে বারবার তোমার স্তব করি। হে আশ্রয়দাতা, আমাদের স্তুতি অন্তরে গ্রহণ কর॥

মন্ত্রঃ (১৩৩) আ ঘা যে অগ্নিমিন্ধতে স্তৃনন্তি বর্হিরানুষক। যেষামিন্দ্রো যুবা সখা॥৯॥

অর্থ : (১৩৩) যাঁরা অগ্নিকে সন্দীপ্ত করেন, যাঁরা মিলিতভাবে প্রসারিত করেন, যুবা ইন্দ্র তাঁদের সখা॥

সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

তৃতীয় খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র (১ মরুদ্‌গণ, ৪ বিশ্বদেবগণ; ৫ ব্রহ্মণস্পতি; ৭ সবিতা)

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ কন্ব ঘৌর,
২ ত্রিশোক কানব,
৩।৯ বৎস কান্ব,
৪ কুসীদো কান্ব,
৫ মেধাতিথি কান্ব,
৬ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস,
৭ শাবাশ্ব আত্রেয়,
৮ প্রগাথ কান্ব,
১০ ইরিম্বিঠি কান্ব॥

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (১৩৫) ইহেব শৃন্ব এষাং কশা হস্তেযু যদ্‌ বদান্‌।নি যামং চিত্রমৃঞ্জতে॥১॥

অর্থ: (১৩৫) মরুদ্‌দেবগণের হাতের চাবুকে শন্‌শন্‌ শব্দ শুনতে পাচ্ছি; সে শব্দ (বৃত্রের সঙ্গে) যুদ্ধকে মাতিয়ে তোলে। (মরৎ=বায়ু॥কশা=শব্দ)॥

মন্ত্রঃ (১৩৬) ইম উ ত্বা বি চক্ষতে সখায় ইন্দ্র সোমিনঃ।পুষ্টাবন্তো যথা পশুম্‌॥২॥

অর্থ: (১৩৬) পশুপালক পশুর দিকে যেমন তাকিয়ে থাকে সেরূপ হে ইন্দ্র, সোমপ্রস্তুতকারী সখারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে॥

মন্ত্রঃ (১৩৭) সমস্য মন্যবে বিশ বিশ্বা নমস্ত কৃষ্টয়ঃ।সমুদ্রায়েব সিন্ধবঃ॥৩॥

অর্থ: (১৩৭) বিশাল সমুদ্র অভিমুখে যেমন নদ-নদী ধাবিত হয় তেমনি বিশ্বের সকল মানুষ তাঁর দীপ্ততেজোরাশির জন্য তাঁকে প্রণাম করে॥

মন্ত্রঃ (১৩৮) দেবানামিদবো মহৎ তদা বৃণীমহে বয়ম্‌।বৃষ্ণামস্মভ্য মূতয়ে॥৪॥

অর্থ: (১৩৮) আমাদের রক্ষার জন্য কামবর্ষী দেবগণ সেই মহাপালন আমরা বরণ করি॥

মন্ত্রঃ (১৩৯) সোমানাং স্বরণং কৃণুহি ব্রহ্মণস্পতে।কক্ষীবন্তং য ঔশিজঃ॥৫॥

অর্থ: (১৩৯) হে ব্রহ্মণস্পতি, ঊশিজপুত্র কক্ষীবানের মত সোমপ্রাস্তুতকারী আমাকে প্রখ্যাত কর॥

মন্ত্রঃ (১৪০) বোধন্মনা ইদস্তু নো বৃত্রহা ভূর্যাসুতি॥শৃণোতু শক্র আশিষম্‌॥৬॥

অর্থ: (১৪০) বহুসোম যাঁর জন্য প্রস্তুত হয় সেই বৃত্রহন্তা ইন্দ্রদেব আমাদের অভিলাষ জানুন, আমাদের স্তব শুনুন॥

মন্ত্রঃ (১৪১) অদ্য নো দেব সবিতঃ প্রজাবৎ সাবীঃ সৌভগম্‌।পরা দুঃষ্বপ্ন্যং সুব॥৭॥

অর্থ: (১৪১) হে সবিতাদেব, আজ আমাদের সন্তান সৌভাগ্য দাও; আমাদের দুঃস্বপ্ন দূর কর॥

মন্ত্রঃ (১৪২) কৃতস্য বৃষভো যুবা তুবিগ্রীবো অনানতঃ।ব্রহ্মা কন্তং সপর্যতি॥৮॥

অর্থ: (১৪২) সেই কামবর্ষী চিরতরুণ, বিশালগ্রীব, অনমনীয় ইন্দ্র কোথায়? সেই ব্রহ্মরূপী ইন্দ্রকে কে পরিচর্যা করছে?

মন্ত্রঃ (১৪৩) উপহ্বরে গিরীণা সঙ্গমে চ নদীনাম্‌।ধিয়া বিপ্রো অজায়ত॥৯॥

অর্থ: (১৪৩) পর্বতপ্রান্তে, নদীসঙ্গমে যজ্ঞকর্মের দ্বারা ইন্দ্র জন্মলাভ করেন॥

মন্ত্রঃ (১৪৪) প্র সম্রাজং চর্ষণীনামিন্দ্রং স্তোতা নব্যং গীর্ভিঃ।নরং বৃষাহং মংহিষ্ঠম্‌॥১০॥

অর্থ: (১৪৪) মানুষের সম্রাট, নেতা, শত্রুপরাভবকারী, অতিদাতা ইন্দ্রকে নতুন মন্ত্রে স্তব কর॥

সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

চতুর্থ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র (৪ ইন্দ্র ও পূষা)

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস,
২ মেধাতিথি কান্ব (ঋগ্বেদ শংযু বার্হস্পত্য),
৩ গোতম রাহুগণ,
৪ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য,
৫ বিন্দু বা পূতদক্ষ অঙ্গিরস,
৬।৭ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস,
৮ বৎস কান্ব,
৯ শুনঃশেপ আজীগর্তি,
১০ শুনঃশেপ আজীগর্তি বা বামদেব।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ

(১৪৫) অপাদু শিপ্র্যন্ধসঃ সুদক্ষস্য প্রহোষিণঃ। ইন্দোরিন্দ্রো যবাশিরঃ।।১।।

(১৪৬) ইমা উ ত্বা পুরূবসোহভি প্র নোনুবুর্গিরঃ। গাবো বৎসং ন ধেনবঃ।।২।।

(১৪৭) অত্রাহ গোরমন্বত নাম ত্বষ্টুরপীচ্যম। ইত্থা চন্দ্রমসো গৃহে।।৩।।

(১৪৮) যদিন্দ্রো অনয়দ্রিতো মহীরপো বষন্তমঃ। তত্র পূষা ভবৎ সচা।।৪।।

(১৪৯) গৌর্ধয়তি মরুতাং শ্রবস্যুর্মাতা মঘোনাম্‌। যুক্তা বহ্নী রথানাম্‌।।৫।।

(১৫০) উপ নো হরিতিঃ সুতং যাহি মদানাং পতে। উপ নো হরিভিঃ সুতম্‌।।৬।।

(১৫১) ইষ্টা হোত্রা অসৃক্ষতেন্দ্রং বৃধন্তো অধ্বরে। অচ্ছাবভৃথমোজসা।।৭।।

(১৫২) অহমিদ্ধি পিতুস্পরি মেধামৃতস্য জগ্রহ। অহং সূর্য ইবাজনি।।৮।।

(১৫৩) রেবতীর্নঃ সধমাদ ইন্দ্রে সন্তু তুবিবাজাঃ। ক্ষুমন্তো যাভির্মদেম।।৯।।

(১৫৪) সোমঃ পূষা চ চেতুতুর্বিশ্বাসাং সুক্ষিতীনাম্‌ দেবত্রা রথ্যোর্হিতা।।১০।।

অনুবাদঃ

(১৪৫) জল বর্ষণের দ্বারা অন্নদাতা ইন্দ্র নিপুণ যজ্ঞকারীর যবমিশ্রিত সোমরস তৃপ্তির সঙ্গে পান করেন।।

(১৪৬) হে বহুজনের আশ্রয়দাতা ইন্দ্র, গোবৎসের প্রতি ধেনুগণ যেমন গমন করে সেরূপ আমাদের এই স্তুতিসকল তোমা অভিমুখে গমন ক’রে।।

(১৪৭) সুর্যমন্ডল হতে স্নিগ্ধরশ্মি যে চন্দ্রমন্ডলে প্রবিষ্ট হয় তা’ ইন্দ্র জানেন।।

(১৪৮) অতি বর্ষণকারী ইন্দ্র যখন ঋতকর্মের দ্বারা মহান বারিরাশিকে প্রেরণ করেন তখন পূষারূপী সূর্য তাঁর সহায়ক হন।।

(১৪৯) বহুধনের স্রষ্টা, যশ ও অন্নের নির্মাতা মাতৃরূপী ইন্দ্র (বর্ষণ ইচ্ছা ক’রে) মরুৎ বায়ুদের সোম পান করাচ্ছেন, তাঁর গমনপথে রশ্মিসমূহকে যুক্ত করছেন।।

(১৫০) হে আনন্দের দেবতা, তোমার রশ্মিরূপ অশ্বের সহায়তায় আমাদের এই সোমযাগে এস, আমাদের এই সোমযাগে এস।।

(১৫১) যজ্ঞের বগৃধি কামনা করে যজ্ঞকামী হোতাগনো ইন্দ্রের উদ্দেশে আহুতি উৎসর্গ করলেন; যজ্ঞান্তে অবগাহন স্নানের জন্য গমন করলেন।

(১৫২) আমিই যজ্ঞের দ্বারা সত্য ও অন্নের অনুগ্রহ লাভ করেছি।। আমি সূর্যের মত প্রকাশিত।।

(১৫৩) সোম মত্ত ইন্দ্রে হোও আমাদের জন্য প্রচুর অন্ন ও জল, যে অন্ন-জলে অন্নবান হয় আমরা হৃষ্ট হবো।।

(১৫৪) সোম ও পূষা বিশ্বের সকল পদার্থকে জানুন, যাঁরা দেবরশ্মিগণের সঙ্গে রথে যোজিত।।

সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

পঞ্চম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৪ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস,
২ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি,
৩ মেধাতিথি কান্ব, প্রিয়মেধ আঙ্গিরস,
৫ ইরিম্বিঠি কান্ব,
৬।১০ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র,
৭ ত্রিশোক কান্ব,
৮ কুসীদী কান্ব,
৯ শুনঃশেপ আজীগর্তি।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ

(১৫৫) পান্তমা বো অন্ধস ইন্দ্রমভি প্র গায়ত। বিশ্বাসাহং শতক্রতুং মংহিষ্ঠং চর্ষণীনাম্‌।।১।।

(১৫৬) প্র ব ইন্দ্রায় মাদনং হর্যশ্বায় গায়ত। সখায়ঃ সোমপাব্‌নে।।২।।

(১৫৭) বয়মু ত্বা তদিদর্থা ইন্দ্র ত্বায়ন্তা সখায়ঃ। কন্বা উক্‌থেভির্জরন্তে।।৩।।

(১৫৮) ইন্দ্রায় মদ্ধনে সুতং পরি ষ্টোভন্তু নো গিরঃ। অর্কমর্চন্তু কারবঃ।।৪।।

(১৫৯) অয়ং ত ইন্দ্র সোমো নিপূতো অধি বর্হিষি। এহীমস্য দ্রবা পিব।।৫।।

(১৬০) সুরূপকৃৎনুমূতয়ে সুদুঘামিব গোদুহে। জুহূমসি দ্যবিদ্যবি।।৬।।

(১৬১) অভি ত্বা বৃষভা সুতং সৃজামি পীতয়ে। তৃস্পা ব্যশ্মহী মদম্‌।।৭।।

(১৬২) য ইন্দ্র চমসেম্বা সোমশ্চমূষু তে সুতঃ। পিবেদস্য ত্বমীশিষে।।৮।।

(১৬৩) যোগেযোগে তবস্তরং বাজেবাজে হবামহে। সখায় ইন্দ্রমূতয়ে।।৯।।

(১৬৪) আ ত্বেতা নি ষীদতেন্দ্রমভি প্র গায়ত। সখায়ঃ স্তোমবাহসঃ।।১০।।

অনুবাদঃ

(১৫৫) তোমাদের মঙ্গলের জন্য ইন্দ্রের উদ্দেশে পানযোগ্য সোমরস নিবেদন করে’ গান কর; তিনি বিশ্বজিৎ, শতকর্মা, মানুষের শ্রেষ্ঠদাতা।।

(১৫৬) হে সখাগণ, হরিতবর্ণ রশ্মিযুক্ত (=হর্ষশ্ব); সোমপায়ী (=জলরাশির পালক), ইন্দ্রের উদ্দেশে আনন্দজনক গান গাও।।

(১৫৭) হে ইন্দ্র, আমরা তোমার সখা, তোমাকেই কামনা করি। আমরা কন্বের সন্তান (অথবা বিপ্রগণ) তোমাকে মন্ত্রমালায় স্তুতি করি।।

(১৫৮) ইন্দ্রের উদ্দেশে যে মদকর সোম তাকে ঘিরে আমাদের গান হোক; গায়কেরা সোমকে অর্চনা করুন।।

(১৫৯) হে ইন্দ্র, কুশের উপরে যে পূত সোম রয়েছে তা তোমার জন্য; এখন এস, ওই সোম পান কর।।

(১৬০) পয়স্বিনী গাভীকে দোহনের জন্য দোহনকারী যেমন ডাকে আমরাও তেমনি সুকর্ম ইন্দ্রকে ডাকি আমাদের রক্ষার জন্য।।

(১৬১) হে অভীষ্টবর্ষী ইন্দ্র, সোম প্রস্তুত হলে তোমার পানের জন্য তা’ উৎসর্গ করি; সেই মদকর সোম পান করে’ তৃপ্ত হও।।

(১৬২) হে ইন্দ্র, তোমার জন্য সোম চমসে ও চমূ পাত্রে আছে। তুমি তা’ পান করে প্রভুত্ব কর।।

(১৬৩) আমরা ইন্দ্রের সখা, আমাদের রক্ষার জন্য অতি মহান ইন্দ্রকে প্রত্যেক কর্ম কৌশলে, প্রত্যেক জ্ঞানকর্মে আহ্বান করি।।

(১৬৪) হে সামগানকারী সখাগণ, এস, শীঘ্র এস, উপবেশন কর। ইন্দ্রের উদ্দেশে অন্তর দিয়ে গান কর।।

সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

ষষ্ঠ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র (৭ সদসস্পতি; ১০ মরুদ্‌গণ)

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ গাথি বিশ্বমিত্র,
২ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র,
৩ কুসীদী কান্ব,
৪ প্রিয়মেধ আঙ্গিরস,
৫।৮ বামদেব গৌতমি,
৬।৯ শ্রৃবক্ষ বা সুবক্ষ আঙ্গিরস,
৭ মেধাতিথি কান্ব,
১০ বিন্দু বা পূতদক্ষ আঙ্গিরস।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ

(১৬৫) ইদং হ্যন্বোজসা সুতং রাধানাং পতে। পিবা ত্বতস্য গির্বণ।।১।।

(১৬৬) মহাঁ ইন্দ্রঃ পুরুশ্চ নো মহিত্বমস্তু বজ্রিণে। দ্যোর্ন প্রথিনা শবঃ।।২।।

(১৬৭) আ তূ ন ইন্দ্র ক্ষুমন্তং চিত্রং গ্রাভং সং গৃভায়। মহাহস্তী দক্ষিণেন।।৩।।

(১৬৮) অভি প্র গোপতিং গিরেন্দ্রমর্চ যথা বিদে। সূনুংসত্যস্য সৎপতিম্‌।।৪।।

(১৬৯) কয়া নশ্চিত্র আভুবদুতী সদাবৃধঃ সখা। কয়া শচিষ্ঠয়া বৃতা।।৫।।

(১৭০) ত্যমু বঃ সত্রাসাহং বিশ্বাষু গীর্ম্বাষতম্‌। আ চ্যাবয়স্তূতয়ে।।৬।।

(১৭১) সদসস্পতিমদ ভূতং প্রিয়মিন্দ্রস্য কাম্যম্‌। সনিং মেধামযাসিষম্‌।।৭।।

(১৭২) যে তে পন্থা আধো দিবো যেভির্ব্যশ্বমৈরয়ঃ উত শ্রোষন্তু নো ভুবঃ।।৮।।

(১৭৩) ভদ্রং ভদ্রং ন আ ভরেষমুর্জং শতক্রতো। যদিন্দ্র মৃড়য়াসি নঃ।।৯।।

(১৭৪) অস্তি সোমো অয়ং সুতঃ পিবস্ত্যস্য মরুতঃ। উত স্বরাজ্যে অশ্বিনা।।১০।।

অনুবাদঃ

(১৬৫) হে রাধাপতি (=সর্বসিদ্ধিকর ধনের অধিপতি), হে স্তুতিপ্রিয় ইন্দ্র, বলসহায়ে প্রস্তুত এই সোমরস তোমার পানের জন্য।।

(১৬৬) বজ্রী ইন্দ্রের মহত্ব হোক, বল হোক বিপুল, দ্যুলোকের মত; ইন্দ্র যে শ্রেষ্ঠ ও মহান।।

(১৬৭) এস হে ইন্দ্র, মহাহস্তবিশিষ্ট; আমাদের গ্রহণযোগ্য বিবিধ অন্নধন দানের জন্য তোমার দক্ষিণহস্ত প্রসারিত কর।।

(১৬৮) সত্যের দ্যোতক, সৎকর্মের পালক, রশ্মিসমূহের অধিপতি ইন্দ্র যাতে জানতে পারেন সেইভাবে তাঁকে স্তব কর।।

(১৬৯) সদা বর্ধমান, বিচিত্রকর্মা, সখা ইন্দ্র কোন পূজাতে আমাদের কাছে আসবেন? কোন শ্রেষ্ঠ কর্মের দ্বারা বৃত হয়ে তিনি আমাদের কাছে আসবেন?
(১৭০) সকল কিছু যিনি জয় করেন, সকল স্তোত্র যাঁকে প্রসারিত করে সেই ইন্দ্রকে তোমাদের মঙ্গলের জন্য মন্ত্র উচ্চারণ করে কাছে আন।

(১৭১) মহান ইন্দ্রের প্রিয়, সকলের কার্ম সর্বযজ্ঞাধিপতি অগ্নির কাছে ভক্তি ও প্রজ্ঞা যাচ্‌ঞা করি।।

(১৭২) যে পন্থা অবলম্বন করে তুমি দ্যুলোক থেকে অধোলোকে তোমার অশ্বরশ্মিকে প্রেরণ কর, আমাদের পৃথিবীর জন্যও তুমি সেই ভাবে তোমার কর্মে অপ্রমত্ত থাক।।

(১৭৩) হে ইন্দ্র, যখন তুমি আমাদের সুখী কর তখন হে শতকর্মা, আমাদের জন্য অন্ন বল সম্পাদন করে আমাদের সকল কিছুই ভদ্র কর।।

(১৭৪) এই সোম প্রস্তুত হয়েছে; প্রাণবায়ু মরুদ্‌গণ তা’ পান করুন; আর মহাভোজী অশ্বিদ্বয়ও (=দেশ ও কাল) পান করুন।।

সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

সপ্তম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র (৪ অশ্বিদ্ব্য, ১০ বায়ু)

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ ইন্দ্রমাতা দেবজামিগণ,
২ গোধা ঋষিকা,
৩ দধ্যঙ্‌ আথর্বণ,
৪ প্রস্কন্ব কান্ব,
৫ গোতম রাহুগণ,
৬ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র,
৭ বামদেব গৌতম,
৮ বৎস কান্ব,
৯ শুনঃশেপ আজীগর্তি,
১০ উল বাতায়ন।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (১৭৫) ঈঙ্খয়ন্তীরপস্যুব ইন্দ্রয় জাতমুপাসতে। বন্বানাসঃ সুবীর্যম্‌।।১।। (১৭৬) নকি দেবা ইনীমসি ন ক্যা যোপয়ামসি। মন্ত্রশ্রুত্যং চরামসি।।২।। (১৭৭) দোষো আগাদ্‌ বৃহদ্‌গায় দ্যুমদ্‌ গামন্নাথর্বণ। স্তুতি দেবং সবিতারম্‌।।৩।। (১৭৮) এসো ঊষা অপূর্ব্যা ব্যুচ্ছতি প্রিয়া দিবঃ। স্তুষে বামশ্বিনা বৃহৎ।।৪।। (১৭৯) ইন্দ্রো দধীচো অস্থভির্বত্রাণ্যপ্রতিমঙ্কুতঃ। জধান নবতীর্নব।।৫।। (১৮০) ইন্দ্রেহি মৎস্যন্ধসো বিশ্বেভিঃ সোমপর্বভিঃ। মহাঁ অভিষ্টিরোজসা।।৬।। (১৮১) আ তূ ন ইন্দ্র বৃত্রহন্নস্মাকমর্ধমা গহি। মহান্‌ মহীভিরূতিভিঃ।।৭।। (১৮২) ওজন্তদস্য তিত্বিষ উভে যৎ সমবর্তয়ৎ। ইন্দ্রশ্চর্মেব রোদসী।।৮।। (১৮৩) অয়মু তে সমতসি কপোত ইব গর্ভধিম্‌। বচস্তচ্চিন্ন ওহসে।।৯।। (১৮৪) বাত আ বাতু ভেষজং শম্ভু ময়োভু নো হৃদে। প্র ন আয়ুংষি তারিষৎ।।১০।

অনুবাদঃ (১৭৫) কর্মকে পরিচালনা করতে ইচ্ছা করে অন্তরিক্ষে অবস্থিত পরিচালিকা শক্তিগণ সুবীর্য ইন্দ্রকে জন্মমাত্রই উপাসনা করলেন।। (১৭৬) হে দেবগণ, আমাদের কর্মে ত্রুটি করিনি কোন কাজে শৈথিল্য প্রকাশ করিনি; আমরা শ্রুত মন্ত্র অনুসারে আচরণ করি।। (১৭৭) স্বীয় কর্মে অবিচল, মহাগতিসম্পন্ন, দীপ্ত সূর্য অন্ধকার নাশ করে এসেছেন; সবিতাদেবকে স্তব কর।। (১৭৮) প্রিয় ঊষা যাঁকে এর আগে দেখা যায় নি, তিনি এখন আকাশ থেকে অন্ধকার দূর করছেন। হে অহোরাত্ররূপী অশ্বিদ্বয়, তোমাদের দু’জনকে প্রভূত স্তুতি করি।। (১৭৯) অপরাজিত ইন্দ্র লোকপালনের জন্য ধ্যানস্থ সূর্য (দধীচি) থেকে বজ্র (-অস্থি) আহরণ ক’রে অসংখ্যবার বৃত্রকে (মেঘকে) বধ করে থাকেন। (১৮০) হে ইন্দ্র এস; সকল সোমযাগে সোমপানে হৃষ্ট হয়ে বলের দ্বারা মহান হয়ে শত্রুপরাভবকারী হয়।। (১৮১) হে বৃত্রহন্তা ইন্দ্র, মহান তুমি; তোমার মহৎ পালনের জন্য আমাদের কাছে শীঘ্র এস। (১৮২) ইন্দ্রের বল বিশেষভাবে দীপ্তি লাভ করে, যখন দ্যু ও পৃথিবী উভয়ে মিলিতভাবে মেঘ সৃষ্টি করেন শরীরচর্মের মত ইন্দ্র দ্যু ও পৃথিবীকে আবৃত করে আছেন। (১৮৩) হে ইন্দ্র, এই সোম তোমার জন্য কপোত যেমন কপোতীর প্রতি বকম্‌ শব্দে ধাবমান হয়, তুমিও তেমনি গুরুগুরু গর্জনে সোমের প্রতি ধাবমান হও; আর সেই মেঘধ্বনিরূপ বাক্যের দ্বারা আমাদের প্রাপ্ত হও।।। (১৮৪) বায়ু আমাদের অভিমুখে প্রবাহিত হোন; তিনি ভেষজকে সকল কালেই আমাদের জন্য সুখপ্রদ করুন; তিনি আমাদের আয়ু বৃদ্ধি করুন।।

সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

অষ্টম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৯

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ কান্ব, ২।৩ বৎস কান্ব (ঋগ্বেদে ২।৯ বশোহশ্ব্য),
৪ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস,
৫ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র,
৬ বামদেব গৌতম,
৭ ইরিম্বিঠি কান্ব,
৮ সত্যধৃতি বারুণি।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ

(১৮৫) যং রক্ষন্তি প্রচেতসো বরুণো মিত্রো অর্যমা। নকিঃ স দভ্যতে জনঃ।।১।। (১৮৬) গব্যো ষু ণো যথা পুরাশ্বযোত রথয়া। বরিবষ্যা মহোনাম্‌।।২।। (১৮৭) ইমাস্ত ইন্দ্র পৃশ্নয়ো ঘৃতং দুহত আশিরম্‌। এনামৃতস্য পিপ্যুষীঃ।।৩।। (১৮৮) অয়া ধিয়া চ গব্যয়া পুরুণামন্‌ পুরুষ্টুত। যৎ সোমেসোম আভুবঃ।।৪।। (১৮৯) পাবকা নঃ সরস্বতী বাজের্ভিবাজিনীবতী। যজ্ঞং বষ্টু ধিয়াবসুঃ।।৫।। (১৯০) ক ইমং নাহুষীম্বা ইন্দ্রং সোমস্য তর্পয়াৎ। স নো বসূন্যা ভরাৎ।।৬।। (১৯১) আ যাহি সুষুমা হি ত ইন্দ্র সোমং পিবা ইমম্‌। এদং বর্হিঃ সদো মম।।৭।। (১৯২) মহি ত্রীণামবরস্তু দ্যুক্ষং মিত্রস্যার্যম্‌ণঃ। দুরাধর্ষং বরুণস্য।।৮।। (১৯৩) ত্বাবতঃ পুরূবসো বয়মিন্দ্র প্রণেতঃ। স্মসি স্থাতর্হরীণাম।।৯।।

অনুবাদঃ

(১৯৫) প্রকৃষ্টজ্ঞানযুক্ত বরুণ মিত্র ও অর্যমা যাঁকে রক্ষা করেন তাঁকে কোন মানুষই দ্বেষ করতে পারে না। (১৮৬) হে ইন্দ্র, গো অশ্ব ও রথলাভের ইচ্ছা হলে পূর্বে যেমন দান করতে তেমনি মহৎ দানে আমাদের ইচ্ছা পূরণ কর।। (১৮৭) হে ইন্দ্র, জাগতিক সুনিয়ন্ত্রিত ঋতকর্মে নিযুক্ত তোমার দেবরশ্মিগণ অমৃত বারিরাশি দোহন করে।। (১৮৮) হে বহুস্তুত বহুনামবিশিষ্ট ইন্দ্র, আমরা অমৃত বারিরাশির দ্বারা ধী‑বিশিষ্ট কর্মে নিযুক্ত হব যেহেতু তুমি প্রতি সোমকর্মে (=বারিসৃষ্টিকর্মে) উপস্থিত থাক।। (১৮৯) পবিত্রা অন্নবর্তী কর্মফলদাত্রী বাক্‌ জলের অধিষ্ঠাত্রী সরস্বতী দেবী আমাদের যজ্ঞকে কামনা করুন।। (১৯০) মানুষের মধ্যে কে ইন্দ্রকে সোমের দ্বারা প্রীত করতে পারে? তিনিই আমাদের সর্বসম্পদে পূর্ণ করেছেন।। (১৯১) হে ইন্দ্র, এস; তোমার জন্য এই চারু সোম, তুমি পান কর; এই যজ্ঞাসনে বস।। (১৯২) দ্যুলোকস্থ দুরাধর্ষ মিত্র অর্যমা ও বরুণ এই তিনি মহান্‌ দেবের পালন আমাদের রক্ষা করুক।। (১৯৩) হে বহুধন, উদক ও যজ্ঞের নেতা ইন্দ্র, তোমাসদৃশ দেবকেই আমরা কামনা করি, তুমি সকল দেবরশ্মিরূপ অশ্বের অধিষ্ঠাতা।।

সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

নবম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ প্রগাথ কান্ব,
২ গাথি বিশ্বামিত্র,
৩।১০ বামদেব গৌতম,
৪।৬ শ্রুতকক্ষ আঙ্গিরস,
৫ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র,
৭ গৃৎসমদ শৌনক,
৮।৯ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ

(১৯৪) উত্বা মন্দন্তু সোমাঃ কৃণুম্ব রাধো অদ্রিবঃ।। অব ব্রহ্মদ্বিষো জহি।।১।। (১৯৫) গির্বণঃ পাহি নঃ সুতং মধ্যের্ধারাভিরজ্যসে। ইন্দ্র দ্বাদাতমিদ্‌ যশঃ।।২।। (১৯৬) সদা ব ইন্দ্রশ্চর্কৃষদা উপো নু স সপর্যন্‌। ন দেবো বৃতঃ শূর ইন্দ্রঃ।।৩।। (১৯৭) আ ত্বা বিশন্ত্বিন্দবঃ সমুদ্রমিব সিন্ধবঃ। ন ত্বামিন্দ্রাতিরিচ্যতে।।৪।। (১৯৮) ইন্দ্রমিদ্‌ গাথিনো বৃহদিন্দ্রমর্কেভিরর্কিণঃ। ইন্দ্রং বাণীরনূষত।।৫।। ইন্দ্র ইষে দদাতু ন ঋভুক্ষণমৃভুং রয়িম্‌। বাজী দদাতু বাজিনম্‌।।৬।। (২০০) ইন্দ্রো অঙ্গ মহদ্‌ভয়মভীষদপ চুচ্যবৎ। স হি স্থিরো বিচর্ষণিঃ।।৭।। (২০১) ইমা উ ত্বা সুতেসুতে নক্ষন্তে গির্বণো গরঃ। গাবো বৎসং ন ধেনবঃ।।৮।। (২০২) ইন্দ্রা নু পূষণা বয়ং সখ্যায় স্বস্তয়ে। হিবেম বাজসাতয়ে।।৯।। (২০৩) ন কি ইন্দ্র ত্বদুত্তরং ন জ্যায়ো অস্তি বৃত্রহন্‌। ন ক্যেবং যথা ত্বম্‌।।১০।।

অনুবাদঃ

(১৯৪) হে বজ্রধারী ইন্দ্র, সোমসকল তোমাকে উত্তমরূপে হর্ষান্বিত করুক; আমাদের ধন প্রদান কর; আর ব্রহ্মদ্বেষীকে বিনাশ কর।। (১৯৫) হে স্তুতিপ্রিয় ইন্দ্র, মধুর সোমধারায় তোমার পূজা হয়ে থাকে; তুমি আমাদের সোম পান কর। হে ইন্দ্র, যশরূপ অন্ন তোমারই দান।। (১৯৬) ইন্দ্র সর্বদাই তোমাদের জন্য পুনঃ পুনঃ কর্ষণের ব্যবস্থা করেন; সেই যথার্থ অনুষ্ঠাতাকেই কামনা কর; কোন দেবতাই শূর ইন্দ্রের মত আচ্ছাদিত করতে পারেন না।। (১৯৭) নদীসকল যেমন সমুদ্রে মেশে তেমনি সকল সোমধারাই তোমাতে মিলিত হয়; হে ইন্দ্র, তোমাকে কেহ অতিক্রম করতে পারে না।। (১৯৮) সাম গায়কেরা (=সামগান গায়কেরা) বৃহৎ সামে, ঋগ্বেদীয় হোতাগণ ঋক্‌ মন্ত্রে, যজুর্বেদীগণ যজুর্মন্ত্রে ইন্দ্রকেই স্তব করেন।। (১৯৯) ইন্দ্র আমাদের অন্নদান ইচ্ছা করে অন্তরিক্ষে নিবাসী সূর্যরশ্মিসমূহ থেকে আহৃত বৈদ্যুতিক জ্যোতিরূপ ধন দান করেন; (বাজী=) অন্ন বল ও বাকের অধিকর্তা ইন্দ্র, (সেই বৈদ্যুতিক জ্যোতি থেকে সৃষ্ট) অন্ন বল ও বাক্‌ দান করুন।। (২০০) ইন্দ্র অবিলম্বে মহৎ ভয়ে ভীতগ্রস্ত অবস্থা থেকে মুক্ত করুন; তিনি স্থিরপ্রজ্ঞ ও বিশ্বদ্রষ্টা।। (২০১) হে স্তুতিপ্রিয় ইন্দ্র, প্রতি সোম অভিষবে আমাদের সকিল স্তুতি তোমা অভিমুখে ধাবিত হয়, গোবৎসের প্রতি গাভী যেমন যায়।। (২০২) ইন্দ্র ও পূষাকে আমরা সখ্যতার জন্য, মঙ্গলের জন্য ও বিপুল ধনের জন্য আহ্বান করি।। (২০৩) হে বৃত্রহন্তা ইন্দ্র, তোমার ওপরে কোন দেবতা নেই, তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন দেবতা নেই, আর তুমি যেমন, তেমন কোন দেবতাও নেই।।

সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

দশম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৪ ত্রিশোক কান্ব,
২ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র,
৩ বৎস কান্ব (ঋগ্বেদে অশ্বপুত্র বশ),
৫ সুকক্ষ আঙ্গিরস,
৬।৯ বামদেব গৌতম,
৭ গাথি বিশ্বামিত্র,
৮ গোষুক্তি ও অশ্বসুক্তি কান্ব,
১০ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ

(২০৪) তরণিং বো জনানাং ত্রদং বাজস্য গোমতঃ। সমানমু প্র শংসিষম্‌।।১।। (২০৫) অসৃগ্রমিন্দ্র তে গিরঃ প্রতি ত্বামুদহাসত। সজোষা বৃষভং পতিম্‌।।২।। (২০৬) সুনীথো ঘা স মর্ত্যো যং মরুত যমর্যমা। মিত্রাস্পান্ত্যদ্রুহঃ।।৩।। (২০৭) যদ্‌বীডাবিন্দ্র যৎ স্থিরে যৎ পর্শানে পরাভূতম্‌। বসু স্পার্হং তদা ভর।।৪।। (২০৮) শ্রুতং বো বৃত্রহন্তমং প্র শর্ধং চর্ষণীনাম্‌। আশিষে রাধসে মহে।।৫।। (২০৯) অরং ত ইন্দ্র শ্রবসে গমেম শূর ত্বাবতঃ। অরং শক্র পরেমণি।।৬।। (২১০) ধানাবন্তং করম্ভিণমপূবন্তমুক্‌থিনম্‌। ইন্দ্র প্রাতর্জুষস্ব নঃ।।৭।। (২১১) অপাং ফেনেন নমুচেঃ শির ইন্দ্রোদবর্তয়ঃ। বিশ্বা যদজয় স্পৃধঃ।।৮।। ইমে ত ইন্দ্র সোমাঃ সুতাসো যে চ সোত্বাঃ। তেষাং মৎস্ব প্রভূবসো।।৯।। (২১৩) তুভ্যং সুতাসঃ সোমাঃ স্তীর্ণং বর্হির্বিভাবসো। স্তোতৃভ্য ইন্দ্র মৃড়য়।।১০।।

অনুবাদঃ

(২০৪) তোমাদের সকলের জন্য উদকযুক্ত অন্ন-বলের অবাধ উদ্‌ঘাটক, সমদৃষ্টিসম্পন্ন, দক্ষ, আদরণীয় ইন্দ্রকে স্তব করি। (২০৫) হে ইন্দ্র, আমি তোমার উদ্দেশে মন্ত্র উচ্চারণ করছি; তুমি বর্ষণশীল, রক্ষক; তোমাকে প্রাপ্ত হবে বলে এই স্তুতি ঊর্ধ্বলোকে গমন করছে; তুমি তা প্রীতির সঙ্গে গ্রহণ করেছ। (২০৬) হিংসাশূন্য, দ্বাষশূন্য প্রাণবায়ু মরুৎগণ যাঁকে রক্ষা করেন, শত্রুভূত অন্ধকারনাশক অর্যমা (=আদিত্য) যাঁকে রক্ষা করেন, মরণ থেকে ত্রাণকারী মিত্র (=আদিত্য) যাঁকে রক্ষা করেন, সেই মানুষই দেবতার স্তুতিকরণে সুসমর্থ হয়। (২০৭) হে ইন্দ্র, দৃঢ় দুর্গম স্থানে, স্থাবর, মেঘের মধ্যে যে ধন তুমি গুপ্ত রেখেছ সেই স্পৃহণীয় ধন আমাদের জন্য আন। (২০৮) শ্রুতকীর্তি, বৃত্রহন্তা, জনগণের যজ্ঞকর্মে উৎসাহী ইন্দ্রের কাছে তোমাদের জন্য সর্বসিদ্ধিকর মহাধন কামনা করি। (২০৯) হে শূর, হে ইন্দ্র, তোমার মত প্রচুর যশ ইচ্ছা করে তোমার কাছে এসেছি। হে দানসমর্থ দেব, এমন ভাবে দাও যেন উছলে পড়ে।। (২১০) হে ইন্দ্র, আমাদের এই প্রাতঃকালীন যজ্ঞে তোমার উদ্দেশে ভাজা যবের ছাতু, দধিমিশ্রিত সোম ও আস্‌কে পিঠে যা নিবেদন করলাম এবং যে স্তুতি করলাম তা’ তুমি গ্রহন কর। (২১১) হে ইন্দ্র, যখন বর্ষণবিমুখ মেঘের (=নমুচির) মস্তক আকাশে অবস্থিত জলরাশির ফেনার আঘাতে ছিন্ন করলে তখন তুমি সকল স্পর্ধমান মেঘকেই জয় করলে। (২১২) হে ইন্দ্র, এই যা কিছু সোম (=বারিরাশি) সৃষ্ট হয়েছে, তা’ তোমার জন্যই হয়েছে। হে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধনের ঈশ্বর, তুমি তাদের পেয়ে হর্ষান্বিত হও। (২১৩) হে বিভাবসু, তোমার জন্যই অভিষুত সোম অন্তরিক্ষ বিস্তৃত হয়েছে; হে ইন্দ্র, স্তুতিকারকদের জন্য সুখপ্রদ হও।

সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

একাদশ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৯

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ শুনঃশেপ আজীগর্তি,
২ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস,
৩ ত্রিশোক কান্ব,
৪।৯ মেধাতিথি কান্ব,
৫ গোতম রাহুগণ,
৬ ব্রাহ্মতিথি কান্ব,
৭ গাথি বিশামিত্র বা জমদগ্নি ভার্গব, প্রস্কন্ব কান্ব।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ

(২১৪) আ ব ইন্দ্রং ক্রিবিং যথা বাজয়ন্তঃ শতক্রতুম্‌। মংহিষ্ঠং সিঞ্চ ইন্দুভিঃ।।১।।

(২১৫) অতশ্চিদিন্দ্রি ন উপা যাহি শতবাজয়া। ইষা সহস্রবাজয়।।২।।

(২১৬) আ বুন্দং বৃত্রহা দদে জাতঃ পৃচ্ছাদ্ব বি মাতরম্‌। ক উগ্রাঃ কে হ শৃন্বিরে।।৩।।

(২১৭) বৃবদুক্‌থং হবামহে সুপ্রকরস্নমূতয়ে। সাধঃ কৃন্বন্তমবসে।।৪।।

(২১৮) ঋজুনীতী নো বরুণো মিত্র নয়তি বিদ্বান্‌। অর্যমা দেবৈঃ সজোষাঃ।।৫।।

(২১৯) দূরাদিহেব যৎসতোহরুণপ্‌সুরশিশ্বিতৎ। বি ভাণুং বিশ্বথাতনম্‌।।৬।।

(২২০) আ নো মিত্রাবরুণা গৃতৈর্গব্যুতিমুক্ষতম্‌। মধ্বা রজাংসি সুক্রতু।।৭।।

(২২১) ঊদু ত্যেঁ সূনবো গিরঃ কাষ্ঠা যজ্ঞেম্বত্নত। বাশ্রা অভিজ্ঞু যাতবে।।৮।।

(২২২) ইদং বিষ্ণুর্বিচক্রমে ত্রেধা নি দধে পদম্‌। সমূঢ়স্য পাংসুরে।।৯।।

অনুবাদঃ

(২১৪) অন্নকামিগণ যেমন কূপকে সেচন করে তেমনি তোমাদের জন্য শতকর্মা শ্রেষ্ঠদাতা ইন্দ্রকে সোমরসে সিক্ত করি।।

(২১৫) হে ইন্দ্র, শতবল ও সহস্র অন্নের সঙ্গে দ্যুলোক হতে আমাদের কাছে এস।।

(২১৬) মেঘবিদারণকারী ইন্দ্র জন্মেই তীক্ষ্ণ বাণ ধারণ করলেন, আর জিজ্ঞাসা করলেন মাতাকে, কারা উগ্র বলে খ্যাত, কেই বা তাদের কথা শুনেছে?

(২১৭) উদকরূপ প্রসারিত বাহুর দ্বারা পালনের জন্য, রশ্মিদানরূপ সুকর্মের দ্বারা আশ্রয়দানের জন্য মহান স্তুতিযুক্ত ইন্দ্রকে ডাকি।।

(২১৮) বরুণ ও মিত্র আমাদের ভক্তিভাব জেনে আমাদের ঋজুপথে নিয়ে যায়; দেবগণসহ অর্যমাও প্রীতির সঙ্গে আমাদের ঋজুপথে নিয়ে চলুন।।

(২১৯) দূরে থেকেও উজ্জ্বলদীপ্তি ঊষা তাঁর শ্বেতরূপ বিশ্ব আকাশে ছড়িয়ে দেন।।

(২২০) হে শোভনকর্ম-বিশিষ্ট মিত্র ও বরুণ, আমাদের গোষ্ঠ ঘৃতপূর্ণ কর; পৃথিবী মধুময় হোক।।

(২২১) মরুদগণ সকল বাণী সৃষ্টি করেন; তাঁরা ধেনুর মত শব্দ করতে করতে বারিরাশির বিস্তারের দ্বারা কর্ম সাধন করেন।।

(২২২) বিষ্ণুর স্থান অন্তরিক্ষে দৃঢ়রূপে স্থাপিত; তিনি সেইখানে অবস্থিত থেকেই তিনি প্রকার পদ স্থাপনের দ্বারা (=উত্তরায়ণ, দক্ষিণায়ণ ও বিষুবসংক্রান্তি) এই চরাচর বিশ্ব পরিক্রমা করেন।। [বিষ্ণু=সূর্য]।।

সামবেদ - ২য় অধ্যায় ঐন্দ্র কাণ্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

দ্বাদশ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৭।৮ মেধাতিথি কান্ব,
২ বামদেব গৌতম,
৩।৫ মেধাতিথি কান্ব ও প্রিয়মেধ আঙ্গিরস,
৪ গাথি বিশ্বামিত্র,
৬ দুর্মিত্র বা সুমিত্র কৌৎস,
৯ গাথি বিশ্বামিত্র বা অভীপাদ্‌ উদল,
১০ শ্রুতকক্ষ আঙ্গিরস।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (২২৩) অতীহি মন্যুষাবিণং সুষুবাংসমুপেরয়। অস্য রাতৌ সুতং পিব।।১।। (২২৪) কদু প্রচেতসে মহে বচো দেবায় শস্যতে। তদিধ্যস বর্ধনম্‌।।২।। (২২৫) উক্‌থং চ ন শস্যমানং বাগোরয়িরা চিকেত। ন গায়ত্রং গীয়মানম্‌।।৩।। (২২৬) ইন্দ্র উক্‌থেভির্মন্দিষ্ঠো বাজানাং চ বাজপতিঃ। হরিবান্‌ৎসুতানাং সখা।।৪।। (২২৭) আ যাহ্যুপ নঃ সুতং বাজেভির্মা হৃণীযথাঃ। মহাঁ ইব যুবজানিঃ।।৫।। (২২৮) কদা বসো স্তোত্রং হর্যত আ অব শ্মসা রুধদ্‌বাঃ। দীর্ঘং সুতং বাতাপ্যায়।।৬।। (২২৯) ব্রাহ্মণাদিন্দ্র রাধসঃ পিবা সোমমৃতুঁরনু। তবেদং সখ্যমস্তৃতম্‌।।৭।। (২৩০) বয়ং ঘা তে অপি স্মসি স্তোতার ইন্দ্র গির্বণঃ। ত্বং নো জিন্ব সোমপাঃ।।৮।। (২৩১) এন্দ্র পৃক্ষু কাসু চিন্‌নৃম্‌ণং তনূষু ধেহি নঃ। সত্রাজিদুগ্র পৌংস্যম্‌।।৯।। (২৩২) এবাহ্যসি বীরযুরেবা শূর উত স্তিরঃ। এবা তে ভাধ্যং মনঃ।।১০।।

অনুবাদঃ (২২৩) হে ইন্দ্র, তুমি সব সময়ে এস; আন্তরিকতার সঙ্গে প্রস্তুত আমাদের সোম গ্রহণের জন্য এস। আর এই সোম আমাদের ধনদান করবে বলে পান কর।। (২২৪) প্রকষ্টজ্ঞানী মহান দেবতার উদ্দেশে কেনই বা এই স্তুতি? কারণ তা’ স্তুতিকারীর ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে।। (২২৫) স্তুতিকারীর স্তুতি আর গায়কের গায়ীছন্দের গান অসমর্থ ও বিদ্বেষীর বোধগম্য হয় না।। (২২৬) স্তুতি দ্বারাই ইন্দ্র অত্যন্ত হৃষ্ট হন; তিনিই সকল অন্ন বল ও বাকের অধিপতি; তিনিই রশ্মির অধিপতি; তিনিই সোমজ্ঞদের (=আনন্দবোধ-প্রাপ্তদের) সখা।। (২২৭) যুবতী পত্নীর প্রতি মহান স্বামীর মত আমাদের সঙ্গে ব্যবহার কর, ক্রুদ্ধ হয়ো না; হে ইন্দ্র, আমাদের অন্ন-বল দেবে বলে আমাদের এই অভিষুত সোমের কাছে এস।। (২২৮) নদী, খাল, বিল যেমন বারিরাশিকে বদ্ধ করে তেমনি কবে আমাদের স্তোত্র তোমাকে আমাদের বশে আনতে পারবে? হে ধনস্বামী, আমাদের এই সোমযাগ প্রচুর বারিবর্ষণ কামনা করে।। (২২৯) হে ইন্দ্র, তুমি ঋতুদের সোম পানের পর ব্রহ্মজ্ঞ স্তুতিকারীর ধনভূত সোমপাত্র থেকে সোম পান কর; হে ইন্দ্র, তোমার সখ্যতাই অবিচ্ছিন্ন।। (২৩০) হে স্তুতিপ্রিয় ইন্দ্র, আমরা তোমার স্তোতা বলেই হে সোমপায়ী, আমাদের প্রীত কর।। (২৩১) হে ইন্দ্র, কিরূপ সংগ্রামে তুমি আমাদের দেহে বল দেবে? হে সকল সোমযজ্ঞজয়ী, হে উগ্রবল, আমাদের বল দাও।। (২৩২) হে শূর, তুমি অবিচল, তুমি বীর্যকামী, তুমি এইরূপ; তোমার আরাধ্য মনও এইরূপ।।

সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

প্রথম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৬।৯ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি, ২ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য (ঋগ্বেদে শংযু বার্হস্পত্য, ৩ প্রস্কণ্ব কাণ্ব (বালখিল্য সুক্তমন্ত্র), ৪ নোধা গৌতম, ৫ কলি প্রাগাথ, ৭ মেধাতিথি কাণ্ব, ৮ ভর্গ প্রাগাথ, ১০ প্রাগাথ ঘৌর কাণ্ব।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (২৩৩) অভি ত্বা শূর নোনুমোহদুগ্ধা ইব ধেনবঃ। ঈশানমস্য জগতঃ স্বর্দৃশমীশানমিন্দ্র তস্থুষঃ।।১।। (২৩৪) ত্বামিদ্ধি হবামহে সাতৌ বাজস্য কারবঃ। ত্বাং বৃত্রেম্বিন্দ্র সৎপতিং নরস্তাং কাষ্ঠাস্বর্বতঃ।। (২৩৫) অভি প্র বঃ সুরাধসমিন্দ্রমর্চ যথা বিদে। যো জরিতৃভ্যো মধবা পুরূবসুঃ সহস্রেণেব শিক্ষতি।।৩।। (২৩৬) তং বো দস্মমৃতীষহং বসোর্মন্দানমন্ধসঃ। অভি বৎসং ন স্বসরেষু ধেনব ইন্দ্রং গীর্ভির্নবামহে।।৪।। (২৩৭) তরোভির্বো বিদদ্বসুমিন্দ্রং সবাধ ঊতয়ে।। বৃহদ্‌ গায়ন্তঃ সুতসোমে অধ্বরে হুবে ভরং ন কারিণম্‌।।৫।। (২৩৮) তরণিরিৎ সিষাসতি বাজ পুরন্ধ্যা আ ব ইন্দ্রয় পুরুহূতং নমে গিরা নেমিং তষ্টেব সুদ্রুবম্‌।।৬।। (২৩৯) পিবা সুতস্য রসিনো মৎস্বা ন ইন্দ্র গোমতঃ। আপির্নো বোধি সধমাদ্যে বৃধেতহস্মাঁ অবন্তু তে ধিয়ঃ।।৭।। (২৪০) ত্বং হ্যেহি চেরবে বিদা ভগং বসুত্তয়ে। উদ্‌বাবৃযস্বমধবন গবিষ্টয় উদিন্দ্রাশ্বমিষ্টয়ে।।৮।। (২৪১) ন হি বশ্চরমং চ ন বসিষ্ঠঃ পরিমংসতে। অস্মাকমদ্য মরুতঃ মরুতঃ সুতে সচা বিশ্বে পিবন্তু কামিনঃ।।৯।। (২৪২) মা চিদন্যদ্‌ বি শংসত সখায়ো মা রিষণ্যত। ইন্দ্রমিৎ স্তোতা বৃষণং সচা সুতে মুহুরুক্‌থা চ শংসত।।১০।।

অনুবাদঃ (২৩৩) দোহন করা হয় নি এমন পয়স্বিনীদের মত আমরা স্তুতিভারে অবনত হয়ে, হে শূর, তোমার কাছে এসেছি। হে ইন্দ্র, তুমি জঙ্গমের ঈশ্বর, তুমি স্থাবরের ঈশ্বর, তুমি সর্বদর্শী।। (২৩৪) আমরা স্তোতারা তোমাকেই ডাকি অন্নবল লাভের আশায়, হে ইন্দ্র, যে তুমি মেঘপুঞ্জে অবস্থিত জলরাশির মধ্যে অশ্বরশ্মিরূপে অবস্থান করে মেঘবিদারণের দ্বারা সৎকর্মসাধক হও, নরগণ সেই তোমাকেই ডাকে।। (২৩৫) আমি যেমন করি তোমরাও তোমাদের মঙ্গলের জন্য শোভন সর্বসিদ্ধিকর ধনবিশিষ্ট ইন্দ্রের কাছে সেইভাবে প্রার্থনা কর, তিনি মহানদাতা বহুধনযুক্ত এবং স্তোতাকে সহস্র প্রকারে দান করে থাকেন।। (২৩৬) তোমাদের জন্য সেই দর্শনীয় জগৎনিয়ামক, সোমে বাসকারী, অন্নের দ্বারা হৃষ্ট ইন্দ্রকে মন্ত্ররূপ শব্দের দ্বারা স্তুতি করি যেমন গোষ্ঠে ধেনুগণ বাছুরকে (সন্তানকে) ডাকে।। (২৩৭) তোমাদের সব কিছু রক্ষার জন্য ক্ষিপ্রতার সঙ্গে ও আন্তরিকতার সঙ্গে, অহিংসিত সোমযজ্ঞে, বৃহৎ সামগানে, সেই ইন্দ্রকে আহ্বান করি যিনি প্রচুর লাভে হৃষ্ট ব্যক্তির ন্যায় ধনশালী।। (২৩৮) প্রজ্ঞার দ্বারা যুক্ত হয়ে ক্ষিপ্রকারী ব্যক্তিই ধনসেবা করে থাকেন। বহু ব্যক্তির দ্বারা আহুত ইন্দ্রকে স্তুতির দ্বারা নত হয়ে তোমাদের জন্য বেষ্টিত করি, যেমন সূর্য সুগমনের দ্বারা সংবৎসরকে বেষ্টন করেন।। (২৩৯) হে ইন্দ্র, আমাদের দেওয়া উদকযুক্ত এই রসাল সোম পান করে হৃষ্ট হও। তুমি আমাদের বন্ধু বলে মনে কর; সোমপানে হৃষ্ট হয়ে তোমার ধী বৃদ্ধি হোক আমাদের রক্ষার জন্য।। (২৪০) তুমি ভজনীয় একথা জেনে শ্রদ্ধা নিবেদনকারীর কাছে, ধনকামীর কাছে এস; হে উত্তমদাতা ইন্দ্র, ইচ্ছাপূরণের জন্য, মহাগতির জন্য ঊর্ধ্বে অবস্থান করে বারবার বর্ষণ কর।। (২৪১) বসিষ্ঠ তোমাদের কাউকেই অবহেলা করেন না। হে প্রাণরূপী মরুদ্‌গণ, সোম কামনা করে তোমরা সকলে মিলিত হয়ে আজ আমাদের সোমযাগে এস।। (২৪২) হে সখাগণ, তোমার অন্যের পূজা করো না। কাউকে হিংসাও করো না। বর্ষণকারী ইন্দ্রকেই একত্র মিলত হয়ে স্তোত্র ও গানের দ্বারা মুহুর্মুহু স্তব কর।।

সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

দ্বিতীয় খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ পুরুহন্মা আঙ্গিরস, ২।৩ মেধাতিথি ও মেধ্যাতিথি কাণ্ব, ৪ গাথি বিশ্বামিত্র, ৫ গোতম রাহুগণ, ৬ নৃমেধ ও পুরুমেধ আঙ্গিরস, ৭।৮।৯। মেধাতিথি বা মেধ্যাতিথি কাণ্ব (ঋগ্বেদে মেধাতিথি), ১০ দেবাতিথি কাণ্ব।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (২৪৩) নকিষ্টং কর্মণা নশদ্‌ যশ্চকার সদাবৃধম্‌। ইন্দ্রং ন যজ্ঞৈর্বিশ্বগূর্তমৃন্বসমধৃষ্টং ধৃষ্ণুমোজস্য।।১।। (২৪৪) য ঋতে চিদভিশ্রিষঃ পুরা জক্রুভ্যঃ আতৃদঃ সন্ধাত্য সন্ধিং মধবা পুরূবসুর্নিষ্ক্রর্তা বিহবুতং পুনঃ।।২।। (২৪৫) আ ত্ব সহস্রমা শতং যুক্তা রথে হিরণ্যয়ে। ব্রহ্মযুজ্যে হরয় ইন্দ্র কেশিনো বহস্তু সোমপীতয়ে।।৩।। (২৪৬) আ মন্দৈরিন্দ্র হরিভির্যাহি ময়ূররোমভিঃ। মা ত্বা কে চিন্নি যেমুরিন্ন পশিনোহতি ধন্বেব তাঁ ইহি।।৪।। (২৪৭) ত্বমঙ্গ প্র শংসিষো দেবঃ শবিষ্ঠ মর্ত্যম্‌। ন ত্বদন্যো মঘবন্নস্তি মর্ডিতেন্দ্র ব্রবীমি তে বচঃ।।৫।। (২৪৮) ত্বমিন্দ্র যশা অস্যৃজীষী শবসস্পতিঃ। ত্বং বৃত্রাণি হংস্যপ্রতীন্যেক ইৎ পুর্বনুত্তশ্চর্ষণীধৃতিঃ।।৬।। (২৪৯) ইন্দ্রমিন্দ্‌ দেবতাতয় ইন্দ্রং প্রযত্যধ্বরে। ইন্দ্রং সমীকে বনিনো হবামহ ইন্দ্রং ধনস্য সাতয়ে।।৭।। (২৫০) ইমা উ ত্বা পুরূবসো গরো বর্ধন্তু যা মম। পাবকবর্ণাঃ শুচয়ো বিপশ্চিতোহভিস্তোমৈরনূষত।।৮।। (২৫১) উদু ত্যে মধুমত্তমা গিরঃ স্তোমাস ঈরতে। সত্রাজিতো ধনসা অক্ষিতোতয়ো বাজয়ন্তো রথা ইব।।৯।। (২৫২) যথা গৌরো অপ্রা কৃতম্‌ তৃষ্যন্নেত্যবেরিণম্‌। আপিত্বে নঃ প্রপিত্বে তূয়মা গহি কণ্বেষু সু সচা পিব।।১০।।

অনুবাদঃ (২৪৩) যিনি সদা বৃদ্ধিশীল, যিনি যজ্ঞেয় দ্বারা সর্বস্তুতিযোগ্য, মহান, অপরাজিত ও অতিনিপুণ, সেই ইন্দ্রকে কেহই বলের দ্বারা বা কর্মের দ্বারা জানতে পারে না।। (২৪৪) যিনি পূর্বেই, সংযোগকারী বস্তু ব্যতিরেকেই, বস্তু ব্যতিরেকেই, বিচ্ছিন্ন অস্থিকে জোড়া দেন, যিনি বিচ্ছিন্ন বস্তুকে বারবার সংস্কার করেন, সেই সংস্কারকর্তা, সংযোগকারীই বহুধন অতিদাতা ইন্দ্র।। (২৪৫) হে ইন্দ্র, উদকহরণের জন্য বেগবান, স্তুতিযুক্ত, শতসহশ্র কিরণরাশি তোমাকে সোমপানের জন্য বহন করুক।। (২৪৬) হে ইন্দ্র, ময়ূরপেখমের মত উজ্জ্বল, বিচিত্র রশ্মিযুক্ত হয়ে আনন্দে মত্ত হয়ে এস; ব্যাধ যেমন তার শিকারকে ঘিরে ফেলে সেভাবে তোমার আগমনে যেন কেউ বাধা না দেয়; মরুপ্রান্তর অতিক্রমকারীর মত সকল বাধা দূর করে এস।। (২৪৭) হে অতিবলইন্দ্র, তুমি দীপ্যমান, (তাই) স্তুতিরত মানুষকে অবিলম্বেই প্রশংসিত কর; হে মঘবা, তুমি ভিন্ন আর কেউ সুখদাতা নেই; আমি তোমারই স্তুতি করে থাকি।। (২৪৮) হে ইন্দ্র, তুমি বলপতি, সোমবান ও যশস্বী; তুমি একাই অপ্রতিহতগতিতে বৃত্রহনন কর; তুমিই জনগণপালক।। (২৪৯) একমাত্র ইন্দ্রকেই যজ্ঞের জন্য, ইন্দ্রকে যজ্ঞকালে দান উৎসর্গের জন্য, ইন্দ্রকে সকলে মিলিতভাবে ভজনার জন্য, ইন্দ্রকে ধনলাভের জন্য আমরা আহ্বান করি।। (২৫০) হে বহুধন, আমার এই যা কিছু স্তুতি তোমাকে বর্ধিত করুক, অগ্নির মত তেজোদীপ্ত ও শুচি বিদ্বান্‌গণ তোমাকেই স্তুতি করেন।। (২৫১) আর অতি মধুর বাক্যের মন্ত্রমালা যা শত্রুকে জয় করে, যা ধনদ, যা অক্ষয়রক্ষাকারী ও অথের মত বেগবান্‌ তা ঊর্ধ্বে যাচ্ছে (ইন্দ্রকে পাবে বলে)।। (২৫২) মৃগ তৃষ্ণার্ত হলে যেমন জলপুর্ণ স্থানের অভিমুখে যায়, তুমিও তেমনি, হে ইন্দ্র, তোমার সোমপানের সময় হলে আমাদের কাছে অবশ্যই এস। আমরা কণ্বগণ, আমাদের সঙ্গে একত্র সোমপন কর।।

সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

তৃতীয় খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ ভর্গ প্রাগাথ, ২।৮। রেভ কাশ্যপ, ৩ জমদগ্নি ভার্গব, ৪।৯ মেধাতিথি কান্ব (ঋগ্বেদে মেধ্যাতিথি কান্ব), ৫।৬ নৃমেধ ও পুরুমেধ আঙ্গিরস, ৭ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি, ১০ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য (ঋগ্বেদে শংবু বার্হস্পত্য)।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (২৫৩) শগ্‌ধ্যূতষু শবীপত ইন্দ্র বিশ্বাভিরুতিভিঃ। ভগং ন হি ত্বা যশসং বসুবিদমনু শূর চরামসি।।১।। (২৫৪) যা ইন্দ্র ভুজ আভরঃ স্বর্বাং অসুরেভ্যঃ। স্তোতারমিন্মঘবন্নস্য বর্ধয় যে চ ত্বে বৃক্তবর্হিষঃ।।২।। (২৫৫) প্র মিত্রায় প্রার্যম্‌ণে সচথ্যমৃতাবসো। বর্‌থোতবর্‌ণে ছন্দ্যং বচঃ স্তোত্রং রাজসু গায়ত।।৩।। (২৫৬) অভি ত্বা পূর্বরীতয় ইন্দ্র স্তোমেভিরায়বঃ। সমীচীনাস ঋভবঃ সমস্বরন্‌ রুদ্রা গৃণন্ত পূর্ব্যম্‌।।৪।। (২৫৭) প্র ব ইন্দ্রায় বুহতে মরুতো ব্রহ্মার্চত। বৃত্রং হনতি বৃণহা শশকৃতুর্বজ্রেণ শতপর্বণা।।৫।। (২৫৮) বৃহদিন্দ্রায় গায়ত মরুতো বৃত্রহন্তমম্‌। যেন জ্যোতিরজনয়ন্নৃতাবৃধো দেবং দেবায় জাগৃবি।।৬।। (২৫৯) ইন্দ্র ক্রতুং ন আ ভর পিতা পুত্রেভ্যো যথা। ষিক্ষা ণো অস্মিন্‌ পুরুহূত যামনি জীবা জ্যোতিরশীমহি।।৭।। (২৬০) মা ন ইন্দ্র পরা বৃণগ্‌ ভবা নঃ সধমাদ্যে। ত্বং ন ঊতী ত্বমিন্ন আপ্যং মা ন ইন্দ্র প্রাবৃণক্‌।।৮।। (২৬১) বয়ং ঘ ত্বা সুতাবন্ত আপো ন বৃক্তবর্হিষঃ। পবিত্রসা প্রস্রবণেষু বৃত্রহন্‌ পরি স্তোতার আসতে।।৯।। (২৬২) যদিন্দ্র নাহুষীস্বা অজো বৃম্‌ণং চ কৃষ্টিষু। যদ্‌ বা পঞ্চক্ষিতীনাং দ্যুম্নমা ভর সত্রা বিশ্বানি পৌংস্যা।।১০।।

অনুবাদঃ (২৫৩) সকল বল ও কর্মের অধিপতি হে ইন্দ্র, তুমি সকল বলকর্মে অবস্থিত থেকে সমস্ত প্রকারে আমাদের রক্ষা কর। হে শূর, উদয়কালীন সূর্যের জ্যোতিকে যেমন লোকে ভজনা করে সেরূপ যশস্বী ও ধনপ্রাপক তোমাকে ভজনা করি।। (২৫৪) হে ইন্দ্র, অসুররূপী মেধ হতে (=মেঘ বিদীর্ণ করে’) যে প্রাণধন (=বারিরাশি) সকলের ভোগের জন্য আহরণ করেছ তার দ্বারা, হে ধনবান্‌, যারা তোমার স্তবকারী ও যজ্ঞকারী মিত্রদেবের উদ্দেশে, অন্ধকারনাশক দেব অর্যমার উদ্দেশে, আশ্রয়দাতা দেব বরুণের ছন্দে বাক্যে স্তোত্রে গান কর।। (২৫৬) হে ইন্দ্র, তুমিই প্রথমে সোমপান করবে বলে মানুষেরা তোমার উদ্দেশে বারবার গান করছে; আর একত্র মিলিতভাবে অবস্থিত বৈদ্যুতিক জ্যোতিসমূহ ও শব্দায়মান রুদ্রগণ প্রথমাবধি সমস্বরে তোমার আনুকূল্যের জন্য গম্ভীর গর্জন করে চলেছেন। (২৫৭) হে প্রাণবায়ু মরুদ্‌গণ, মহান ইন্দ্রের উদ্দেশে ব্রহ্মসঙ্গীতে উপাসনা কর; শতকর্মা বৃত্রনাশকারী ইন্দ্র শতপর্ববিশিষ্ট বজ্রের দ্বারা বৃত্রমেধকে বধ করেন।। (২৫৮) বৃত্রবিনাশকারী মহান সঙ্গীত শুরু কর, হে মরুদ্‌গণ; সদাদীপ্ত ইন্দ্রকে জাগরুক ভাখবার জন্য সকল দেবরশ্মিগণ যেন জ্যোতিঃ উৎপন্ন করতে পারেন।। (২৫৯) হে ইন্দ্র, পিতা যেমন পুত্রদের জ্ঞানদান করেন তেমনি তুমিও আমাদের জ্ঞান দাও; হে বহুস্তুত দেবতা, আমাদের চলার পথ এমন ভাবে অভ্যস্ত কর যেন আমরা জ্যোতিষ্মান সূর্যকে নিত্যই প্রাপ্ত হই।। (২৬০) হে ইন্দ্র, আমাদের পরিত্যাগ করো না, আমাদের সঙ্গে আনন্দহৃদয়ে মত্ত হও; তুমিই আমাদের রক্ষা, তুমিই বন্ধু; আমাদের ছেড়ে যেও না।। (২৬১) হে বৃত্রহন্তা (=মেঘবিদারণকারী ইন্দ্র), সম্প্রতি তুমি অন্তরিক্ষে বিস্তৃত যে বারিরাশি দান করলে, আমরা সোমবান স্তোতারা সেই পবিত্র প্রস্রবণকে ঘিরে বসেছি। আর আমাদের মনও তোমা অভিমুখে নিম্নগতি বারির মত যাচ্ছে।। (২৬২) হে ইন্দ্র, মনুষ্যসমাজে যে কিছু ধন ও বল আছে, আর যা কিছু অন্নধন আছে পঞ্চভূতে, তুমি তা সকলই অমিতবলে আমাদের জন্য নিয়ে এস।।

সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

চতুর্থ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ মেধাতিথি কাণ্ব (ঋগ্বেদে মেধ্যাতিথি কাণ্ব), ২ রেভ কাশ্যপ, ৩ বৎস (ঋগ্বেদে অশ্বপুত্র বশ), ৪ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য (ঋগ্বেদে শংযু বার্হস্পত্য), ৫ বৃমেধ আঙ্গিরস, ৬ পুরুহন্মা আঙ্গিরস, ৭ বৃমেধ ও পুরুমেধ আঙ্গিরস, ৮ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি, ৯ মেধাতিথি ও মেধ্যাতিথি কাণ্ব, ১০ কলি প্রাগাথ।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (২৬৩) সত্যমিত্থা বৃষেদসি বৃষজুতির্নোহবিতা। বৃষাহ্যুগ্র শৃন্বিষে পরাবতি বৃষো অর্বাবতি শ্রুতঃ।।১।। (২৬৪) যচ্ছক্রাসি পরাবতি যদর্বাবতি বৃত্রহিন্‌। অতস্তা গীর্ভির্দ্যুগদিন্দ্র কেশিভিঃ সুতাবাঁ আ বিবাসতি।।২।। (২৬৫) অভি বো বীরমন্ধসো মদেষে গায় গিরা মহাবিচেতসম্‌। ইন্দ্রং নাম শ্রুত্যং শাকিনং বচো যথা।।৩।। (২৬৬) ইন্দ্র ত্রিধাতু শরণং ত্রিবরূথং স্বস্তয়ে। ছর্দির্যচ্ছ মঘবদ্‌ভ্যশ্চ মহ্যং চ যাবয়া দিদ্যুমেভ্যঃ।।৪।। (২৬৭) শ্রায়ন্ত ইব সূর্যং বিশ্বেদিন্দ্রস্য ভক্ষত। বসূনি জাতো জনিমান্যোজসা প্রতি ভাগং ন দীধিম।।৫।। (২৬৮) ন সীমদেব আপ তদিষং দীর্ঘায়ো মর্ত্যঃ। এতগ্বা চিদ্য এতশো যুযোজত ইন্দ্রো হরী যুযোজতে।।৬।। আ নো বিশ্বাসু হব্যমিন্দ্রং সমৎসু ভূষত। উপ ব্রহ্মাণি সবনানি বৃত্রহন্‌ পরমজ্যা ঋচীষম।।৭।। (২৭০) তবেদিন্দ্রাবমং বসু ত্বং পুষ্যসি মধ্যমম্‌। সত্রা বিশ্বস্য পরমস্য রাজসি নকিষ্ট্বা গোষু বৃন্বতে।।৮।। (২৭১) ক্বেয়থ ক্বেদসি পুরুত্রা চিদ্ধি তে মনঃ। অলর্ষি যুধ্‌ম খজকৃৎ পুরন্দর প্র গায়ত্রা অগাসিষুঃ।।৯।। (২৭২) বয়মেনমিদা হ্যোতপীপেমেহ বজ্রিণম্‌। তস্মা ঊ অদ্য সবনে সুতং ভরা নূনং ভূষত শ্রুতে।।১০।।

অনুবাদঃ (২৬৩) একথা সত্য যে, তুমি ইচ্ছাপূরণকারী এবং উদ্যোগী পুরুষের মত উৎসাহযুক্ত; তুমি আমাদের রক্ষক। হে উগ্রবল, তুমি ইচ্ছাপূরণকারী, এরূপ খ্যাতি তোমার আছে; দূরে এবং কাছে সর্বত্র তোমার খ্যাতি শোনা যায়।। (২৬৪) হে সামর্থ্যযুক্ত ইন্দ্র, তুমি দূরে থাক আর কাছে থাক, সেখান থেকে অশ্বরশ্মিযুক্ত তোমাকে স্তুতির দ্বারা ক্ষিপ্রতার সঙ্গে নিকটে আনছেন তাঁরা যাঁরা সোমবান।। (২৬৫) তোমরা সেই শক্তিমান ইন্দ্রের কাছে নত হয়ে, অন্নলাভে হৃষ্ট হয়ে বিশ্ববিশ্রুত অন্নদাতা ও আনন্দে আত্মহারা মহাচৈতন্য ইন্দ্রের উদ্দেশে, যেরূপ বাক্যে স্ফূর্তি হয় সেরূপ বাক্যে গান মহাসঙ্গীত কর।। (২৬৬) হে ইন্দ্র, আমাদের কল্যাণের জন্য অন্ন-জল-তেজরূপ তিনপ্রকার আশ্রয় থেকে উৎপন্ন তনূত্রাণকারী মন-প্রাণ-বাক্‌ দাও; প্রচুর ধনসম্পদ রক্ষার জন্য গৃহ দাও; আর আমার জন্য আমার তেজস্বী দীপ্তিমান কান্তির জন্য এই সকল একত্র সমবেত কর।। (২৬৭) রশ্মিগণ যেমন সূর্যের সেবা করেন তেমনি, যারা জন্মেছে এবং যারা জন্মাবে তাদের মধ্যে নিজ মাহাত্মবলে রশ্মিগণ ইন্দ্রের সমস্ত ধন ভাগ করে দেবেন বলে ইন্দ্রের সেবা করেন; আর আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ধনের মত সেই ধন গ্রহণ করি।। (২৬৮) হে চিরজীবী ইন্দ্র, মর্ত্যের মানুষ সেই কাম্যধনকে বিচ্ছিন্নভাবে (=স্বার্থপর ব্যক্তির মত একাকী) ভোগ করতে পারে না, কারণ ইন্দ্রই (জীবাত্মা-পরমাত্মা অথবা দেশ-কালরূপ) হরি নামক বিচিত্র দীপ্ত অশ্বরশ্মি দুটিকে সর্বদাই একত্র যুক্ত করে রেখেছেন।। (২৬৯) আমাদের মঙ্গলের জন্য সকল যজ্ঞে আহবানযোগ্য, বৃত্রনাশক (মেঘবিদারণকারী), স্তুতিদ্বারা সম্বোধনযোগ্য ইন্দ্রকে সকল ভক্ষণীয় বস্তু নিবেদনের দ্বারা অলঙ্কৃত কর।। (২৭০) হে ইন্দ্র, অধম ধন তোমারই; মধ্যপ ধনও তুমি পালন কর; বিশ্বের পরমধনে তুমিই বিরাজ কর। রশ্মিসমূহের দ্বারাই তুমি এ সমস্ত কর আর সে বিষয়ে তোমাকে কেঊ বাধা দিতে পারে না।। (২৭১) হে বহুজনের ত্রাতা ইন্দ্র, তুমি কোথায় গিয়েছ? এখন কোথায় আছো? তোমার মন নানাদিকে। হে সংক্ষুব্ধকারী ধর্মযোদ্ধা, হে দেহপুরবিদারক আত্মা, সামগানকারীরা তোমার উদ্দেশে গান করছেন; তুমি এস।। (২৭২) আমরা আজ এবং কাল বজ্রযুক্ত ইন্দ্রকে যজ্ঞে আপ্যায়িত করবো। আজ এই প্রখ্যাত যজ্ঞে তাঁরই উদ্দেশে অভিষুত সোম অবশ্যই আন, তাঁকে ভূষিত কর।।

সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

পঞ্চম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র (৩ মন্ত্রের দেবতা ইন্দ্র বা বাস্তোস্পতি; ৪ সূর্য, ৯ ইন্দ্রাগ্নী)।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৬ পুরুহন্মা আঙ্গিরস, ২ ভর্গ প্রাগাথ, ৩ ইরিম্বিঠি কাণ্ব, ৪ জমদগ্নি ভার্গব, ৫।৭ দেবাতিথি কাণ্ব, ৮ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি, ৯ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য, ১০ মেধ্য কাণ্ব।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (২৭৩) যো ভাজা চর্ষণীনাং যাতা রথেবিরধ্রিণ্ডঃ। বিশ্বাসাং তরুতা পূতনানাং জ্যেষ্ঠো যো বৃত্রহা গৃণে।।১।। (২৭৪) যত ইন্দ্র ভয়ামহে ততো নো অভয়ং কৃধি। মঘবঞ্ছগ্ধি তব তন্ন ঊতয়ে বি দ্বিষো বি মৃধো জহি।।২।। (২৭৫) বাস্তোস্পতে ধ্রুবা স্থূণাংসত্রং সোম্যানাম্‌। দ্রন্সঃ পুরাং ভেত্তা শশ্বতীনামিন্দ্রো মুনীনাং সখা।।৩।। (২৭৬) বণ্‌মহাঁ অসি সূর্য বলাদিত্য মহাঁ অসি। মহন্তে সতো মহিমা পনিষ্টম মহ্না দেব মহাঁ অসি।।৪।। (২৭৭) অশ্বী রথী সুরূপ ইদ্‌ গোমান্‌ যদিন্দ্র তে সখা। শ্বাত্রভাজা বয়সা সচতে সদা চন্দ্রৈর্যাতি সভামুপ।।৫।। (২৭৮) যদ্‌ দ্যাব ইন্দ্র তে শতং শতং ভূমীরুত স্যুঃ। ব ত্বা বজ্রিন্‌ৎসহস্রং সূর্যা অনূ ন জাতমষ্ট রোদসী।।৬।। (২৭৯) যদিন্দ্র প্রাগপাণ্ডদংন্যগ্‌বা হূয়সে নূভিঃ। সিমা পুরূ নৃযূতো অস্যানবেহসি প্রশর্ধ তুর্বশে।।৭।। (২৮০) কস্তমিন্দ্র ত্বা বসবা মর্ত্যা দধর্ষতি। শ্রদ্ধা হি তে মঘবন্‌ পার্যে দিবি বাজী বাজং সিষাসতি।।৮।। (২৮১) ইন্দ্রাগ্নী অপাদিয়ং পূর্বাগাৎ পদ্বতীভ্যঃ। হিত্বা শিরো জিহ্বয়া রারপচ্চরৎ ত্রিংশৎ পদা ন্যক্রমীৎ।।৯।। (২৮২) ইন্দ্র নেদীয় এদিহি মিতমেধাভিরূতিভিঃ। আ শন্তম শন্তমাভিরভিষ্টিভিরা স্বাপে স্বাপিভিঃ।।১০।।

অনুবাদঃ (২৭৩) যিনি মানুষের রাজা, রশ্মিসহায়ে অপ্রতিহতগতিযুক্ত ও পুনঃ পুনঃ ভ্রমণকারী, যিনি সকল সংগ্রামে ত্রাণকর্তা সেই শ্রেষ্ঠ ও বৃত্রহননকারী ইন্দ্রকে স্তব করি। (২৭৪) হে ইন্দ্র, যা থেকে আমরা ভয় পাই তা থেকে আমাদের অভয় কর। হে মঘবা, তুমি ক্ষমতাশালী, আমাদের রক্ষার জন্য তোমার সামর্থ্যের দ্বারা হিংসাকারী শত্রুদের বিনাশ কর। (২৭৫) হে গৃহপালক দেবতা, সোমযজ্ঞকারীদের সোমযজ্ঞরূপ স্তম্ভকে দৃঢ় ও অবিচল কর। (পরমাত্মা) ইন্দ্র সকল দেহ ভেদ করে প্রবেশ করে প্রতি জীবদেহে বিন্দুবৎ (আত্মারূপে) অবস্থান করেন, তিনি মুনিগণের সখা।। (২৭৬) হে সূর্য, তুমি সত্যই মহান; হে আদিত্য, তুমি সত্যই মহান; তোমাকে লক্ষ্য করে যে মহাসঙ্গীত তা’ তোমারই মতই মহান; হে দেব, বৃষ্টি প্রভৃতি দানরূপ মহৎ কর্মের দ্বারা তুমি মহান হয়েছ।। (২৭৭) হে ইন্দ্র, যাঁরা তোমার সখা তাঁরা ব্যাপ্তিযুক্ত, পৌরুষযুক্ত রূপবান ও জ্ঞানবান; তারা সর্বদা পাখীর মত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে গমন করেন এবং সভাস্থলে চন্দ্রের মতন স্নিগ্ধকান্তিযুক্ত হয়ে শোভিত হন।। (২৭৮) হে ইন্দ্র, দ্যুলোক এবং পৃথিবী যদি শতশতও হয় তবু তারা তোমার মহিমা প্রকাশ করতে পারে না। হে বজ্রধারী, সহস্র সূর্যও তোমাকে প্রকাশ করতে পারে না; যারা জন্মেছে তারা, এবং দ্যুলোক ও পৃথিবী কেহই তোমাকে ব্যাপ্ত করতে পারে না।। (২৭৯) হে ইন্দ্র, যখন তুমি পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ সকল দিকের সকল মানুষের দ্বারা আহূত হও তখন উদ্যোগী সেই সকল মানুষের যজ্ঞকর্মের কাছে তাদের প্রীতির জন্য তুমি উপস্থিত থাক।। (২৮০) হে ইন্দ্র, কোন্‌ মানুষ তোমার ধনকে অতিক্রম করতে পারে? হে মঘবা, যাঁরা তোমার প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাঁরাই ঊর্ধ্বে দ্যুলোকস্থিত অন্ন-বল-বাক্‌রূপ ধনকে লাভ করতে পারেন।। (২৮১) হে ইন্দ্র ও অগ্নিদেব, এই সেই ঊষা যিনি পাদরহিত হয়েও পাদযুক্ত প্রাণিবর্গের নিদ্রা ত্যাগ করিয়ে মস্তক উত্তোলন করাচ্ছেন, তারা এখন কথা বলতে আরম্ভ করেছে; আর এইভাবেই ঊষাদেবী প্রতিদিন তিরিশ পা অতিক্রম করেন। (২৮২) হে ইন্দ্র, কাছে এস সকল প্রজ্ঞা ও কল্যাণের সঙ্গে। হে অতি সুখপ্রদ, সকল সুখ ও অভিলষিত বস্তুর সঙ্গে এবং নিদ্রাকালে আত্মার অতীন্দ্রিয় সুখানুভূতির সঙ্গে এস। [স্বাপ=নিদ্রা]। স্বাপেভিঃ স্বাপম্‌=নিদ্রাজনিত আত্মার নির্গুণ অতিন্দ্রিয় সুখ (শ্রীধর – ভাগবত ৬।১৬।৫৫)।

সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

ষষ্ঠ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র (৫ মন্ত্রের দেবতা অশ্বিদ্বয়)।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ নৃমেঘ আঙ্গিরস, ২।৩ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি, ৪ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য (ঋগ্বেদে শংযু বার্হস্পত্য), ৫ পরুচ্ছেপ দৈবদাসি, ৬ বামদেব গৌতম, ৭ মেধ্যাতিথি কান্ব, ৮ ভর্গ প্রাগাধ, ৯।১০ মেধাতিথি ও মেধ্যাতিথি কাণ্ব।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (২৮৩) ইত ঊতী বো অজরং প্রহেতারমপ্রহিতম্‌। আশুং জেতারং রথীরমমতূর্তং তুগ্রিয়াবৃধম্‌।।১।। (২৮৪) মো যু ত্বা বাঘতশ্চ নারে অস্মন্নি রীরমন্‌। আরাত্তাদ, বা সধমাদ ন আ গহীহ বা সন্নুপ শ্রুধি।।২।। (২৮৫) সুনোত সোমপাব্‌নে সোমমিন্দ্রায় বজ্রিণে। পচতা পক্তীরবসে কৃণুধ্বমিৎ পৃণন্নিৎ পৃণতে ময়ঃ।।৩।। (২৮৬) যঃ সত্রাহা বিচর্ষণিরিন্দ্রং তং হূমহে বয়ম্‌। সহস্রমন্যো তুবিনূম্‌ণ সৎপতে ভবা সমৎসু নো বৃধে।।৪।। (২৮৭) শচীভির্নঃ শচীবসূ দিবা নক্তং দিশস্বতম্‌। মা বাং রাতিরুপ দসৎ কদাচনাস্মদ্রাতিঃ কদাচন।।৫।। (২৮৮) যদা কদা চ মীঢ়ুষে স্তোতা জরেত মর্ত্যঃ। আদিদ্‌ বন্দেত বরুণং বিপা গিরা ধর্তারং বিব্রতানাম্‌।।৬।। (২৮৯) পাহি গা অন্ধসো মদ ইন্দ্রায় মেধ্যাতিথে। যঃ সম্মিশ্লো হর্যোর্যো হিরণ্যয়ঃ।।৭।। (২৯০) উভয়ং শৃণবচ্চ ন ইন্দ্রো অবাগিদং বচঃ। স্ত্রাচ্যা মঘবান্‌ৎ সোমপীতয়ে ধিয়া শবিষ্ঠ আ গমৎ।।৮।। (২৯১) মহে চ ন ত্বাদ্রিবঃ পরা শুল্কায় দীয়সে। ন সহস্রায় নাযুতায় বজ্রিবো ন শতায় শতামঘ।।৯।। (২৯২) বস্যাং ইন্দ্রাসি মে পিতুরুত ভ্রাতুরভুঞ্জতঃ মাতা চ মে ছদয়থঃ সমা বসো বসুত্বনা রাধসে।।১০।।

অনুবাদঃ (২৮৩) তোমাদের মঙ্গলের জন্য তোমরা জরারহিত (অবিনাশী), সংবৎসরচক্রের প্রবর্তক, অপ্রতিহত, ক্ষিপ্রগামী, জয়শীল, যজ্ঞ নির্বাহক, অহিংস, জলবর্ধক ইন্দ্রের পথে চল (=সত্যপথে চল)।। (২৮৪) হে ইন্দ্র, তুমি উদকের দ্বারা সমস্ত হবির প্রভু; আমাদের থেকে দূরে অবস্থিত উদকবহনকারী রশ্মিগণই যেন তোমার সঙ্গে বারবার আনন্দে মত্ত না থাকে। আমাদের সঙ্গে আনন্দে মত্ত হবে বলে, হে ইন্দ্র, তুমি কাছে এস; আমাদের প্রার্থনা শোন।। (২৮৫) যিনি জলরাশি পালনের দ্বারা সকল দ্রব্যকেই সিদ্ধবস্তুতে পরিণত করেন সেই বজ্রধারী সোমরক্ষক ইন্দের উদ্দেশে সোমরস প্রস্তুত কর ও নিবেদন কর; তিনিই প্রীত হয়ে সুখ দান করবেন।। (২৮৬) যিনি বিধ্ননাশক ও সর্বদর্শী সেই ইন্দ্রকে আমরা ডাকি। হে অশেষ ক্ষমতাশালী, অতুলবিত্ত, সৎকর্মা ইন্দ্র, তুমি আমাদের বৃদ্ধির জন্য আমাদের সকল প্রয়াসে থাক।। (২৮৭) হে জ্ঞান-কর্ম-বাক্যরূপ ধনের অধিপতি অশ্বিদ্বয় (=অহোরাত্র অথবা দেশ ও কাল), তোমরা দুজন জ্ঞান-কর্ম-বাক্যের দ্বারা দিবারাত্র আমাদের অনুগ্রহ কর। তোমাদের দুজনের দান যেন কখনও ক্ষয় না হয়, আমাদের দানও যেন কখনও নিঃশেষ না হয়।। (২৮৮) যখন যে সময়ে স্তুতিশীল মানুষ মুক্তহস্তে দানকারী দেবতার উদ্দেশে গান করতে চায় তখনই সে সকল ব্রতকর্মের ধারক বরুণদেবের (=সূর্যের) উদ্দেশে নিবিষ্টচিত্তে গান করুক।। (২৮৯) হে মেধাতিথি যিনি (বৃষ্টিদানের জন্য উদক ও বিদ্যুতের মিশ্রণকর্তা, যিনি হিরণ্যবর্ণ ব্রজধারী সেই হিরণ্যরূপ আনন্দে মত্ত ইন্দ্রের দান অন্ন-ধনকে রক্ষা কর।। (২৯০) ইন্দ্র আমাদের মুখের বাণী ও অন্তরের বাণি শ্রবণ করুন। আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অতিদাতা অতিবল ইন্দ্র কর্ম ও প্রজ্ঞাসহায়ে সোমপানের জন্য আসুন।। (২৯১) হে মেঘবিদারণকারী ইন্দ্র, তোমার মহৎ দান শুল্কের (=মূল্যের) বিনিময়ে পাওয়া যায় না, হে বজ্রহস্ত, হে শতধন, শত-সহস্র-অযুত দানের বিনিময়েও নয়।। (২৯২) হে ইন্দ্র, তুমি আমার পিতা ও ভ্রাতা অপেক্ষা অনেক উদার ও ধনসম্পন্ন। হে বসু, তুমি মায়ের মত এবং সংবৎসররূপে আমাকে সর্বসিদ্ধিকর ধনে আচ্ছাদিত কর।।

সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

সপ্তম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র (৭ মন্ত্রের দেবতা বহু)।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি, ২।৬।৭। বামদেব গৌতম, ৩ মেধাতিথি ও মেধ্যাতিথি কাণ্ব অথবা বিশ্বামিত্র, ৪ নোধা গৌতম, ৫ মেধাতিথি কাণ্ব (ঋগ্বেদে মেধ্যাতিথি), ৮ শ্রুষ্টিণ্ড কাণ্ব (বালখিল্য); ৯ মেধ্যাতিথি বা মেধাতিথি কাণ্ব, ১০ নৃমেধ আঙ্গিরস।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (২৯৩) ইম ইন্দ্রায় সুন্বিরে সোমাসো দধ্যাশিরঃ। তাঁ আ মদায় বজ্রহস্ত পীতয়ে হরিভ্যাং যাহ্যোক আ।।১।। (২৯৪) ইম ইন্দ্র ইন্দ্র মদায় তে সোমাশ্চিকিত্র উক্‌থিনঃ। মধোঃ পপান উপ নো গিরঃ শৃণু রাস্ব স্তোত্রায় গির্বণঃ।।২।। (২৯৫) আ ত্বাতদ্য সবর্দুঘাং হুবে গায়ত্রবেপসম। ইন্দ্রং ধেনুং সুদুঘামন্যামিষমুরুধারামস্কৃতম্‌।।৩।। ন ত্বা বৃহন্তো অদ্রয়ো বরন্ত ইন্দ্র বীডবঃ। যচ্ছিক্ষসি স্তুবতে মাবতে বসু ন কিষ্টদা মিনাতি তে।।৪।। (২৯৭) ক ঈং বেদ সুতে সচা পিবন্তং কদ্‌ বয়ো দধে। অয়ং যঃ পুরো বি ভিনত্যোজসা মন্দানঃ শিপ্র্যন্ধসঃ।।৫।। (২৯৮) যদিন্দ্রো শাসো অব্রতং চ্যাবয়া সদসস্পরি। অস্মাকমংশুং মঘবন্‌ পুরুস্পৃহং বসব্যে অদি বর্হয়।।৬।। (২৯৯) ত্বষ্টা নো দৈব্যং বচঃ পর্জন্যো ব্রহ্মণস্পতিঃ। পুত্রৈর্ভ্রাতৃভি রদিতির্নু পাতু নো দুষ্টরং ত্রামণং বচঃ।।৭।। (৩০০) কদা চন স্তরীরসি নেন্দ্র সশ্চসি দাশুষে। উপোপেনু মঘবন্‌ ভূয় ইন্দু তে দানং দেবস্য পৃচ্যতে।।৮।। (৩০১) যুঙ্‌ক্ষ্বা হি বৃত্রহস্তম হরী ইন্দ্র পরাবতঃ। অর্বাচীনো মঘবন্‌ৎ সোম পীতয় উগ্র ঋম্বেভিরাগহি।।৯।। (৩০২) ত্বামিদা হ্যো নরোহপীপ্যন্‌ বজ্রিন্‌ ভূর্ণয়ঃ। স ইন্দ্র স্তোমবাহস ইহ শ্রুধ্যূপ স্বসরমাগহি।।১০।।

অনুবাদঃ (২৯৩) এই সবল দধিমিশ্রিত সোমরস ইন্দ্রের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। হে বজ্রহস্ত ইন্দ্র, তুমি সেই সোমপানের জন্য আনন্দে মত্ত হয়ে অশ্বরশ্মিগণের সঙ্গে স্বস্থান হতে (অথবা আমাদের গৃহে) এস।। (২৯৪) হে ইন্দ্র, অভিজ্ঞ স্তোতারা তোমার হর্ষের জন্য এই সোমরস প্রস্তুত করেছেন। হে স্তুতিপ্রিয় ইন্দ্র, মধু পান কর, আমাদের স্তোত্র শোন, স্তোতার স্তুতিতে আনন্দশব্দ কর।। (২৯৫) সোমরূপ দুগ্ধের নিষ্কাষণকারী, গায়ত্র-সঙ্গীতে হর্ষান্বিত, ধেনুর মত সুদোহনকারী, বহুধারায় বারিবর্ষণের দ্বারা শোভিত ইন্দ্র তোমাকে আজ আমরা আহ্বান জানাই।। (২৯৬) হে ইন্দ্র, বিশাল ও দৃঢ় পর্বতসকলও তোমাকে বাধা দিতে পারে না; যখন তুমি আমার মত স্তোতাকে ধন দাও তখন কেহ হিংসা করতে পারে না। (২৯৭) অভিষুত সোমপানকারীকে কে-ই বা জানে, কেবা অন্ন ধারণ করে? ইনি সেই (ইন্দ্র পরমাত্মা) যিনি বলসহায়ে দেহপুর ভেদ করে প্রবেশ করেন, যিনি উদকবান ও সোমাখ্য অন্নে পরিতৃপ্ত।। (২৯৮) হে ইন্দ্র তুমি শাসনকর্তা বলে’ অব্রতকে (=তোমা কর্তৃক প্রবর্তিত কর্মচক্র ব্রতকে যে মানে না) যজ্ঞকর্ম থেকে দূরে নিক্ষেপ করে থাক। হে মঘবা, (আমরা ব্রতধারী) আমাদের বহু কাম্য সোমকে অধিক ধনের জন্য বর্ধিত কর।। (২৯৯) ত্বষ্টা, পর্জন্য এবং ব্রহ্মণপতিদেব আমাদের দিব্যবাণীকে গ্রহণ করুন। আমাদের এই অজেয় রক্ষণীয় স্তোত্রবাক্যের দ্বারা অদীনা অক্ষয়া ঐশীশক্তি মাতা অদিতি আমাদের পুত্র-ভ্রাতাসহ রক্ষা করুন।। (৩০০) হে ইন্দ্র, তুমি ভক্তের প্রতি (=তোমাকে যে হব্যদান করে তার প্রতি) কখনও ক্রুদ্ধ হও না, তুমিও তার সঙ্গে মিলিত হও। হে ধনবান, দেবতা তুমি তোমার ভূরি ভূরি দান ভক্তের কাছে এসে মিলিত হয়।। (৩০১) হে বৃত্রহত্যাকারী ইন্দ্র, তোমার সব হরণকারী অশ্বদুটিকে (=দেশ ও কালকে) একসঙ্গে যুক্ত কর। হে উগ্রবল, হে মঘবা, দূরদেশ থেকে শোভন মরুদ্‌গণের সঙ্গে (=প্রাণবায়ুর সঙ্গে) সোমপানের জন্য আমাদের কাছে এস।। (৩০২) তোমাকে, হে বজ্রধারী ইন্দ্র, কর্মব্যস্ত যজ্ঞনেতারা (অথবা নৃত্যশালী রশ্মিগণ) কাল ও আজ সোমপান করিয়েছেন। সেই ইন্দ্র সামগানকারীদের গান শুনুন তাঁদের গৃহে আসুন।।

সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

অষ্টম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১ ঊষা; অশ্বিদ্বয়; ৪-১০ ইন্দ্র (ঋগ্বেদে ৪ মন্ত্রের দেবতা অশ্বিদ্বয়)।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।২।৭।।৮ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি, ৩ বৈবস্বত অশ্বিদ্বয়, ৪ প্রস্কন্ব কাণ্ব, ৫ মেধাতিথি-মেধ্যাতিথি কাণ্ব, দেবাতিথি কাণ্ব, ৯ নৃমেধ আঙ্গিরস, ১০ নোধা গৌতম।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (৩০৩) প্রত্যু আদর্শ্যায়ত্যুতচ্ছন্তী দুহিতা দিবঃ। অপো মহী বৃণুতে চক্ষুষা তমো জ্যোতিস্কৃণোতি সূনরী।।১।। (৩০৪) ইমা ঊ বাং দিবিষ্টয় উস্রা হবন্তে অশ্বিনা। অয়ং হাষ্মহেবহবসে শচীবসু বিশং বিশং হি গচ্ছথঃ।।২।। (৩০৫) কুষ্ঠঃ কো বামশ্বিনা তপানো দেবা মর্ত্যঃ। ঘ্নতা বামশ্ময়া ক্ষপমাণোংশুনেত্থমু আদ্বন্যথা।।৩।। (৩০৬) অয়ং বাং মধুমত্তমঃ সুতঃ সোমো দিবিষ্টিষু। তমশ্বিনা পিবভং তিরো অহ্ন্যং ধত্তং রত্নানি দাশ্বষে।।৪।। (৩০৭) আ ত্বা সোমস্য গল্‌দয়া সদা যাচন্নহং জ্যা। ভূর্ণিং মৃগং ন সবনেষু চুক্রুধং ক ঈশানং ন যাচিষৎ।।৫।। (৩০৮) অধ্বর্যো দ্রাবয়া ত্বং সোমমিন্দ্রঃ পিপাসতি। উপো নূনং যুযুজে বৃষণা হরী আ চ জগামি বৃত্রহা।।৬।। (৩০৯) অভীষতস্তদা ভরেন্দ্র জ্যায়ঃ কনীয়সঃ। পুরূবসুর্হি মঘবন্‌ বভুবিত্থ ভরভরে চ হব্যঃ।।৭।। (৩১০) যদিন্দ্র যাবতস্তুমেতাবদহমীশীয়। স্তোতারমিদ্‌ দধিষে রদাবসো ন পাপত্বায় রংসিষম্‌।।৮।। (৩১১) ত্বমিন্দ্র প্রতূর্তিস্বভি বিশ্বা অসি স্পৃধঃ। অশস্তিহা জনিতা বৃত্রতূরসি ত্বং তূর্য তরুষ্যতঃ।।৯।। প্র যো রিরিক্ষ ওজসা দিবঃ সদ্যেভ্যস্পরি। ন ত্বা বিব্যাচ রজ ইন্দ্র পার্থিবমতি বিশ্বং ববক্ষিথ।।১০।।

অনুবাদঃ (৩০৩) অন্ধকার নাশ করতে করতে দ্যুলোকের দুহিতা আসছেন। তিনি সকলকে দেখা দিলেন। ঊষা জ্ঞানলোকের দ্বারা তমোনাশ করে জ্যোতি বিস্তার করেন; আর বিপুল জলরাশিকে বরণ করেন।। (৩০৪) হে অশ্বিদ্বয়, এই দ্যুলোকগামী রশ্মিগণ তোমাদের দুজনকেই আহ্বান করে। কর্ম, প্রজ্ঞা ও বাক্যরূপ সম্পদের অধিকারী, হে অশ্বিদ্বয় তোমরা প্রতি মানুষের গৃহেই গমন করে থাক; এরূপ যোগ্যতাসম্পন্ন তোমাদের দুজনকে আমি আমার রক্ষণের জন্য আহ্বান করি। [অশ্বিদ্বয়=দেশ ও কাল। কালই অশ্ব বা রশ্মি যা সব কিছু বহন করে (অথর্ববেদ)। রশ্মিগণ দেশ ও কালের সঙ্গে যুক্ত (-অশ্বিদ্বয়ের সঙ্গে যুক্ত)। এই দেশ ও কালের মধ্যেই কর্ম, প্রজ্ঞা ও বাক্য নিহিত থাকে; ভূত, ভবিষ্যৎ, বর্তমান দেশ ও কালের অধীন]।। (৩০৫) হে অশ্বিদ্বয়, হে দেবদ্বয়, পৃথিবীতে অবস্থিত কৃচ্ছ্রতাসাধনে রত কোন্‌ মানুষ তোমাদের মত তপস্যাকারী? কৃচ্ছ্রতাসাধক যেমন অভিমত অন্ন ভোজনের দ্বারা তৃপ্ত হন, তোমরাও সেইভাবে রশ্মিদ্বারা তাড়িত হয়ে রশ্মিদ্বারাই ব্যাপ্ত হও (=তৃপ্ত হও)।। (৩০৬) স্বর্গলোক কামনা করে তোমাদের উদ্দেশে এই যে উত্তম মধুময় সোম প্রস্তুত হয়েছে, হে অশ্বিদ্বয়, গতকালের প্রস্তুত (-অশ্বিদ্বয়ের যাগ ভোররাত্রে শেষ হয়, এইজন্য পূর্বদিনে প্রস্তুত সোম অশ্বিদ্বয়ের উদ্দেশে নিবেদিত হয় থাকে) সেই উত্তম সোমকে পান কর আর সোমদানকারীর (=যজমানের) জন্য রমণীয় ধন ধারণ কর।। জয় সম্পাদনকারী সোমরসের ধারা নিবেদন করে’ সর্বদাই আমি তোমাকে ডাকি। বন্যপশুর মত ভ্রমণশীল প্রচণ্ড সেই ঈশানের কাছে (=সূর্যের কাছে) তিনবেলা (সবনেষু=প্রাতঃ, মধ্যাহ্ন ও সায়াহ্ন – তিনবেলার যজ্ঞকর্ম) কে না যাঙ্ঞা করে? (৩০৮) ইন্দ্র সোমপানের ইচ্ছা করছেন; হে অধ্বর্যু (=যিনি যজ্ঞকর্ম সম্পন্ন করান) শীঘ্র কর। বৃত্রহা (=মেঘবিদারণকারী ইন্দ্র) এসেছেন, আর নিজের সঙ্গে যুক্ত করেছেন বর্ষণশীল দুই অশ্বকে (রসহরণকারী রশ্মিকে)।। (৩০৯) হে ইন্দ্র, ক্ষুদ্র ও বৃহৎ রশ্মিসকলকে আন; সকলদিকে তাদের ব্যাপ্ত কর। হে বহুধন, তুমি চিরদিনই বহু ঐশ্বর্যশালী এবং প্রচুর হব্যেরও ঈশ্বর।। (৩১০) হে ইন্দ্র, তোমার যত ধনসম্পদ আছে যদি তা’ আমার থাকতো তবে আমি স্তোতাকে (=ঈশ্বরভক্তকে) দান করতাম; আপাত রমণীয় পাপকর্মের জন্য ধন ব্যয় করতাম না।। (৩১১) হে ইন্দ্র, তুমি প্রকৃষ্ট্‌ গতিকে বিশ্বের সকল স্পর্ধমানকে অভিভূত কর; তুমি কোপনস্বভাব ও অজ্ঞানরূপ অন্ধকার নাশ করে থাক; তুমি বিশ্বের উৎপাদয়িতা, ত্রাণকর্তা। [বৃত্র=মেঘের শরীর। তা’ বিদীর্ণ করলেই জীবের প্রাণধন জল পাওয়া যায় বলে’; বৃত্রের সঙ্গে অজ্ঞান অন্ধকারের তুলনা করা হয়ে থাকে]।। (৩১২) হে ইন্দ্র, যে তুমি দ্যুলোকে আকাশের সকল স্তরের ওপরে থেকে জ্যোতির দ্বারা ব্যাপ্ত হয়ে রয়েছ সেই তোমাকে পার্থিব ধন ব্যাপ্ত করতে পারে না; তুমি বিশ্বকে অতিক্রম করে সকলভার বহন করে চলেছ।।

সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

নবম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র (ঋগ্বেদে ৫ মন্তের দেবতা ইন্দ্রবৈকুণ্ঠ; ৮ মন্ত্রের দেবতা বেন)।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ত্রিষ্টুপ্

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।২।৬। বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি, ৩ গাতু আত্রেয় অথবা গৃৎসমদ্‌ ৪ পৃথু বৈন্য, ৫ সপ্তগু আঙ্গিরস, গৌরিবীতি শাক্ত্য, ৮ বেন ভার্গব, ৯ বৃহস্পতি বা নকুল, ১০ সুহোত্র ভারদ্বাজ।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (৩১৩) অসাবি দেবং গোঋজীকমন্ধো ন্যস্মিন্নিন্দ্রো জনুষেমুবোচ। বোধামসি ত্বা হর্যশ্ব যজ্ঞৈর্বোধা ন স্তোমমন্ধসো মদেষু।।১।। (৩১৪) যোনিষ্ট ইন্দ্র সদনে অকারি তমা নৃভিঃ পুরূহূত প্র যাহি। অসো যথা নোহবিতা বৃধশ্চিদ্‌দদো বসূনি মমদশ্চ সোমৈঃ।।২।। (৩১৫) অদর্দরুৎসমসৃজো বি খানি ত্বমর্ণবান্‌ বদ্ধধানাঁ অরম্‌ণাঃ। মহান্তমিন্দ্র পর্বতং বি যদ্‌ বঃ সৃজদ্‌ধারা অব যদ্‌ দানবান্‌ হন্‌।।৩।। (৩১৬) সুম্বাণাস ইন্দ্র স্তুমসি ত্বা সনিষ্যন্তমিন্দ্র তুবিনৃম্‌ণ বাজম্‌। আ নো ভর সুবিতং যস্য কোনা তনা ত্মনা সহ্যামত্বোতাঃ।।৪।। (৩১৭) জগৃহ্‌মা তে দক্ষিণমিন্দ্র হস্তং বসূয়বো বসুপতে বসূনাম্‌। বিদ্মা হি ত্বা গোপতিং শূর গোনামস্মভ্যং চিত্রং বৃষণং রয়িং দাঃ।।৫।। (৩১৮) ইন্দ্রং নরো নেমধিতা হবন্তে যৎপার্যা যুনজতে ধিয়স্তাঃ।। শূরো নৃষাতা শ্রবসশ্চ কাম আ গোমতি ব্রজে ভজা ত্বং নঃ।।৬।। (৩১৯) বয়ঃ সুপর্ণা উপ সেদুরিন্দ্রং প্রিয়মেধা ঋষয়ো নাধমানাঃপ ধ্বান্তমূর্ণুহি পূর্ধি চক্ষুর্মুমুগ্ধতস্মান্‌ নিধয়েব বদ্ধান্‌।।৭।। (৩২০) নাকে সুপর্ণমুপ যৎ পতন্তং হৃদা বেনন্তো অভ্যচক্ষত ত্বা। হিরণ্যপক্ষং বরুণস্য দূতং যমস্য যোনৌ শকুনং ভুরণ্যুম্‌।।৮।। ব্রহ্ম জজ্ঞানং প্রথমং পুরস্তাদ্‌বি সীমতঃ সুরুচো বেন আবঃ। স বুধ্ন্যা উপমা অস্য বিষ্ঠাঃ সতশ্চ যোনিমসচশ্চ বিবঃ।।৯।। (৩২২) অপূর্ব্যা পুরুতমান্যস্মৈ মহে বীরায় তবসে তুরায়। বিরপ্‌শিনে বজ্রিণে শন্তমানি বচাংস্যস্মৈ স্থবিরায় তক্ষুঃ।।১০।।

অনুবাদঃ (৩১৩) দীপ্ত ঋজু রশ্মির সঙ্গে জল মিশ্রিত হলে তা’ হতে ইন্দ্র (=বজ্র) উৎপন্ন হন [রশ্মি জল আকর্ষণ করে। তা হতে মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। বিদ্যুৎ বা বজ্রই ইন্দ্র]। হে হর্যশ্ব (=রসহরণকারী রশ্মির অধিপতি), তোমাকে যজ্ঞের দ্বারা প্রবুদ্ধ করি; সোমরসে মত্ত হয়ে (=বারিরাশি প্রাপ্ত হয়ে) আমাদের স্তোত্র হৃদয়ঙ্গম কর।। (৪১৩) হে ইন্দ্র, তুমি জলের দ্বারা সম্পাদিত হয়ে জলমধ্যে অবস্থান কর; সেই তুমি বহুমানুষের দ্বারা প্রকৃষ্টরূপে আহূত, তুমি এস। যেহেতু তুমি আমাদের রক্ষক ও বর্ধক সুতরাং সোমের দ্বারা মত্ত হয়ে আমাদের ধন দান কর।। (৩১৫) হে ইন্দ্র, তুমি জলের উৎস মেঘকে বিদীর্ণ করেছ, জলের নির্গমন দ্বারসমূহ উদ্‌ঘাটিত করেছ, জলভারে পীড়িত মেঘকে উন্মুক্ত করেছ। তুমি অতীতেও বিপুলাকৃতি মেঘকে উদ্‌ঘাটিত করে জলধারা পাতিত করেছ, জলপ্রদাতা মেঘকে নিহত করেছ।। (৩১৬) প্রচুর অন্ন-বলের ঈশ্বর হে ইন্দ্র, ধনলাভেচ্ছু সোমপ্রস্তুতকারী আমরা তোমাকে বাক্‌-অন্ন বলের জন্য স্তব করি। আমাদের জন্য যে কর্ম তোমার নিজের অভিপ্রেত তা’ তুমি দাও; তোমার দ্বারা রক্ষিত হয়ে আমরা তা’ লাভ করে প্রীত হবো।। (৩১৭) বসুরূপ সম্পদের অধিপতি হে ইন্দ্র, বসুরূপ ধন কামনা করে উৎসাহযুক্ত হয়ে তোমার দক্ষিণহস্ত ধারণ করলাম। [দক্ষিণহস্ত=উৎসাহযুক্ত (নিরুক্ত)]। হে শূর, তুমি রশ্মিরূপ গোধনের স্বামী, তোমাকে আমরা জানি। কিরণরাশির সহায়ে বিচিত্র বর্ষণকারী ধনসমূহ তুমি আমাদের জন্য প্রদান কর। [বৃষ্টিধন সকল সম্পদের কারণ]।। (৩১৮) মানুষেরা যখন জীবনসংগ্রামে অন্নের জন্য মনোযোগ সহকারে এবং সাফল্যের সঙ্গে নিজেকে নিযুক্ত করে তখন তারা ইন্দ্রকেই ডাকে। (হে ইন্দ্র) তুমি বীর; মানুষের জন্য উজ্জ্বল ক্ষিপ্রগতিযুক্ত হয়ে বিদ্যুৎপূর্ণ মেঘে অবস্থিত ধনসম্পদকে (=বারিরাশিকে) আমাদের মধ্যে বিভাগ করে দাও।। (৩১৯) গমনশীল, যজ্ঞপ্রিয়, দর্শনকারী আদিত্য রশ্মিসমূহ যাচ্‌ঞাপরায়ণ হয়ে ইন্দ্রের নিকট (=সূর্যের নিকট) উপস্থিত হয়ে পার্থনা করলো – হে ইন্দ্র, অন্ধকার দূর কর, জ্ঞান প্রসারিত কর (অথবা চক্ষু আলোকপূর্ণ কর), পাশবদ্ধের মত অবস্থিত আমাদের মুক্ত কর।। (৩২০) হে বেন (=হে ইন্দ্র), যখন তুমি দ্যুলোকে উড়ন্ত পাখীর মত অনস্থান কর তখন তোমাকে সকলে এইরূপেই দর্শন করে হৃষ্ট হয়। তোমার ডানা সুবর্ণময় তুমি বরুণের দূত, দ্যুলোকের সংযোগকারী শক্তির আধার, অতি উচ্চে শকুনের মত অবস্থান করেও জগতের ভরণপোষণকারী।। (৩২১) ব্রহ্ম জাত হয়ে প্রথমে পূর্বদিকের সীমায় সুদীপ্তিশালী বেনকে (=সূর্যকে) ধারণ করলেন। সেই ব্রহ্মের উপমা অন্তরিক্ষ (=ব্রহ্ম আকাশের মতই অনন্ত), এঁর অবস্থান বিবিধপ্রকার, ইনি ব্যক্ত ও অব্যক্ত জগতের কারণস্বরূপ।। (৩২২) যাঁর তুল্য শক্তিমান পূর্বে দেখা যায় নি, যিনি সর্বাপেক্ষা শক্তিমান, সেই শীঘ্রগতিযুক্ত, স্তবার্হ, শব্দকারী, বজ্রযুক্ত, সুখদায়ক স্থিরপ্রজ্ঞ, মহান বীর ইন্দ্রের উদ্দেশে বাক্যের দ্বারা স্তবমালা রচনা করি।।

সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

দশম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৯

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ১-৫, ৭-৯ ত্রিষ্টুপ্‌, ৬ বিরাট।।

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।২।৪ দ্যুতান মারুত (ঋগ্বেদে তিরশ্চী আঙ্গিরস), ৩ বৃহদুক্‌থ, বামদেব্য, ৫ নামদেব গৌতম, ৬।৮ বসিষ্ট মৈত্রাবরুণি, ৭ গাথি বিশ্বামিত্র, ৯ গৌরিবীতি শাক্য।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (৩২৩) অব দ্রপ্‌সো অংশুমতীমতিষ্ঠদীয়ানঃ কৃষ্ণো দশভিঃ সহস্রৈঃ। আবত্তমিন্দ্রঃ শচ্যা ধমন্তমপ স্নীহিতিং নৃমণা অধদ্রাঃ।।১।। (৩২৪) বৃত্রস্য ত্বা শ্বসথাদীষমাণা বিশ্বে দেবা অজহুর্ষে সখায়ঃ। মরুদ্ভিরিন্দ্র সখ্যং তে অস্তথেমা বিশ্বাঃ পৃতনা জয়াসি।।২।। (৩২৫) বিধুং দদ্রাণং সমনে বহূনাং যূবানং সন্তং পলিতো জগার। দেবস্য পশ্য কাব্যং মহিত্বাদ্যা মমার স হ্যঃ সমান।।৩।। (৩২৬) ত্বং হ ত্যৎ সপ্তভ্যো জায়মানো শত্রুরিন্দ্র। গূল্‌হে দ্যাবাপৃথিবী অন্দবিন্দো বিভুমদ্‌ভ্যো ভুবনেভ্যো রণং ধাঃ।।৪।। (৩২৭) মেদিং ন ত্বা বজ্রিণং পুরুধস্মানং বৃষভং স্থিরপস্নুম্‌। করোষ্যর্ষস্তরুষীর্দুবস্যুরিন্দ্র দ্যুক্ষং বৃত্রহণোং গৃণীষে।।৫।। (৩২৮) প্র বো মহে মহে বৃধে ভরধ্বং প্রচেতসে প্র সুমতিং কৃণুধ্বম্‌। বিশঃ পূর্বীঃ প্র চর চর্ষণিপ্রাঃ।।৬।। (৩২৯) শূনং হুবেম মঘবানমিন্দ্রমিস্মিন্‌ ভরে বৃতমং বাজসাতৌ। শৃন্বন্তমুগ্রমূতয়ে সমৎসু ঘ্নন্তং বৃত্রাণি সঞ্জিতং ধনানি।।৭।। (৩৩০) উদু ব্রহ্মাণ্যেরত অবস্যেন্দ্রং সমর্ষে মহয়া বসিষ্ঠ। আ যো বিস্বানি শ্রবসা ততানোপশ্রোতা ম ঈবতো বচাংসি।।৮।। (৩৩১) চক্রং যদস্যাপ্‌স্বা নিষত্তমুতো তদস্মৈ মধ্বিচ্চচ্ছদ্যাৎ। পৃথিব্যামতিষিতং যদুধঃ পয়ো গোম্বদধা ঔষধীষু।।৯।।

অনুবাদঃ (৩২৩) সহস্র সহস্র গমনশীল কৃষ্ণ জলবিন্দু (=কালো মেঘ) অংশুমতী নদীকে ঘিরে (অথবা কিরণরাশিকে ঘিরে) ছিল। ইন্দ্র প্রজ্ঞাযুক্ত বলকর্মের দ্বারা সেই মেঘপুঞ্জ থেকে জলরাশি নির্গমনের ব্যবস্থা করে নিম্নাভিমুখে প্রবাহিত করলেন।। (৩২৪) হে ইন্দ্র, যে বিশ্বদেবগণ (=কিরণরাশি) তোমার সখা ছিলেন তাঁরা বৃত্রের (=মেঘের) নিশ্বাসে ভীত হয়ে তোমাকে ত্যাগ করে চলে গেলেন (অর্থাৎ মেঘের আকাশ ছেয়ে গেল বলে কিরণরাশি আর দেখা গেল না)। তখন মরুদ্‌গণের সঙ্গে (=বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে) তোমার সখ্যতা হোল। আর তাতেই তুমি সমস্ত শত্রু জয় করলে (অর্থাৎ বায়ুর দ্বারা তাড়িত হয় মেঘেরা পরাজিত হোল)।। (৩২৫) বহুর সঙ্গে মিলিতভাবে থেকেও একাকী ভ্রমণশীল আদিত্য সর্বগ্রাস করলেন (=অস্তগমনের দ্বারা অন্ধকার সৃষ্টি করলেন); দেবতার অতিক্রান্ত দর্শনের মাহাত্ম্য লক্ষ্য কর; এখন তিনি মৃত হলেন (=অস্তগমন করলেন), যে কাল অতিক্রান্ত হোল তখন তিনি সমস্ত অধিকার করে ছিলেন।। (৩২৬) হে ইন্দ্র, তুমি জন্মলাভ করে (=বিদ্যুৎরূপে জাত হয়ে) সপ্তলোকে অবস্থিত সকল শত্রুর (=মেঘের বা অন্ধকাররূপ শত্রুর) শত্রু (=শাতয়িতা) হলে; তুমি অন্ধকারাবৃত দ্যাব্যাপৃথিবীকে আলোকে নিয়ে এলে আর বিভুময় সকল ভুবনের জন্য আনন্দকে ধারণ করলে।। (৩২৭) হে ইন্দ্র, গর্জনকারী বজ্রধারী সদাকরণশীল প্রজ্ঞাবান বর্ষণকারী সদা অন্নদাতা দ্যুলোকবাসী বৃত্রহন্তা সকল ইন্দ্রিয়ের ঈশ্বর ত্রাণকর্তা শ্রদ্ধাবান তোমাকে স্তব করি।। (৩২৮) তোমাদের মঙ্গলের জন্য তোমরা মহান ইন্দ্রের উদ্দেশে স্তুতি উচ্চারণ কর, তাঁর বর্ধনের জন্য সোম সম্পাদন কর; প্রকৃষ্ট বুদ্ধিসম্পন্ন কল্যাণবুদ্ধিযুক্ত ইন্দ্রকে সুষ্ঠুরূপে স্তব কর। তিনি চিরকাল মানুষের প্রিয়, তাঁকেই চিন্তা কর।। (৩২৯) অন্নের নিমিত্ত সংগ্রামে আমাদের রক্ষার নিমিত্ত যিনি সকল দিক্‌ থেকে শুনতে পান, যিনি বৃত্রমেঘবধরূপ সংগ্রামে জলরূপ ধন আহরণে সদাজয়শীল, যিনি সদা ক্ষিপ্রগতি, স্বীয় কর্মে উগ্র, নৃশ্রেষ্ঠ ধনবান সেই ইন্দ্রকে আমরা আহ্বান করি।। (৩৩০) হে বসিষ্ঠ, এই যজ্ঞে উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে ইন্দ্রের প্রীতি কামনায় মহান স্তোত্রের দ্বারা ইন্দ্রকে স্তব কর। যিনি বিশ্বের ধনকে ব্যাপ্ত করেন তাঁর প্রতি গমনশীল আমার এই স্তুতিবাক্য তিনি শ্রবণ করুন। (৩৩১) অন্তরিক্ষে জলরাশির মধ্যে এঁর (ইন্দ্রের) যে চক্র নিহিত আছে সেই চক্রের দ্বারাই জলরূপ মধুভাণ্ডার ছেদন হয়, আর সেই জমাটবাঁধা জলরাশিকে ছেদন করে পৃথিবীতে গোদুগ্ধরূপে ওষধীরূপে তিনি ধারণ করেন।

সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

একাদশ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৯

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১ তার্ক্ষ্য, ২-৬।৮।১০ ইন্দ্র, ৭ পর্বত ও ইন্দ্র, ৯ যম বৈবস্বত।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ত্রিষ্টুপ

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ অরিষ্টেনেমি তার্ক্ষ্য, ২ ভরদ্বাজ (ঋগ্বেদে গর্গ ভারদ্বাজ), ৩ বিমদ ঐন্দ্র, বসুকৃৎ বা বাসুক (ঋগ্বেদে প্রাজাপত্য), ৪।৫।৯ বামদেব গৌতম (ঋগ্বেদে ৯ যম বৈবস্বত), ৭ গাথি বিশ্বামিত্র, ৮ রেণু বৈশ্বামিত্র, ১০ গোতম রাহুগণ।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (৩৩২) ত্যমু ষু বাজিনং দেবজূতং সহোবানংতরুতারংরথানাম্‌। অরিষ্টনেমিং পৃতনাজমাশুং স্বস্তয়ে তার্ক্ষ্যমিহা হুবেম।।১।। (৩৩৩) ত্রাতারমিন্দ্রমবিতারমিন্দ্রং হবেহবে সুহবঃ শুরমিন্দ্রম্‌। হবে নু শত্রুং পুরুহুতমিন্দ্রমিদং হবির্মঘবা বেত্বিন্দ্রঃ।।২।। (৩৩৪) যজামহ ইন্দ্রং বজ্রদক্ষিণং হরীণাং রথ্যাংতবিব্রতানাম্‌। প্র শ্মশ্রুভির্দোধুবদূর্ধ্বয়া ভূবদ্‌ বি সেনাভির্ভয়মানো বি রাধসা।।৩।। (৩৩৫) সত্রাহণং দাধৃষিং তুম্রমিন্দ্রং মহামপারং বৃষভং সুবজ্রম্‌। হন্তা যো বৃত্রং সনিতোত বাজং দাতা মঘাত্রি মঘবা সূরাধাঃ।।৪।। (৩৩৬) যো নো বনুয্যন্নভিদাতি মর্ত ঊগণা বা মন্যমানস্তুরো বা। ক্ষিধী যুধা শবসা বা তমিন্দ্রাভী ষাম বৃষমণস্তোতাঃ।।৫।। (৩৩৭) যং বৃত্রেষু ক্ষিতয় স্পর্ধমানা যং যুক্তেষু তুরয়ন্তো হবন্তে। যং শূরসাতৌ যমপামুপজ্‌মন্‌ যং বিপ্রাসো বাজয়ন্তে স ইন্দ্রঃ।।৬।। (৩৩৮) ইন্দ্রাপর্বতা বৃহতা রথেন বামীরিষ আবহতং সুবীরাঃ। বীতং হব্যান্যধ্বরেষু দেবা বর্ধেথাং গীর্ভিরিলয়া মদন্তা।।৭।। (৩৩৯) ইন্দ্রায় গিরো অনিশিতসর্গা অপঃ প্রৈরয়ৎ সগরস্য বুধ্নাৎ। যো অক্ষেণেব চক্রিয়ৌ শচীভির্বিষ্বক্তস্তম্ভ পৃথিবীমৃতদ্যাম্‌।।৮।। (৩৪০) আ ত্বা সখায়ঃ সখ্যা ববৃত্যুস্তিরঃ পুরু চিদর্ণবাঁ জগম্যাঃ। পিতুর্নপাতমাদধীত বেধা অস্মিন্‌ ক্ষয়ে প্রতরাং দীধ্যানঃ।।৯।। (৩৪১) কো অদ্য যুঙ্ক্তে ধুরি গা ঋতস্য শিমীবতো ভামিনো দুর্হৃণায়ুন্‌। আসন্নেষামপ্‌সুবাহো ময়োভূন্য এষায় ভৃত্রামৃণধৎস জীবাৎ।।১০।।

অনুবাদঃ (৩৩২) যিনি প্রভূত অন্নবলের অধিকারী, দেবগণের সঙ্গে প্রীতিসম্পন্ন, বলবান্‌, গতিশীল পদার্থসমূহের পরিচালক, অপ্রতিহতবজ্রযুক্ত, সংগ্রামে জয়শীল, শীঘ্রগতিসম্পন্ন সেই অন্তরিক্ষনিবাসী জলপ্রাদানকারী দেবতাকে (=তার্ক্ষ্য=সূর্য) আমাদের কল্যাণের জন্য এই যজ্ঞে আহ্বান করছি। (৩৩৩) যিনি ত্রাণকারী ও অভীষ্টপূরণকারী, যিনি সহজেই প্রতি যজ্ঞকর্মে আহ্বানযোগ্য সেই বীর ইন্দ্রকে আহ্বান করি। বহুজনের দ্বারা আহূত অতিধনদাতা ইন্দ্র দেবতা আমাদের উৎসর্গীকৃত এই হবি গ্রহন করুন। (৩৩৪) বিবিধপ্রকার কর্মের সহিত সম্বন্ধিত সকল বস্তুর হরণকারী রশ্মিসমূহকে যিনি নিজ গমন্‌রথের সহিত যুক্ত করেন, যাঁর রশ্মিসমূহ কম্পমান শ্মশ্রুর মত এবং যিনি সর্বসিদ্ধিকর ধনদানের জন্য নিজবলের দ্বারা বিপক্ষকে ভীতিগ্রস্ত করে ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন, সেই দক্ষিণহস্তে বজ্রধারণকারী ইন্দ্রকে ভজনা করি।। (৩৩৫) শত্রুনাশক, দূরাধর্ষ, মহাবল, সীমাহীন, বর্ষণকারী, সুবজ্র ইন্দ্রকে স্তব করি। এই সেই ইন্দ্র যিনি ধনসম্পদের জন্য বৃত্রকে হনন করেন এবং অন্নবল ও মহাধনের অতিদাতা।। (৩৩৬) যে মানুষ নিজকে বলবান ও ক্ষিপ্রগতিযুক্ত মনে করে, আমাদের হিংসা করবার জন্য আমাদের প্রতি ধাবিত হয়, তাকে হে বলবান, ইন্দ্র, তোমার দ্বারা রক্ষিত হয়ে মনুষ্যবলে যুক্ত হয়ে যেন অভিভূত করতে পারি।। (৩৩৭) শত্রুর দ্বারা বেষ্টিত হয়ে শত্রুকে পরাজিত করার ইচ্ছা করে সতর্ক ক্ষিপ্র মানুষেরা যাঁকে ভজনা করে, জ্ঞানবানেরা যাঁকে বলের জন্য, জলের জন্য এবং অন্নের জন্য ভজনা করেন তিনিই ইন্দ্র।। (৩৩৮) হে ইন্দ্র ও মেঘদেবতা (=পর্বত), তোমরা দুজন মহান্‌ রথে সুবীর অন্ন আন। হে দেবদ্বয়, সকল যজ্ঞে হবি ও স্তুতির দ্বারা পূজিত হয়ে হর্ষ ও আনন্দ লাভ করে বর্ধিত হও। (৩৩৯) ইন্দ্রের উদ্দেশে যে বিরামহীন স্তুতি করা হয়েছে তার ফলে অন্তরিক্ষে অবস্থিত বারিরাশি থেকে ইন্দ্র জল সমূহকে প্রেরণ করলেন। (ইনিই সেই ইন্দ্র যিনি) অক্ষ যেমন চক্রকে ধারন করে, তেমনি কর্মসমূহের দ্বারা পৃথিবী ও দ্যুলোকেরূপ চক্রকে স্তম্ভিত করে রেখেছেন। (৩৪০) সখাগণ তোমাকে সখ্যতা প্রাপ্ত হয়ে আকাশে বিচরণশীল বিস্তীর্ণ মেঘরাশিকেই প্রাপ্ত হলেন; (হে সখাগণ) জেনে রাখ অন্ন হতেই সন্তান (বা বীজ) জাত হয়; এবং এই পৃথিবীতে ভবিষ্যতে এইভাবেই চিন্তা করব। (৩৪১) সত্যের কর্মের ও ঔজ্জ্বল্যের প্রতীক ইন্দ্রের দূরাধর্ষ গোসমূহকে (=উজ্জ্বল) রশ্মিসমূহকে আজ কে জোয়ালে জুড়বে? জলরাশির পরিচালক জীবের সুখ ও পুষ্টিকারক রশ্মিগণের কর্মকে যিনি জানেন তিনি দীর্ঘজীবী হয়ে আত্মগতি লাভ করেন।।

সামবেদ - ৩য় অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

দ্বাদশ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ অনুষ্টুপ

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র, ২ জেতা মাধুচ্ছন্দস, ৩।৬। গৌতম রাহূগণ, ৪ অত্রি ভৌম, ৫।৮ তিরশ্চী আঙ্গিরস, ৭ নীপাতিথি কাণ্ব, ৯ বিশ্বামিত্র গাথিন, ১০ শংযু বার্হস্পত্য অথবা তিরশ্চী আঙ্গিরস।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ (৩৪২) গায়ন্তি ত্বা গায়ত্রিণোহর্চন্ত্যর্কমর্কিণঃ। ব্রহ্মাণস্তা শতক্রতু উদ্‌বংশমিব যেমিরে।।১।। (৩৪৩) ইন্দ্রং বিশ্বা অবীবৃধন্‌ৎসমুদ্রব্যচসং গিরঃ। রথীতমং রথীনাং বাজানাং সৎপতিং পতিম্‌।।২।। (৩৪৪) ইমিমিন্দ্র সুতং পিব জ্যেষ্ঠমমর্ত্যং মদম্‌। শুক্রস্য ত্বাভ্যক্ষরন্‌ ধারা ঋতস্য সাদনে।।৩।। (৩৪৫) যদিন্দ্র চিত্র ম ইহ নাস্তি ত্বাদাতমিদ্রিবঃ। রাধস্তন্নো বিদদ্বস উভয়া হস্ত্যাভর।।৪।। (৩৪৬) শ্রুধী হবং তিরশ্চ্যা ইন্দ্র যস্তা সপর্যতি।। সুবীর্যস্য গোমতো রায়স্পূর্ধি মহাঁ অসি।।৫।। (৩৪৭) অসাবি সোম ইন্দ্র তে শবিষ্ঠ ধৃষ্ণবা গহি। আ ত্বা পৃণক্‌ত্বিন্দ্রিয়ং রজঃ সূর্যো ন রশ্মিভিঃ।।৬।। (৩৪৮) এন্দ্র যাহি হরিভিরুপ কন্বস্য সুষ্টুতিম। দিবো অমুষ্য শাসতো দিবং যয দিবাবসো।।৭।। (৩৪৯) আ ত্বা গিরো রথীরিবাস্থঃ সুতেষে গির্বণঃ। অভি ত্বা সমনূষত গাবো বৎসং ন ধেনবঃ।।৮।। (৩৫০) এতো ন্বিন্দ্রং স্তবাম শুদ্ধং সুদ্ধেন সামনা শুদ্ধৈরুক্‌থৈর্বাবৃধ্বাংসং শুদ্ধৈরাশীর্বাণ্‌ মমত্তু।।৯।। (৩৫১) যো রয়িং বো রয়িন্তমো যো দ্যুম্নৈর্দ্যুম্নবত্তমঃ। সোমঃ সূতঃ স ইন্দ্র তেহস্তি স্বধাপতে মদঃ।।১০।।

অনুবাদঃ (৩৪২) (লোকে যেমন সুকর্মের দ্বারা নিজ বংশকে উন্নত রাখেন সেইরূপ) হে শতক্রতু (=শতকর্মা) ইন্দ্র, সামগানকারীরা তোমার উদ্দেশে গান করেন, হোতারা তোমাকে অর্চনা করেন, ব্রহ্মা প্রভৃতি ঋত্বিক্‌গণ (বেদমন্ত্র পাঠের দ্বারা) বংশের ন্যায় তোমাকে উন্নত করেন।। (৩৪৩) যিনি আকাশের মত সর্বব্যাপী, যিনি রথীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রথী, যিনি অন্ন ও সকল জীবের রক্ষক সেই ইন্দ্রকে সকল স্তবস্তুতি উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত করে। (৩৪৪) হে ইন্দ্র, এই শ্রেষ্ঠ হর্ষজনক অমৃত সোম পান কর; জলের গৃহে (=অন্তরিক্ষে) উজ্জ্বল এই সোমধারা তোমার উদ্দেশেই প্রবাহিত হচ্ছে।। (৩৪৫) হে ইন্দ্র, যে কাম্য পূজনীয় ধন আছে (অথবা যে কাম্য ধন আমার গৃহে নেই) সেই ধন আমাদের দেওয়া তোমার কর্তব্য। হে বজ্রধারী, হে ধনাধিপতি, সেই ধন তোমার দুই হাতে আমাদের দান কর।। (৩৪৬) হে ইন্দ্র, তিরশ্চী ঋষির আহ্বান শোন যে তোমাকে পরিচর্যা করছে। জলযুক্ত বীর্যবান্‌ মহান তুমি আমাকে ধনাদানে পূর্ণ কর।। (৩৪৭) হে ইন্দ্র, এই জলরাশি তোমার কিরণরাশিতে সৃষ্ট হয়েছে। হে শ্রেষ্ঠকর্মা এস। সূর্য যেমন কিরণরাশির দ্বারা আকাশকে পূর্ণ করেন তোমাকেও তেমনি ইন্দ্রিয়সামর্থ্য পূর্ণ করুক। [ইন্দ্রিয়শক্তি আত্মার, এইজন্য এরূপ বলা হোল]।। (৩৪৮) হে ইন্দ্র, সর্ববস্তু হরণকারী তোমার অশ্বরশ্মিগণের সঙ্গে তুমি কন্ব ঋষির এই সুন্দর স্তুতি লক্ষ্য করে এস। এই দ্যুলোকে বাস করেই তুমি দ্যুলোক শাসন কর; হে দ্যুলোকবাসী, তুমি দ্যুলোকেই থাক। (৩৪৯) হে স্তুতিপ্রিয় ইন্দ্র, সকল অভিষুত সোমযোগে তোমার উদ্দেশে উচ্চারিত সকল স্তুতি তোমাকে রথীর মত ঘিরে থাকে। গাভী যেমন তার বৎসকে ডাকে তেমনি এই স্তুতি তোমাকে লক্ষ্য করেই সম্যক্‌রূপে উচ্চারিত।। (৩৫০) শীঘ্র এস, এখনই পবিত্র ইন্দ্রবে স্তব করবো পবিত্র সামগানে। পবিত্র উক্‌থের দ্বারা শুদ্ধ সোমরসের দ্বারা বর্ধিত ইন্দ্র আনন্দিত হোন।। (৩৫১) যিনি অতি ধনশালী, যিনি ধনের দ্বারা দীপ্ত সমুজ্জ্বল; যে ধন তোমাদের জন্য (ইন্দ্র দান করেন) সেই নিষ্কাশিত সোমরূপ ধনসম্পদ, হে ইন্দ্র, হে অন্নপতি, তোমার আনন্দকারক হয়।।

সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

প্রথম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৮

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১।৪।৬।৮ ইন্দ্র, ৫ মরুদ্‌গণ, ৭ দধিক্রাবা।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ অনুষ্টুপ

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য, ২ বামদেবগৌতম বা শাকপূত, ৩ প্রিয়মেধ আঙ্গিরস, ৪ প্রগাথ কাণ্ব, ৫ শ্যাবাশ্ব আত্রেয়, ৬ শংযু বার্হস্পত্য, ৭ বামদেব গৌতম, ৭ জেতা মাধুচ্ছন্দস।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৩৫২) প্রত্যস্মৈ পিপীষতে বিস্বানি বিদুষে ভর।

অরঙ্গমায় জগ্ময়েহ পশ্চাদধ্বনে নরঃ।।১।।

(৩৫৩) আ নো বয়ো বয়ঃশয়ং মহান্তং গহ্বরেষ্ঠাম্‌ মহান্তং পূর্বিনেষ্ঠাম্‌।

উগ্রং বচো অপাবধীঃ।।২।।

(৩৫৪) আ ত্বা রথং যথোতয়ে সুম্নায় বর্তয়ামসি।

তুবিকূর্মিমৃতীষহমিন্দ্রং শবিষ্ঠ সৎপতিম্‌।।৩।।

(৩৫৫) স পূর্ব্যো মহোনাং বেনঃ ক্রতুভিরানজে।

যস্য দ্বারা মনুঃ পিতা দেবেষু ধিয় আনজে।।৪।।

(৩৫৬) যদী বহন্ত্যাশবো ভ্রাজমানা রথেম্বা।

পিবন্তো মদিরং মধু তত্র শ্রবাংসি কৃন্বতে।।৫।।

(৩৫৭) ত্যমু বো অপ্রহণং গৃণীষে শবসস্পতিম্‌

ইন্দ্রং বিশ্বাসাহং নরং শবিষ্ঠং বিশ্ববেদসম্‌।।৬।।

(৩৫৮) দধিক্রাব্‌ণো অকারিষং জিষ্ণোরশ্বস্য বাজিনঃ।

সুরভি নো মুখা করৎ প্র ণ আয়ূংষি তারিষৎ।।৭।।

(৩৫৯) পুরাং ভিন্দুর্যুবা কবিরমিতৌজা অজায়ত।

ইন্দ্রো বিশ্বস্য কর্মণো ধর্তা বজ্রী পুরুষ্টুতঃ।।৮।।

অনুবাদঃ (৩৫২) সর্ববেত্তা পিপাসিত ইন্দ্রের উদ্দেশে তোমরা সকল সোম অর্পণ কর। তিনি সর্বগামী, সকল যজ্ঞের নায়ক, অগ্রণী।। (৩৫৩) গর্ভে থাকাকালীন অবস্থাতেই আমাদের জন্য মহান্‌ অন্ন তুমি প্রস্তুত করে রাখ। তোমার এই মহান্‌ ব্রত চিরকাল ধরে প্রচলিত আছে। হে ইন্দ্র, উগ্র বচন দূর কর।। (৩৫৪) বহুকর্মা শত্রু পরাজয়কারী বলিষ্ঠ সৎপতি ইন্দ্রকে আমি আমার রক্ষা ও সুখের জন্য সূর্যের মত আবর্তিত করছি।। (৩৫৫) তিনিই পূজ্যগণের মধ্যে প্রথম, তিনিই সর্বলোককান্ত আলোকময় দেবতারূপে (=বেন) কর্মসকলের দ্বারা সকল কিছুই প্রাপ্ত হয়েছিলেন, যাঁকে অবলম্বন করে মনু (আদিত্য) পিতা দেবগণের মধ্যে (=রশ্মিগণের মধ্যে) জ্ঞানকর্ম প্রাপ্ত হয়েছেন।। ((৩৫৬) যখনই ক্ষিপ্রগামী দীপ্ত রশ্মিগণ তোমাকে রথে বহন করে তখনই তাঁরা মদির মধুপান করতে করতে (রশ্মিদ্বারা জলবাস্প আকর্ষণ করতে করতে) অন্নসম্পদ সৃষ্টি করেন। (৩৫৭) তোমাদের মঙ্গলের জন্য সেই উপকারক অন্নবলপতি ইন্দ্রকে স্তব কর, যিনি বিশ্বজয়ী শ্রেষ্ঠবলনায়ক বিশ্বজ্ঞানী।। (৩৫৮) চলনপটু শব্দকারী সর্বজয়ী [রশ্মিগণ জলসৃষ্টির দ্বারা অন্নসৃষ্টিকারী বলে সর্বজয়ী] অশ্বরশ্মির (=দধিক্রার) স্তুতি করি। হর্ষকারক বৃষ্টিরূপ অগ্রসেনাকে আমাদের জন্য প্রেরণ কর, আমাদের আয়ু বৃদ্ধি কর।। (৩৫৯) ইন্দ্র সকল জীবদেহের অন্তরাত্মা (=পুরাম্‌ ভিন্দুঃ); তিনি একই সময়ে অনেক কর্ম করেন (=যুবা) এবং গতির দ্বারা সেই কর্মকে অতিক্রম করেন (=কবি), তিনি অমিতবলরূপে জাত হয়ে বিশ্বের সকল কর্মের ধারক, বজ্রধারী ও বহুস্তুত।।

সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

দ্বিতীয় খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র (ঋগ্বেদে ৬ মন্ত্রের দেবতা অগ্নি), ৮ ঊষা, ৯ বিশ্বদেবগণ, ১০ ঋক্‌ ও সাম।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ অনুষ্টুপ

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৩।৫ প্রিয়মেধ আঙ্গিরস, ২।১০ বামদেব গৌতম, ৮ মধুছন্দা বৈশ্বামিত্র, ৬ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য, ৭ অত্রি ভৌম, ৮ প্রস্কণ্ব কাণ্ব, ৯ ত্রিত আপ্ত্য।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৩৬০) প্র প্র বস্ত্রিষ্টুভমিষং বন্দদ্বীরায়েন্দবে। ধিয়া বো মেধসাতয়ে পুরন্ধ্যা বিবাসতি।।১।।

(৩৬১) কশ্যপস্য স্বর্বিদো যাবাহুঃ সযুজাবিতি। যযোর্বিশ্বমপি ব্রতং যজ্ঞং ধীরা নিচায্য।।২।।

(২৬২) অর্চত প্রার্চতা নরঃ প্রিয়মেধাসো অর্চত। অর্চন্তু পুত্রকা উত পুরমিদ্‌ ধৃষ্ণ্বর্চত।।৩।।

(৩৬৩) ঊক্‌থমিন্দ্রায় শংস্যং বর্ধনং পুরুনিষ্‌ষিধে। শক্রো যথা সুতেষু নো রারণৎ সখ্যেষু চ।।৪।।

(৩৬৪) বিশ্বানরস্য বস্পতিমনানতস্য শবসঃ। এবৈশ্চ চর্ষণীনামূতী হুবে রথানাম্‌।।৫।।

(৩৬৫) স ঘা যস্তে দিবো নরো ধিয়া মর্তস্য শমতঃ ঊতী স বহতো দিবো দ্বিষা অংহো ন তরতি।।৬।।

(৩৬৬) বিভোষ্ট ইন্দ্র রাধসো বিভ্বী রাতিঃ শতকৃতো। অথা নো বিশ্বচর্ষণে দ্যুম্নং সুদত্র মংহয়।।৭।।

(৩৬৭) বয়শ্চিত্তে পতত্রিণো দ্বিপাচ্চতুস্পাদর্জুনি। ঊষঃ প্রারন্‌নৃতূঁরনু দিবো অন্তেভ্যস্পরি।।৮।।

(৩৬৮) অমী যে দেবা স্থন মধ্য আরোচনে দিবঃ। কদ্‌ ব ঋতং কদমৃতং কা প্রত্বা ব আহুতিঃ।।৯।। বি তে সদসি রাজতো যজ্ঞং দেবেষু বক্ষতঃ।।১০।।

অনুবাদঃ (৩৬০) তোমরা (অন্নপ্রস্তুতের) সামর্থ্যযুক্ত জল কামনা করে অন্নের জন্য ইন্দ্রের স্তুতি কর। ইন্দ্র যজ্ঞসাধনের জন্য কর্মের দ্বারা বহুপ্রজ্ঞার দ্বারা তোমাদের পরিচর্যা করেন। (৩৬১) সূর্যের গতিপথের সন্ধান জানেন ইন্দ্রের যে দুরি যুক্ত অশ্ব (=রশ্মি বা দেশ-কাল বা অহোরাত্র) তাঁরাই সকলই কর্ম ও যজ্ঞকে ধারণ করে আছেন, পণ্ডিতেরা এইরূপ বলে থাকেন। (৩৬২) প্রিয়মেধা ঋষির প্রিয়জনগণ, তোমরা ইন্দ্রের অর্চনা কর, অন্তর দিয়ে অর্চনা কর, তাঁকেই অর্চনা কর। তোমাদের সন্তানেরাও জীবের আত্মা ইন্দ্রকে অর্চনা করুক, অতি অনুরাগে অর্চনা কর।। (৩৬৩) বহু অপশক্তির নিবারক ইন্দ্রের উদ্দেশে আমাদের এই উৎকৃষ্ট সামগান; শক্তিমান ইন্দ্র যেন আমাদের যজ্ঞকর্মে ও সখ্যতায় অত্যন্ত অনুরক্ত হন।। (৩৬৪) বিশ্বের অধিনায়ক, দুর্দমনীয় বলের অধিপতি ইন্দ্রকে তোমাদের এবং জনগণের কাম্যবস্তু লাভের জন্য রশ্মিসমূহের গমন পথে (রথানাম্‌ উতী=কিরণরাশি যে পথে গমন করে সেই পথ) আহ্বান করি।। (৩৬৫) মর্তের যে মানুষ কর্ম ও প্রজ্ঞার দ্বারা তোমার পূজা করে সে দ্যুলোক প্রাপ্ত হয়। দ্যুলোকের মহান পথে গমন করে সে হিংসা দ্বেষকে অতিক্রম করে।। (৩৬৬) হে ইন্দ্র, হে শতযজ্ঞকর্মা, তোমার বিভূতি সর্বসিদ্ধিকরধন ও দানবহ। অতএব হে বিশ্বদ্রষ্টা, হে মঙ্গলদাতা, আমাদের প্রচুর ঐশ্বর্য প্রদান কর।। (৩৬৭) হে শুভ্র আলোকের দেবী ঊষা, তোমার আগমনকালে ঋতুদের অনুসরণ করে দ্বিপদ ও চতুস্পদ যুক্ত পক্ষীরূপা উদকবহনকারী রশ্মিগণ দ্যুলোকের অন্তঃস্থলে অবস্থান করে।। (৩৬৮) এই যে বিশ্বদেবগণ (=সকল রশ্মিগণ) যে তোমরা দ্যুলোকের আলোকময় মধ্যভাগে বাস কর তোমাদের ঋতকর্মই বা কি অনৃতকর্মই বা কি, কিই বা তোমাদের প্রাচীনতা, কিই বা তোমাদের আহুতি? (অর্থাৎ এদের বিষয়ে কিছুই জানা যায় না) (৩৬৯) এই ঋক্‌ সামের দ্বারা দেবগণের পূজা করি, যা থেকে কর্ম সম্পন্ন হয়। এই স্তোত্রমন্ত্রসকলই গৃহে (বা যজ্ঞসভায়) বিরাজ করে এবং যজ্ঞকে দেবগণের কাছে নিয়ে চলে।।

সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

তৃতীয় খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১১

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র, ২ দ্যাবাপৃথিবী।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ জগতী, ১ অতি জগতী, ১০ মহাপঙ্‌ক্তি।।

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ রেভ কাশ্যপ, ২ সুবেদা শৈরীষি বা শৈলুষি, ৩ বামদেব গৌতম, ৪।৭।৮ সব্য বা সত্য আঙ্গিরস, ৫ বিশ্বামিত্র গাথিন, ৬ কৃষ্ণ বা আঙ্গিরস, ৯ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য, ১০ মেধাতিথি কান্ব (ঋগ্বেদে মান্ধাতা যৌবনাশ্ব), ১১ কুৎস আঙ্গিরস।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

(৩৭০) বিশ্বাঃ পৃতনা অভিভূতরং নরঃ সজুস্ততক্ষুরিন্দ্রং জজনুশ্চ রাজসে। ক্রত্বে বরে স্থেমন্যামুরীমুতোগ্রমোজিষ্ঠং তরসং তরস্বিনম্‌।।১।।

(৩৭১) শ্রত্তে দধামি প্রথমায় মন্যবেহনন্যদ্দস্যুং নর্যং বিবেরপঃ। উভে যত্বা রোদসী ধাবতামন্য ভ্যসাতে শুষ্মাৎ পৃথিবী চিদদ্রিবঃ।।২।।

(৩৭২) সমেত বিশ্বা ওজসা পতিং দিবো ষ এক ইদ্‌ ভূরতিথির্জনানাম্‌। স পূর্ব্যো নূতনমাজিগীষং তং বর্তনীরনুবাবৃত এক ইৎ।।৩।।

(৩৭৩) ইমে ত ইন্দ্র তে বয়ং পুরুষ্টুত যে ত্বারভ্য চরামসি প্রভূবসো। নহি ত্বদন্যো গির্বণো গিরঃ সঘৎ ক্ষোণীরিব প্রতি তদ্ধর্য নো বচঃ।।৪।।

(৩৭৪) চর্ষণীধুতং মঘবানমুকথ্যাতমিন্দ্রং গিরো বৃহতীরভ্যনূষত। বাবৃধানং পুরুহূতং সুবৃক্তিভিরমর্ত্যং জরমাণং দিবেদিবে।।৫।।

(৩৭৫) অচ্ছা ব ইন্দ্রং মতয়ঃ স্বর্যুবঃ সধ্রীচীর্বিশ্বা উশতীরনূশত পরি স্বজন্ত জনয়ো যথা পতিং মর্যং ন শুন্ধ্যুং মঘবানমূতয়ে।।৬।।

(৩৭৬) অভি ত্যং মেষং পুরুহূতমৃগ্মিয়মিন্দ্রং গীর্ভির্মদতা বস্বো অর্ণবম্‌। যস্য দ্যাবো ন বিচরন্তি মানুষং ভুজে মংহিষ্ঠমভিবিপ্রমর্চত।।৭।।

(৩৭৭) ত্যং সু মেষং মহয়া স্বর্বিদং শতং যস্য সুভুবঃ সাকমীরতে। অত্যং ন বাজং হবনস্যদং রথমিন্দ্রং ববৃত্যামবসে সুবৃক্তিভিঃ।।৮।।

(৩৭৮) ঘৃতবতী ভুবনানামভিশ্রিয়োর্বী পৃথ্বী মধুদুঘে সুপেশসা। দ্যাবাপৃথিবী বরুণস্য ধর্মণা বিষ্কভিতে অজরে ভূরিরেতসা।।৯।।

(৩৭৯) উভে যদিন্দ্র রোদসী আপপ্রাথোষা ইব। মহান্তং ত্বা মহীনাং সম্রাজং চর্ষণীনাম্‌। দেবী জনিত্র্যজীজনদ্‌ভদ্রা জনিত্র্যজীজনৎ।।১০।।

(৩৮০) প্র মন্দিনে পিতুমদর্চতা বচো যঃ কৃষ্ণগর্ভা নিরহন্নজিশ্বনা। অবস্যবো বৃষণং বজ্র বৃষণং বজ্রদক্ষিণং মরুত্বন্তং সখায় হুবেমহি।।১১।।

অনুবাদঃ

(৩৭০) বিশ্বের বরগণ প্রীত হয়ে সকল সংগ্রামে ইন্দ্রকেই শত্রুপরাজয়কারীরূপে নিরূপণ করেছেন এবং সং গ্রামে তিনিই অধিস্বামীরূপে বিরাজিত হন। সেই বলিষ্ঠ, উগ্র, অতি মহান প্রবৃদ্ধ ইন্দ্রকে সকল সঙ্কল্পে ও বরণীয় কর্মে তাঁরা কামনা করেন।।

(৩৭১) একথা সত্য যে তোমাকে প্রধান বলে মানি; কারণ তুমি জীবের প্রয়োজনে বৃত্রবধ করে বৃষ্টি, কর্ম, জ্ঞান প্রভৃতির সৃষ্টি করেছে; হে মেঘবিদারণকারী ইন্দ্র, দ্যুলোক ও পৃথিবী তোমার বলে ভীত হয়ে দুজনেই নিজ নিজ কর্ম করবার জন্য গতিযুতক হয়েছে।

(৩৭২) হে নরগণ, যিনি স্বীয় তেজে দ্যুলোকে এক ও অদ্বিতীয়রূপে বিরাজমান, যিনি সকল জনের কাছে অতিথির মত পূজ্য, সেই চিরপুরাতন অদ্বিতীয় ইন্দ্র বারবার আবর্তনের দ্বারা বিজয়ী ও নব রূপে দেখা দেন।। [ইন্দ্র=সূর্য]।।

(৩৭৩) হে ইন্দ্র, হে বহুস্তুত, হে বহুধন, এই যা কিছু সব এবং আমরা যারা কর্মের জন্য বিচরণ করি, এ সবই তোমার। হে স্তুতিপ্রিয়, তুমি ছাড়া আর কেউ নেই আমাদের স্তুতি গ্রহণ করতে, যেমন পৃথিবী ছাড়া আর কেউ নেই আমাদের ধারণ করতে। হে সকল ইচ্ছাপূরক, আমাদের স্তুতি গ্রহণ কর।।

(৩৭৪) মানুষের রক্ষক, ধনবান স্তুতিযুক্ত ইন্দ্রকে মহান সঙ্গীতের দ্বারা স্তব কর। তিনি সদা বর্ধমান, বহুর দ্বারা আহূত, দোষবর্জিত সুশোভন কর্মের দ্বারা মরণরহিত এবং প্রতিদিন আয়ুক্ষয়কারী (অথবা প্রতিদিন পূজিত)।।

(৩৭৫) তোমাদের বুদ্ধি ও জ্ঞানালোকের জন্য তোমরা সকলে মিলে একাগ্রচিত্তে সকল কামনা পূরণের জন্য ইন্দ্রকে স্তব কর। পত্নী যেমন স্বামীর সেবে করে মানুষেরাও তেমনি সকল রক্ষার জন্য ধনদাতা শুদ্ধজ্ঞান ইন্দ্রকে ঘিরে থাকে।।

(৩৭৬) ধনসমুদ্র, বহুর দ্বারা স্তুত, সর্ববস্তুর প্রতি সমদর্শী (=মেঘ), স্তুতির দ্বারা আহ্লাদিত, অর্চনীয় বিদ্যুৎরূপী অগ্নি ইন্দ্রকে স্তব কর। যাঁর কর্ম দ্যুলোকের আলোকরাশির মত মানুষের ভোগের জন্য বিচরণ করে সেই শ্রেষ্ঠ চৈতন্য ইন্দ্রকে অর্চনা কর।

(৩৭৭) যিনি সুন্দররূপে সমদর্শী, যিনি নিজ নিজ মাহাত্ম্যে স্বর্লোককে জানিয়ে দেন, যাঁর সুন্দর ভুবনের শতকর্ম একই সঙ্গে চলতে থাকে, বেগবান্‌ অশ্বের মত যিনি সকল যজ্ঞকর্মের প্রতি ধাবিত হন সেই ইন্দ্রকে আমাদের রক্ষার জন্য দোষবর্জিত শোভন কর্মের দ্বারা নিভৃতে আরাধনা করি।।

(৩৭৮) হে দ্যু ও পৃথিবী, তোমরা মজনে উদকবর্তী, ভুবনের সকলের আশ্রয়স্বরূপা, বিপুলা, মধুদুঘা, সুরূপা। তোমরা দুজনে বরুণদেবের (=সূর্যদেবের) ধারণকার্যের দ্বারা চিরকাল বিভক্তরূপে বর্তমান থেকে প্রচুর প্রজনন ক্ষমতা যুক্তা (ভূরিরেতসা)।।

(৩৭৯) যখন হে ইন্দ্র, তুমি ঊষার মত দ্যুলোক ও পৃথবীকে আলোকে পরিপূর্ণ করি, তখন তুমি মানুষের মধ্যে যে সম্রাট্‌ তার থেকেও মহান সম্রাট্‌রূপে বিরাজিত হও। কল্যাণময়ী অদীনা অক্ষয়া মাতা অদিতি দেবী তোমাকে জন্ম দিয়েছেন, তিনিই তোমাকে জন্ম দিয়েছেন।।

(৩৮০) স্তুতির যোগ্য ইন্দ্রের উদ্দেশে অন্নসহযোগে স্তুতি অর্পণ কর, যে ইন্দ্রের বাক্যমাত্রই তাঁর দুইর অশ্ব ঘনকালোমেঘের অন্তর্গত বারিরাশিকে আঘাতের দ্বারা নিঃশেষে নির্গত করলো সকলের রক্ষণেচ্ছায়। বর্ষণকারী, দক্ষিণহস্তে বজ্রধারী মরুদ্‌গণের সখা ইন্দ্রের সঙ্গে সখ্যতার জন্য আমরা ইন্দ্রকে আহ্বান করি।।

সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

চতুর্থ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ঊষ্ণিক্

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ নারদ কাণ্ব, ২৩ গোষুক্তি ও অশ্বসুক্তি কাণ্বায়ন, ৪ পর্বত কাণ্ব, ৫।৬।৭।১০ বিশ্বমনা বৈয়শ্ব ৮ নৃমেধ আঙ্গিরস, ৯ গোতম বাহূগণ।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৩৮১) ইন্দ্র সুতেষু সোমেষু ক্রতুং পুনীষ উক্‌থ্যম্‌।

বিদে বৃধস্য দক্ষস্য মহাঁ হি ষঃ।।১।।

(৩৮২) তমু অভি প্র গায়ত পুরুহূতং পুরুষ্টুতম্‌,
ইন্দ্রং গীর্ভিস্তবীষমা বিবাসত।।২।।

(৩৮৩) তং তে মদং গৃণীমসি বৃষণং পৃক্ষু সাসহিম্‌।

ঊ লোককৃৎনুমদ্রিবো হরিশ্রিয়ম্‌।।৩।।

(৩৮৪) যৎ সোমমিন্দ্র বিষ্ণবি সোমমিন্দ্র বিষ্ণবি যদ্‌ বা ঘ ত্রিই আপ্ত্যে।

যদ্‌ বা মরুৎসু মন্দসে সমিন্দুভিঃ।।৪।।

(৩৮৫) এদু মধোর্মদিন্তরং সিঞ্চাধ্বর্যো অন্ধসঃ।

এবা হি বীর স্তবতে সদাবৃধঃ।।৫।।

(৩৮৬) এন্দুমিন্দ্রায় সিঞ্চত পিবাতি সোম্যং মধু।

প্র রাধাংসি চোদয়তে মনিত্বনা।।৬।।

(৩৮৭) এতো ন্বিন্দ্রং স্তবাম সখায়ঃ স্তোম্যং নরম।

কৃষ্টীর্যো বিশ্বা অভ্যস্ত্যেক ইৎ।।৭।।

(৩৮৮) ইন্দ্রায় সাম গায়ত বিপ্রায় বৃহতে বৃহৎ।

ব্রহ্মকৃতে বিপশ্চিতে পনস্যবে।।৮।।

(৩৮৯) য এক ইদ্‌ বদয়তে বসু মর্তায় দাশুষে।

ঈশানো অপ্রতিষ্কুত ইন্দ্রো অঙ্গ।।৯।।

(৩৯০) সখায় আ শিষামহে ব্রহ্মেন্দ্রায় বজ্রিণে।

স্তুষ ঊ ষু বো নৃতমায় ধৃষ্ণবে।।১০।।

অনুবাদঃ (৩৮১) হে ইন্দ্র, অভিষুত সোমযোগে যজ্ঞকর্ম ও স্তুতিকে পবিত্র কর; দক্ষতা ও বৃদ্ধির জন্যই ইন্দ্র মহান।। (৩৮২) বহুজনের দ্বারা আহূত, বহুজনের দ্বারা স্তুত সেই ইন্দ্রের উদ্দেশে উত্তমরূপে গান কর। মহাবল ইন্দ্রকে সঙ্গীতে পরিতুষ্ট কর।। (৩৮৩) হে বজ্রধারী ইন্দ্র, তুমি রশ্মিআশ্রিত ও লোককল্যাণকারী অভীষ্ট বর্ষণকারী, শত্রুপরাভবকারী তোমার উল্লাসের প্রশংসা করি।। (৩৮৪) হে ইন্দ্র, যে সোম বিষ্ণুতে আছে, অথবা যে সোম তোমার সহচর সর্বব্যাপী রশ্মি ত্রিত আপ্তো আছে, অথবা যে সোম মরুৎ বায়ুগণের মধ্যে আছে, তুমি সেই সকল সোমের সঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দে মত্ত হয়।। [আপ্ত্যগণ সর্বব্যাপী মাধ্যমিক রশ্মি – এঁরা সংখ্যায় তিনজন – একত, দ্বিত ও ত্রিত। এঁরা ইন্দ্রের সহচরী হয়ে জলপ্রদানে সহায়তা করেন। এই মন্ত্রে সোম=জল]।। (৩৮৫) হে অধ্বর্যু (=যজ্ঞের এক ঋতি্‌ক), সোমরূপ মদকর অন্নের অতি মদির অংশ ইন্দ্রের জন্য সেচন কর। এইভাবেই সদাবৃদ্ধিশীল বীর ইন্দ্র স্তুত হন।। (৩৮৬) ইন্দ্রের উদ্দেশে সোম সিঞ্চন কর। তিনি সোমময় মধু পান করে থাকেন এবং সোমপানের দ্বারা মহান হয়ে সর্বসিদ্ধিকর ধনসম্পদ প্রেরণ করেন।। (৩৮৭) এস হে বন্ধুগণ শীঘ্র এস, এখনি স্তুতিযোগ্য নায়ক ইন্দ্রকে স্তব করবো, যিনি একাই বিশ্বের সকল মানুষের ঈশ্বর।। (৩৮৮) ইন্দ্রের উদ্দেশে সাম গান কর, মহান জ্ঞানীর উদ্দেশে বৃহৎ সাম গান কর। সেই ধনকারী চৈতন্যময় মহিমান্বিতের উদ্দেশে তোমরা গান কর।। (৩৮৯) যিনি একাই মর্তের মানুষের জন্য ও হব্যদাতার জন্য ধন বিভাগ করে দেন তিনিই অপ্রতিহত ক্ষিপ্র জগৎনিয়ামক ঈশ্বর ইন্দ্র।। (৩৯০) হে বন্ধুগণ, বজ্রধারী ধনাদীশ ইন্দ্রকে এখন সুখের জন্য স্তব করবো। তোমরাও উৎসাহী নায়কশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রের স্তুতি কর।।

সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

পঞ্চম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৮

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১।২।৩।৪।৮ ইন্দ্র, ৫।৭ আদিত্যগণ, ৬ অগ্নি।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ঊষ্ণিক্‌, ৮ বিরাট্‌ ঊষ্ণিক্‌।।

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ প্রগাথ ঘৌর কাণ্ব, ২ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য, ৩ নৃমেধ আঙ্গিরস, ৪ পর্বত কাণ্ব, ৫।৭ ইরিম্বিঠি কাণ্ব, ৬ বিশ্বমনা বৈয়শ্ব, ৮ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৩৯১) গৃনে তদিন্দ্র তে শব উপমাং দেবতাতয়ে!
যদ্ধংসি বৃত্রমোজসা শচীপতে।।১।।

(৩৯২) যস্য ত্যচ্ছম্বরং মদে দিবোদাসায় রন্ধয়ণ্‌

অয়ং স সোম ইন্দ্র তে সুতঃ পিব।।২।।

(৩৯৩) এন্দ্র নো গধি প্রিয় সত্রাজিদগোহ্য।

গিরির্ন বিশ্বতঃ পৃথুঃ পতির্দিবঃ।।৩।।

(৩৯৪) য ইন্দ্র সোমপাতমো মদঃ শবিষ্ঠ চেততি।

যেনা হংসি ন্যাতত্রিণং তমীমহে।।৪।।

(৩৯৫) তুচে তুনায় তৎ সু নো দ্রাঘীয় আযুজী বসে।

আদিত্যাসঃ সুমহসঃ কৃণোতন।।৫।।

(৩৯৬) বেত্থা হি নিঋর্তীনাং বগ্রহস্ত পরিবৃজম্‌।

অহরহঃ শুন্ধ্যু পরিপদামিব।।৬।।

(৩৯৭) অপামীবামপ স্রিধমপ সেধত দুর্মতিম্‌।

আদিত্যাসো যুষোতনা নো অংহসঃ।।৭।।

(৩৯৮) পিবা সোমমিন্দ্র মন্দতু ত্বা যৎ তে সুষাব হর্ষশ্বাদ্রিঃ।

সোতুর্বাহুভ্যাং সুষতো নার্বা।।৮।।

অনুবাদঃ (৩৯১) হে ইন্দ্র, তোমার বলই তোমার উপমা; সুকর্মলাভের জন্য সেই বলকে স্তব করি, যে বলের দ্বারা হে বলপতি, তুমি মেঘরূপ বৃত্র শত্রুকে হনন করেছ।। (৩৯২) হে ইন্দ্র, সোমপানে মত্ত হয়ে দিবোবাস ঋষির কামনা পূরণের জন্য শম্বর হত্যা করেছিলে; এই সেই সোম তোমার জন্য প্রস্তুত হয়েছে; তুমি তা’ পান কর।। (৩৯৩) হে ইন্দ্র, তুমি সকলের প্রিয়, সকল যজ্ঞজয়কারী, তুমি অগোপনীয় [ইন্দ্র=সূর্য বা বিদ্যুৎ যাকেকেউ গোপন করতে পারে না]; তুমি আমাদের জন্য সকলভাবকে মিশ্রিত কর। তুমি গিরিপর্বতের মত সর্বত্র বিপুল হয়ে বিস্তৃত রয়েছ; তুমি দ্যুলোকের পতি।। (৩৯৪) যে ইন্দ্র সোমের (=জলের) রক্ষক, হর্ষান্বিত, শ্রেষ্ঠবল তিনি সকল কিছু জানেন। তুমি যে শক্তিতে নিঃশেষে শত্রু ধ্বংস কর তোমার সেই বল আমরা যাচ্‌ঞা করি। (৩৯৫) হে সুমহান আদিত্যগণ (বিভিন্ন ঋতুতে সূর্য আদিত্যের বিভিন্নরূপ-আদিত্যগণ), আমাদের সন্তান-সন্তুতিদের প্রিয়ত্বে মিলিতভাবে রাখ, তাদের জীবন দীর্ঘ কর। (৩৯৬) অগ্নি (বা সূর্য=শুন্ধ্যুঃ) যেমন সর্বক্ষণ পাপকে জানেন ও শুদ্ধ করেন (=অগ্নির পবিত্রতা কারকের মত) সেইরূপ হে বজ্রহস্ত ইন্দ্র, তুমিও পাপসমূহের পরিবর্জনীয় অংশকে জান (=তোমার বজ্রের দ্বারা পরিশুদ্ধ কর)।। (৩৯৭) হে আদিত্যগণ, রোগ দূর কর, বিঘ্ন দূর কর, দূর্মতি দূর কর; আমাদের সকল পাপ নাশ কর।। (৩৯৮) হে ইন্দ্র, সোম পান কর; সেই সোম তোমাকে আনন্দিত করুক। অশ্বরশ্মির দ্বারা সকল বস্তুর অভিভবকারী হে, ইন্দ্র, সুন্দরভাবে প্রস্তুত এই সোমকে সংযতস্বভাবযুক্ত মানুষেরা তাঁদের দুই বাহুবলে পেষণের দ্বারা প্রস্তুত করেছেন।।

সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

ষষ্ঠ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ইন্দ্র (৩।৬ মরুদ্‌গণ)।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ককুপ

মন্ত্রের ঋষিঃ

(৩৯৯) অভ্রাতৃব্যো অন্য ত্বমনাপিরিন্দ্র জনুষা সনাদসি।

যুধেদাপিত্বমিচ্ছসে।।১।।

(৪০০) যো ন ইদমিদং পুরা প্র বস্য আনিনায় তমু বঃ স্তষে।

সখায় ইন্দ্রমৃতয়ে।।২।।

(৪০১) আ গস্তা মা রিষণ্যত প্রস্থাবানো মাপ স্থাত সমন্যবঃ।

দৃঢ়া চিদ্‌যময়িষ্ণবঃ।।৩।।

(৪০২) আ যাহ্যয়মিন্দবেহ্রশ্বপতে গোপত ঊর্বরাপতে

সোমং সোমপতে পিব।।৪।।

(৪০৩) ত্বয়া হ স্বিদ্‌ যুজা বয়ং প্রতি শ্বসন্তং বৃষভ ব্রুবীমহি।

সংস্থে জনস্য গোমতঃ।।৫।।

(৪০৪) গাবশ্চিদ্‌ ঘা সমন্যবঃ সজাত্যেন মরুতঃ সবন্ধবঃ।

রিহতে ককুভো মিথঃ।।৬।।

(৪০৫) ত্বং ন ইন্দ্রা ভর ওজো বৃম্‌ণং শতক্রতো বিচর্ষণে!
আ বীরং পৃতনাসহম্‌।।৭।।

(৪০৬) অধা হীন্দ্র গির্বণ উপ ত্বা কাম ঈমহে সসৃগ্মহে।

উদেব গ্মন্ত উদ্ধভিঃ।।৮।।

(৪০৭) সীদন্তস্তে বয়ো যথা গোশ্রীতে মধৌ মদিরে বিবক্ষণে।

অভি ত্বামিন্দ্র নোনুমঃ।।৯।।

(৪০৮) বয়মু ত্বামপূর্ব্য স্থূরং ন কচ্চিদ্‌ ভরন্তোহবস্যবঃ।

বজ্রিং চিত্রং হবামহে।।১০।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

(৩৯৯) হে ইন্দ্র, বাস্তবিক তুমি শত্রুহীন, আর জন্মবধি তুমি বন্ধুহীন। তুমি কেবল যুদ্ধের দ্বারাই বন্ধুত্ব লাভ করতে ইচ্ছা কর।

(৪০০) যিনি এই সমস্ত ধন পুরাকাল থেকে আমাদের জন্য এনে দিয়েছেন, হে সখাগণ, সেই ইন্দ্রকে তোমাদের মঙ্গলকামনায় স্তব করি।।

(৪০১) হে মরুদ্‌গণ, তোমরা এস, আমাদের হিংসা কোরো না। তোমরা ক্ষিপ্রগামী, পরিমিত দীপ্তিশালী এবং সকলেই একই সময়ে উৎপন্ন; তোমরা দৃঢ় হলেও নমনীয়।।

(৪০২) হে অশ্বপতি, হে গোপতি, হে ঊর্বরাপতি, হে সোমপতি, তোমার জন্য প্রস্তুত সোমকে পান করার জন্য এস।।

(৪০৩) হে কামবর্ষিতা, তোমার দ্বারা তোমার সাথে মুক্ত হলে পরে আমরা বিদ্বান ব্যক্তির সমাবেশে প্রতিজনের কাছে তোমার কথাই বলি।।

(৪০৪) হে মরুৎগণ, রশ্মিগণও তোমার স্বজাতি বলে একই সময়ে উৎপন্ন এবং তোমরা সমানবন্ধু হয়ে আকাশে মিলিত হয়ে পরস্পর পরস্পরকে লেহন কর।।

(৪০৫) হে শতকর্মা বিশ্বদ্রষ্টা ইন্দ্র, আমাদের জন্য ধন ও বল আন। আর আন শত্রুজিৎ বীরদের।।

(৪০৬) হে ইন্দ্র, হে স্তুতিপ্রিয়, জল যেমন জলে গিয়ে মেশে তেমনি তোমার কাছে যে কাম্যবস্তু যাচ্‌ঞা করি তাই আবার তোমাকে উৎসর্গ করি।।

(৪০৭) তোমার কিরণরাশি যখন অতি বিস্তৃত দুগ্ধমিশ্রিত মদির সোম মধুপানে মত্ত থাকে (=জলরাশি সৃষ্টিতে ব্যাপৃত থাকে) আমরাও সেরূপ হে ইন্দ্র, বারবার তোমা অভিমুখে নত হয়ে আসি।।

(৪০৮) হে অপূর্ব্য (=যার পূর্বে কেউ জন্মে নি) ইন্দ্র, আমরা তোমাকে বিপুল মনে করে আমাদের রক্ষার জন্য তোমার কাছে নত হয়ে আসি নি। আমরা তোমাকে বজ্রধারী ও বিচিত্রলীলাকারীরূপে পূজা করি।

সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

সপ্তম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১-৮ ইন্দ্র, ৯ বিশ্বদেবগণ, ১০ অশ্বিদ্বয়।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ পঙ্‌ক্তি

মন্ত্রের ঋষিঃ

১-৮ গোতম (বা সম্মদ) রাহূগণ, ৯ ত্রিত আপ্ত্য অথবা কুৎস আঙ্গিরস, ১০ আত্রেয়।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৪০৯) স্বাদোরিত্থা বিষূবতো মধোঃ পিবন্তি গৌর্যঃ।

যা ইন্দ্রেণ সয়াবরীর্বৃষ্ণা মদন্তি শোভথা বস্বীরনু স্বরাজ্যম্‌।।১।।

(৪১০) ইত্থা হি সোম ইন্মদো ব্রহ্ম চকার বর্ধনম্‌।

শবিষ্ঠ বজ্রিন্নোজসা পথিব্যা নিঃ শশা অহিমর্চন্ননু স্বরাজ্যম্‌।।

(৪১১) ইন্দ্রো মদায় বাবৃধে শবসে বৃত্রহা নৃভিঃ।

নিঃ শশা অহিমর্চন্ননু স্বরাজ্যম্‌।।

(৪১১) ইন্দ্রো মদায় বাবৃধে শবসে বৃত্রহা নৃভিঃ।

তমিন্মমহৎস্বাজিষূতিমর্ভে হবামহে স বাজেষু প্র নোহবিষৎ।।৩।।

(৪১২) ইন্দ্র তুভ্যমিদদ্রিবোহনুত্তং বজ্রিন্‌ বীর্যম্‌ যদ্ধ ত্যং মায়িনং

মৃগং তব ত্যন্মায়য়া বধীরর্চন্ননু স্বরাজ্যম্‌।।৪।।

(৪১৩) প্রেহ্যভীহি ধৃষ্ণুহি ন তে বজ্র নি যংসতে।

ইন্দ্র নৃমণং হি তে শবো হনো বৃত্রং জয়া অপোর্চন্ননু স্বরাজ্যম্‌।।৫।।

(৪১৪) যদুদীরত আজয়ো ধৃষ্ণবে ধীয়তে ধীয়তে ধনম্‌।

যুঙ্‌ ক্ষ্মা মদচ্যুতা হরী কং হনঃ কং বসৌ দধোহস্মাঁ ইন্দ্র বসৌ দধঃ।।৬।।

(৪১৫) অক্ষন্নমীমদন্ত হ্যব প্রিয়া অধুষত।

অস্তোষত স্বভানবো বিপ্রা নবিষ্ঠয়া মতী যোজা ন্বিন্দ্র তে হরী।।৭।।

(৪১৬) উপো ষু শৃণুহী গিরো মঘবন্‌ মা তথা ইব।

কদা নঃ সূনৃতাবতঃ কর ইদর্থয়াস ইদ্‌ যোজা ন্বিন্দ্র তে হরী।।৮।।

(৪১৭) চন্দ্রমা অপ্‌স্বাংন্তরা সুপর্ণো ধাবতে দিবি।

ন বো হিরণ্যনেময়ঃ পদং নিন্দন্তি বিদ্যুতো বিত্তং মে অস্য রোদসী।।৯।।

(৪১৮) প্রতি প্রিয়তমং রথং বৃষণং বসুবাহনম্‌।

স্তোতা বামশ্বিনাবৃষিঃ স্তোমেভির্ভূষতি প্রতি মাধ্বী মম শ্রুতং হবম্‌।।১০।।

অনুবাদঃ (৪০৯) হলুদবরণ কিরণরাশি এই বিষুববিন্দুতে মধুর জলের স্বাদ আস্বাদন করেন; সেই বর্ষণশীলা কিরণরাশি ইন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে বর্ষণকর্মে মত্ত হন আর ইন্দ্রের অনুগমন করে তাঁর রাজ্যকে শোভিত করেন। (৪১০) তোমার বৃদ্ধি কামনা করে স্তুতিকার এই সোম এই মদকর সোম প্রস্তুত করেছেন। হে বলিষ্ঠ, হে বজ্রী, তুমি বলের দ্বারা পৃথিবী থেকে মেঘকে নিঃশেষে বিদারিত করলে, তারপর স্বরাজ্যে দীপ্তি লাভ করে বিরাজিত হলে।। (৪১১) মেঘহননকারী ইন্দ্র নরগণের দ্বারা আনন্দের জন্য বৃদ্ধির জন্য ও বলের জন্য স্তুত হন। তাঁকেই আমরা ক্ষুদ্র মহৎ সকল সংগ্রামেই ডাকি, তিনিই সংগ্রামে আমাদের সুন্দরভাবে রক্ষা করেন। (৪১২) হে ইন্দ্র, হে মেঘবিদারণকারী, হে বজ্রী, তোমার জন্যই অভেদ্য বীর্য, যার দ্বারা সেই মৃগরূপী মেঘমায়াকে তুমি তোমার প্রজ্ঞারূপে মায়ার দ্বারা বধ করলে, আর তারপর নিজ রাজ্যে দীপ্তি লাভ করে বিরাজিত হলে।। (৪১৩) এস, এখানে এস, প্রগলভের মত, কারণ তোমার বজ্র বৃষ্টি প্রদান করে। হে ইন্দ্র, তোমার সেনাবলই (=রশ্মিগণই) এবং তোমার বল বৃত্রমেঘকে হনন করে বারিরাশিকে জয় করেছে, তারপর তুমি তোমার স্বরাজ্যকে দীপ্তি দিতে থাকলে।। (৪১৪) সাহসের সঙ্গে এগিয়ে গেলেই সংগ্রামে (=জীবনসংগ্রামে) ধনলাভ হয়। হে ইন্দ্র, সোমপানে মত্ত তোমার অশ্ব দুটির (=দেশ ও কাল) সহযোগিতায় কাউকে বধ কর, কাউকে ধন দান কর। হে ইন্দ্র, তুমি আমাদের ধনসম্পদে রাখ।। (৪১৫) ব্যাপ্তিকে লক্ষ্য করেই তোমার প্রিয় দুই অশ্বরশ্মিকে দীপ্তিকারক হন। হে ইন্দ্র, স্বীয় দীপ্তিতে উজ্জ্বল বিদ্বানগণ নবতম স্তোত্রে তোমার স্তুতি করেছেন; অতএব এখনই তুমি তোমার বুদ্ধিদীপ্ত দুই অশ্বকে যুক্ত কর (=বর্ষণ কর্মে নিযুক্ত কর)।। (৪১৬) হে মঘবা ইন্দ্র, নিকটে এস, আমার স্তুতি শোন, যেমন শুনেছিলে আগে সেইভাবে শোন। কবে আবার তুমি আমাদের অন্ন ও বাক্যযুক্ত করবে? তাই যাচ্‌ঞা করছি এখনই তোমার দুই অশ্বকে যুক্ত কর।। (৪১৭) স্নিগ্ধ উজ্জ্বল রশ্মিযুক্ত চন্দ্রমা মেঘের মধ্য দিয়ে আকাশে ধেয়ে চলেছেন। হে সুবর্ণ-বজ্রগণ, বিদ্যুৎ হতে উৎপন্ন তোমাদের স্থান মানুষেরা জানতে পারে না। হে দ্যু ও পৃথিবী, আমার স্তোত্র শোন।। (৪১৮) হে অশ্বিদ্বয়, বৃষ্টিকামী স্তোতা তোমাদের দুজনের ধনবাহন বর্ষণকারী প্রিয়তম রথকে (=সূর্যকে) স্তোমের দ্বারা (=সামগানে) ভূষিত করছে। হে মধুবিদ্যাবিশারদ অশ্বিদ্বয়, তোমরা আমার আহবান শোন।

সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

অষ্টম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৮

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১।২।৭ অগ্নি, ৩ ঊষা, ৪ সোম, ৫।৬ ইন্দ্র, ৮ বিশ্বদেবগণ।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ১-৭ পঙ্‌ক্তি, ৮ উপরিষ্টাদ্‌ বৃহতী।।

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৭ বসুশ্রুত আত্রেয়, ২।৪ বিমদ ঐন্দ্র, বা প্রাজাপত্য বা বাসুক বসুকৃৎ, ৩ সত্যশ্রবা আত্রেয়, ৫।৬ গোতম রাহ্‌গণ ৮ অঙ্ঘোমুক বামদেব্য বা কুল্মল শৈলুষি।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৪১৯) আ তে অগ্ন ইধীমহি দ্যুমন্তং দেবাজরম্‌। যদ্ধ স্যা তে পনীয়সী।

সমিদ্‌দীদয়তি দ্যবীষং স্তোতৃভ্য আ ভর।।১।।

(৪২০) আগ্নিং ন স্ববৃক্তিভির্হোতারং ত্বা বৃণীমহে।

শীরং পাবকশোচিষং বি বো মদে যজ্ঞেষু স্তীর্ণবর্হিষং বিবক্ষসে।।২।।

(৪২১) মহে নো অদ্য বোধযোষো রেয়ে দিবিৎমতী।

যথা চিন্নো অবোধয়ঃ সত্যশ্রবসি বায্যে সুজাতে অশ্বসূনুতে।।৩।।

(৪২২) ভদ্রং নো অপি বাতয় মনো দক্ষমুত ক্রতুম্‌।

অথা তে সখ্যে সন্ধসো বি বো মদে রণা গাবো ন যবসে বিবক্ষসে।।৪।।

(৪২৩) ক্রত্বা মহাঁ অনুষ্বধং ভীম আ বাবৃতে শবঃ।

শ্রিয় ঋষ্ব উপাকযোর্নি শিপ্রী হরিবান্‌ দধে হস্তয়োর্বজ্রমায়সম্‌।।৫।।

(৪২৪) স ঘা তং বৃষণং রথমধি তিষ্ঠাতি গোবিদম্‌।

যো পাত্রং হারিযোজনং পূর্ণমিন্দ্রা চিকেততি যোজা ন্বিন্দ্র তে হরী।।৬।।

(৪২৫) অগ্নিং তং মন্যে যো বসুরন্তং যং যন্তি ধেনবঃ।

অস্তমর্বন্ত আশাবোহস্তং নিত্যাসো বাজিন ইষং স্তোতৃভ্য আ ভর।।৭।।

(৪২৬) ন অমংহো ন দুরিতং দেবাসো অষ্ট মর্ত্যম্‌।

সজোষসো যমর্যমা মিত্রো নয়তি বরুণো অতি দ্বিষঃ।।৮।।

অনুবাদঃ (৪১৯) হে দেব অগ্নি, তোমার দীপ্ত অজর রূপকে সন্দীপ্ত করি। তোমার সেই অর্চনীয় সম্যক্‌দীপ্তরূপ দ্যুলোকে অনুক্ষণ জ্বলে; তুমি স্তুতিকারীর জন্য অন্ন আন। (৪২) হে অগ্নি, অগ্নির ন্যায় উজ্জ্বল স্বরচিত স্তোত্রের দ্বারা দেবগণের আহবানকর্তা তোমাকে বরণ করি। বিস্তীর্ণ নক্ষত্রখচিত আকাশে জগতের মস্তক শুদ্ধপাবকরূপে তোমার যে রূপ প্রকাশিত তা আহ্লাদকর সকল যজ্ঞকর্মে প্রসারিত কর। (৪২১) হে দ্যুলোকবাসিনী ঊষা, হে সুজাতা, হে ঋজুগমনের দ্বারা সৎকর্মের ব্যাপ্তিকারিণী দেবী, যেমন তুমি নিত্যই সৎকর্মের দ্বারা অন্নসংগ্রহের জন্য ও বন্ধুত্বে বাস করার জন্য আমাদের জাগরিত কর, সেরূপ আজও প্রচুর ধনলাভের জন্য আমাদের জাগ্রত কর। (৪২২) হে সোমদেবতা, আমাদের মন বা ইন্দ্রিয়কে ভদ্র, দক্ষ ও কর্মের উপযুক্ত করে পরিচালিত কর। তুমি যখন তোমার রূপ প্রকাশিত কর তখন আমরা অন্নের জন্য তোমার সখ্যতা লাভ করে হৃষ্ট হই যেমন গবাদিপশু তৃণাদি ভক্ষণে আনন্দিত হয়। (৪২৩) ইন্দ্র যজ্ঞকর্মের দ্বারা নিজের ইচ্ছামত বিপুল আকার ধারণ করে ভয়ঙ্কর বলশক্তিকে বরণ করেন। উদকবান রশ্মিযুক্ত ইন্দ্র দুই হাতে লৌহবজ্রকে ধারণ করে সুন্দর মনোজ্ঞ জল আমাদের কাছে আনেন। (৪২৪) যে ইন্দ্র রশ্মিযুক্ত পাত্রকে পূর্ণ বলে জানেন (- রশ্মির দ্বারা আকৃষ্ট জলবাস্পে আকাশ পূর্ণ) তিনিই তাঁর গমনপথে জলবর্ষণকারী জল আকর্ষণকারী রশ্মিকে স্থাপনা করেন। হে ইন্দ্র, এখনই তোমার অশ্বরশ্মি দুইটিকে যুক্ত কর (=বর্ষণকার্যে নিযুক্ত কর)। (৪২৫) আমি সেই অগ্নিকে জানি যিনি রশ্মিধন (=যাতে সকলরশ্মি বাস করে), যাঁকে আশ্রয় (বা গৃহ) মনে করে বাক্‌সমূহ যাঁর প্রতি গমন করে। তিনি আকাশে বিচরণকারী ব্যাপ্ত রশ্মিদের আশ্রয়; তিনিই আশ্রয় চিরন্তন রশ্মিগণের। হে অগ্নি, স্তোতাদের জন্য অন্নধন আন (যা স্তোতাদের ইচ্ছা পূরণ কর)। (৪২৬) পরস্পর প্রীতিসম্পন্ন অন্ধকারনাশক (-অর্যমা), মৃত্যু থেকে ত্রাণকারী (-মিত্র) ও বর্ষনকারী (বরুণ)[সূর্য] যে মানুষকে হিংসা অতিক্রম করে নিয়ে যান সেই মানুষকে কোন পাপ কোন দুস্কর্ম স্পর্শ করতে পারে না; দেবগণ তাঁকে ব্যাপ্ত করেন।

সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

নবম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ঋষিঃ

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৪২৭) পরি প্র ধন্বেন্দ্রায় সোম স্বাদুর্মিত্রায় পুষ্ণে ভগায়।।১।।

(৪২৮) পর্যু যু প্র ধন্ব বাজসাতয়ে পরি বৃত্রাণি সক্ষণিঃ।

দ্বিষস্তরধ্যা ঋণয়া ন ঈরসে।।২।।

(৪২৯) পরস্ব সাম মহান্‌ৎসমুদ্রঃ পিতা দেবানাং বিশ্বাভি ধাম।।৩।।

(৪৩০) পবস্ব সোম মহে দক্ষায়াশ্বো ন নিক্তো বাজী ধনায়।।৪।।

(৪৩১) ইন্দুঃ পবিষ্ট চারুর্মদায়াপামুপস্থে কবির্ভগায়।।৫।।

(৪৩২) অনু হি ত্বা সুতং সোম মদামসি মহে সমর্যরাজ্যে।

বাজাঁ অভি পবমান প্র গাহসে।।৬।।

(৪৩৩) ক ঈং ব্যক্তা নরঃ সনীডা রুদ্রস্য মর্যা অথা স্বশ্বাঃ।।৭।।

(৪৩৪) অগ্নে তমদ্যাশ্বং ন স্তোমৈঃ ক্রতুঃ ন ভদ্র হৃদিস্পৃশম্‌।

ঋধ্যামা ত ওহৈঃ।।৮।।

(৪৩৫) আবির্মর্য্যা আ বাজং বাজিনো অগ্মন্‌ দেবস্য সবিতুঃ সবম্‌।

স্বর্গাং অর্বন্তো জয়ত।।৯।।

(৪৩৬) পবস্ব সোম দ্যুম্নী দুধারো মহাঁ অবীনামনুপূর্ব্যঃ।।১০।।

অনুবাদঃ (৪২৭) হে সোম, তুমি মধুরসযুক্ত হয়ে ইন্দ্র মিত্র পূষা ও ভগ দেবতার উদ্দেশে গমন কর। [এই সকল দেবতা একই সূর্যের বিভিন্নরূপ]। (৪২৮) হে সোম, মেঘের দ্বারা পরিবৃত বারিরাশিকে অন্নধনের জন্য বিজয়ীর মত প্রাপ্ত হও। (অন্নের দ্বারা) আমাদের দ্বেষ ও ঋণ দূর করে আমাদের প্রাপ্ত হও। (৪২৯) হে সোম, তুমি মহান সমুদ্রের মত (বা অন্তরিক্ষের মত) ব্যাপ্ত, সকল দেবগণের পিতা, তুমি সকলস্থানে ক্ষরিত হও। (৪৩০) হে সোম, তুমি রশ্মির মত শুদ্ধ ও গতিশীল; মহান সঙ্কল্পসিদ্ধির জন্য ও ধনের জন্য ক্ষরিত হও। (৪৩১) ইন্দু (=সোম=জল) সর্বাপেক্ষা শুদ্ধিকারক, সুশ্রী, কবি; তিনি বারিরাশির উপস্থানে (=আকাশে অবস্থিত বারিরাশির মধ্যে) ভগদেবতার (=সূর্যের) আনন্দের জন্য বাস করেন। (৪৩২) হে সোম, ঈশ্বরের মহান রাজ্যে (বা লোকাকীর্ণ যজ্ঞস্থানে) সুতসোম তোমাকে অনুসরণ করে (=সোমরস প্রস্তুতকালে) আমরাও হর্ষান্বিত হই। হে পবমান সোম (=বিশুদ্ধরূপে ক্ষরিত সোম), অন্নবলের জন্য উত্তম গতিশীল হও। (৪৩৩) এই ব্যক্ত (=ইন্দ্রিয়বিষয়ীভূত) নেতা সমানস্থানবাসী, সুন্দরগতিবিশিষ্ট রুদ্রের পুত্রগণ (=মরুদ্‌গণ) এঁরা কে? (৪৩৪) হে অগ্নি, যে তুমি সামগানের দ্বারা স্তুত হলে অশ্বের ন্যায় বেগবান এবং যজ্ঞের মত কল্যাণকর ও হৃদয়গ্রাহী হও, সেই তোমাকে আজ উহগানে (=সামগানে) বর্ধিত করবো। (৪৩৫) গতিশীল স্বপ্রকাশিত দেবরশ্মিগণ অন্নসৃষ্টির কারণে সবিতাদেবের (=সূর্যদেবের) ক্ষরিত জল অভিমুখে গমন করলেন এবং আকাশে স্থিত জলকে রশ্মিগণ জয় করলেন। (৪৩৬) হে সোম, তোমার মহান অনুগ্রহের উজ্জ্বল ও সুন্দর ধারা পূর্বের মত পর্যায়ক্রমে ক্ষরিত কর।

সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

দশম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১-৫, ৮-১০ ইন্দ্র, ৬ বিশ্বদেবগণ, ৭ ঊষা।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ দ্বিপদা বিরাট্‌ (কোন কোন পুস্তকে ১।৬।৯ পঙ্‌ ক্তি বিরাট্‌ বা গায়ত্রী), ২ দ্বিপদা অনুষ্টুপ্‌, ৩।৪ ত্রিষ্টুপ্‌, ৫ বৃহতী ১০ জগতী বা গায়ত্রী।

মন্ত্রের ঋষিঃ

৩ ত্রসদস্যু, পৌরকুৎস্য, ৭ সম্পাত (সংবর্ত আঙ্গিরস), অন্য মন্তের ঋষি কোন পুস্তকে বসিষ্ঠ, কোন পুস্তকে বামদেব গৌতম।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৪৩৭) বিশ্বতোদাবন্‌ বিশ্বতো ন আ ভর যং ত্বা শবিষ্ঠমীমহে।।১।।

(৪৩৮) এষ ব্রহ্মা য ঋত্বিয় ইন্দ্রো নাম শ্রুতো গুণে।।২।।

(৪৩৯) ব্রহ্মাণ ইন্দ্রং মহয়ন্তো অর্কৌরবর্ধয়ন্নহয়ে হন্তবা উ।।৩।।

(৪৪০) অনবস্তে রথমস্বায় তক্ষুস্তষ্টা বজ্রং পুরুহূতং দ্যুমন্তম্‌।।৪।।

(৪৪১) শং পদং মঘং রয়ীষিণে ন কামমব্রতো হিনোতি ন স্পৃশদ্রয়িম্‌।।৫।।

(৪৪২) সদা গাবঃ শুতয়ো বিশ্বধায়সঃ সদা দেনা অরেপসঃ।।৬।।

(৪৪৩) আ যাহি বনসা সহ গাব; সচন্ত বর্তনিং যদূধভিঃ।।৭।।

(৪৪৪) উপ প্রক্ষে মধুমতি ক্ষিয়ন্তঃ পুষ্যেম রয়িং ধীমহে ইন্দ্র।।৮।।

(৪৪৫) অর্চন্ত্যর্কং মরুতঃ স্বর্কাঃ আ স্তোভতি শ্রুতো যুবা স ইন্দ্রঃ।।৯।।

(৪৪৬) প্র ব ইন্দ্রায় বৃত্রহন্তমায় বিপ্রায় গাথং গায়ত যং জুজোষতে।।১০।।

অনুবাদঃ (৪৩৭) হে সদাদানশীল ইন্দ্র, সকল ধন বল আমাদের জন্য আহরণ কর যে ধন বলিষ্ঠ তোমার কাছে যাচ্‌ঞা করি। (৪৩৮) ইনিই ব্রহ্মা (=শ্রেষ্ঠ যজ্ঞ-কর্তা) যিনি প্রতি ঋতুতে যথাকালে কর্ম করেন, যিনি ইন্দ্র নামে বিখ্যাত; আমি তাঁকেই স্তব করি। (৪৩৯) মহান যাজ্ঞিকগণ মেঘনহনের জন্য ইন্দ্রকে ঋকের দ্বারা স্তুতি করে ইন্দ্রের বল বর্ধিত করেছেন। (৪৪০) হে ইন্দ্র, অশ্বরশ্মির দ্বারা ব্যাপ্তির জন্য ত্বষ্টা (=সূর্য) তোমার রথ (=গমনপথ) ও বজ্র প্রস্তুত করেছেন; মানুষেরা বহুস্তুত দীপ্তিমান ইন্দ্রকেই স্তব করে। (৪৪১) ধনকামীর জন্যই ধন ও সুখকর স্থান; কর্মহীন ব্যক্তির কামনা পূর্ণ হয় না, সে ধনকে স্পর্শও করতে পারে না। (৪৪২) রশ্মিগণ সর্বদাই শুচি ও সকলকিছুর পোষক, রশ্মিগণ সর্বদাই পাপশূন্য। (৪৪৩) এস হে ঊষা শুভ্রকান্তি রশ্মিগণের সঙ্গে যে রশ্মিগণ রাত্রির সহায়তায় ভ্রমণপথকে ভজনা করেছিলেন (=রাত্রির পথে তোমার আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন)। (৪৪৪) হে ইন্দ্র, তোমার মধুময় প্রবাহের নিকট নিবাস করে আমরা যেন পুষ্টি লাভ করি ও ধন ধারণ করতে পারি। (৪৪৫) সুদীপ্ত মরুদ্‌গণ সূর্যকে অর্চনা করেন এবং সূর্যকেই আর যিনি অর্চনা করেন তিনি প্রখ্যাত যুবা (=সর্বকর্ম-মিশ্রণকারী অনেককর্মা) ইন্দ্র। (৪৪৬) লোকে যাঁকে বারবার সেনা করে সেই মেঘবিদারক দীপ্তকান্তি ইন্দ্রের উদ্দেশে তোমরা সাম গান কর।

সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

একাদশ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১।২ অগ্নি, ৩।৪।৮।১০ ইন্দ্র, ৫ ঊষা, ৬।৭।৯ বিশ্বদেবগণ।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ১।২।৫।৭ দ্বিপদা পঙ্‌ ক্তি ৩।৪ পঞ্চদশাক্ষরা আসুরী গায়ত্রী, ৬।৮।৯ দ্বিপদা, ত্রিষ্টুপ্‌, ১০ একপদা অষ্টাক্ষরা গায়ত্রী।।

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ পৃষধ্র কান্ব বা সম্পাত, ২।৩।৪ বন্ধু সুবন্ধু বিপ্রবন্ধু গোপায়ন, ৫ সংবর্ত আঙ্গিরস, ৬ ভৌবন আপ্ত্য, ৭ কবষ ঐলুষ, ৮ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য, ৯ আত্রেয়, ১০ বাসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৪৪৭) অচেত্যগ্নিশ্চিকিতির্হব্যবাড্‌ ন সমুদ্রথঃ।।১।।

(৪৪৮) অগ্নে ত্বং নো অন্তম উত ত্রাতা শিবো ভূবো বরুথ্যঃ।।২।।

(৪৪৯) ভগো ন চিত্রো অগ্নির্মহোনাং দধাতি রত্নম্‌।।৩।।

(৪৫০) বিশ্বস্য প্র স্তোভ পুরো বা সন্‌ যদি বেহ নূনম্‌।।৪।।

(৪৫১) ঊষা অপ স্বসুষ্টমঃ সং বর্তয়তি বর্তনিং সুজাততা।।৫।।

(৪৫২) ইমা নু কং ভুবনা সীষধেমেন্দ্রশ্চ বিশ্বে চ দেবাঃ।।৬।।

(৪৫৩) বি সুতয়ো যথা পথা ইন্দ্র ত্বদ্যন্তু রাতয়ঃ।।৭।।

(৪৫৪) অয়া বাজং দেবহিতং সনেম মদেম শতহিমাঃ সুবীরাঃ।।৮।।

(৪৫৫) ঊর্জা মিত্রো বরুণঃ পিম্বতেডাঃ পীবরীমিষং কৃণুহী ন ইন্দ্র।।৯।।

(৪৫৬) ইন্দ্রো বিস্বস্য রাজতি।।১০।।

অনুবাদঃ (৪৪৭) গতিযুক্ত দীপ্ত হব্যবাহী অগ্নি আমাদের জন্য স্বয়ং রথযুক্ত। (৪৪৮) হে অগ্নি, তুমি আমাদের সর্বাপেক্ষা নিকটে বাসকারী এবং ত্রাতা; তুমি সুখদায়ক (বা মঙ্গলময়) ও ভূলোকে নিবাসকারী। (৪৪৯) সূর্যের ন্যায় বিচিত্রদীপ্ত ও পূজনীয় অগ্নি রমণীয় ধন ধারণ করেন। (৪৫০) হে ইন্দ্র, যদি তুমি পূর্বে সকলের পূজ্য থেকে থাক তবে এখনও তাই আছ। (৪৫১) সুন্দররূপে জাত ঊষাদেবী ভগিনী রাত্রির অন্ধকার দূর করে (আকাশরূপ) গমনমার্গকে সম্যক্‌রূপে বেষ্টন করলেন। (৪৫২) ইন্দ্র এবং বিশ্বের সকল দেবতা (=সর্বরশ্মিগণ) এই নিখিল ভূবনকে যেন আমাদের জন্য সুখকর করেন। (৪৫৩) হে ইন্দ্র, সকল পথ যেমন রাজপথে গিয়ে মেশে তেমনি সকল ধন তোমাতেই মেশে। (৪৫৪) হে ইন্দ্র, দেবদত্ত এই অন্নবল লাভ করে আমরা যেন সুবীর্যশালী হয়ে শত হেমন্ত আনন্দে ভোগ করতে পারি। (৪৫৫) মিত্র ও বরুণ জলবৃদ্ধিকারক; হে ইন্দ্র, তুমি আমাদের জন্য প্রচুর অন্ন উৎপন্ন কর। ইন্দ্র বিশ্বের রাজা।

সামবেদ - ৪র্থ অধ্যায় ঐন্দ্র কান্ডঃ ইন্দ্রস্তুতি

দ্বাদশ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১।৩।৪।১০ ইন্দ্র, ২ সূর্য ৫ বিশ্বদেবগণ, ৬ মরুদ্‌গণ ৭ পবমান সোম, ৮ সবিতা, ৯ অগ্নি।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ১।৩।৫।৭।৯ অত্যষ্টি (কোন কোন পুস্তকে ১ অষ্টি) ২।৪।৬ অতি জগতী, ৮।১০ অতিশক্করী (কোন কোন পুস্তকে ৮ অত্যষ্টি)।।

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।১০ গৃৎসমদ শৌনক, ২ গোউরাঙ্গিরস, ৩।৫।৯ পরুচ্ছেপ দৈবদাসি, ৪ রেভ কাশ্যপ, ৬ এবয়ামরুৎ আত্রেয়, ৭ অনানত পারুচ্ছেপি, ৯ নকুল।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৪৫৭) ত্রিকদ্রুকেষু, মহিষো যবাশিরং তুবিশুষ্মস্তৃম্পং সোমমপিবদ্বিষ্ণুনা সুতং যথাবশম্‌।

স ঈং মমাদ মহি কর্ম কর্তবে মহামুরুং সৈনং সশ্চদ্‌দেবো দেবং সত্যং ইন্দুঃ সত্যমিন্দ্রম্‌।।১।।

(৪৫৮) অয়ং সহস্রমানবো দৃশঃ কবীনাং মতির্জ্যোতির্বিধর্ম।

ব্রধ্নঃ সমীচীরূষসঃ সমৈরয়দরেপসঃ সচেতসঃ স্বসরে মন্যুমন্ত গোঃ।।২।।

(৪৫৯) এন্দ্র যাহ্যুপ নঃ পরাবতো নায়মচ্ছা বিদথানবি সৎপতিরস্তা রাজেব সৎপতিঃ।

হবামহে ত্বা প্রযস্বন্তঃ সুতেষ্বা পুত্রাসো ন পিতরং বাজসাতয়ে মংহিষ্ঠং বাজসাতয়ে।।৩।।

(৪৬০) তমিন্দ্রং জোহবীমি মঘবানমুগ্রং সত্রা দধানমপ্রতিষ্কুতং শ্রবাংসে ভুরি।

মংহিষ্ঠো গীর্ভিরা চ যজ্ঞিয়ো ববর্ত রায়ে নো বিশ্বা সুপথা কৃণোতু বজ্রী।।৪।।

(৪৬১) অস্তু শ্রৌষট্‌ পুরো অগ্নিং ধরা দধা আ নু ত্যচ্ছর্ধো দিব্যং বৃণীমহ ইন্দ্রবায়ূ বৃণীমহে।

যদ্ধ ক্রাণা বিবস্বতে নাভা সন্দায় নব্যসে।

অধ প্র নূনমুপযন্তি ধীতয়ো দেবাঁ অচ্ছ ন ধীতয়ঃ।।৫।।

(৪৬২) প্র বো মহে মতয়ো যন্তু বিষ্ণবে মরুত্বতে গিরিজা এবয়ামরুৎ।

প্র শর্ধায় প্র যজ্যবে সুখাদয়ে তবসে ভন্দদিষ্টয়ে ধুনিব্রতায় শবসে।।৬।।

(৪৬৩) অয়া রুচা হরিণ্যা পুনানো বিশ্বা দ্বাষাংসি ভরতি সয়ুগ্বভিঃ সুরো ন সযুগ্বভিঃ।

ধারা পৃষ্ঠস্য রোচতে পুনানো অরুষো হরিঃ।

বিশ্বা যদ্‌রূপা পরিয়াস্যৃভির্ঝকৃভিঃ।।৭।।

(৪৬৪) অভি তং দেবং সবিতারমোন্যোঃ।

কবিক্রতুমর্চামি সত্যসবং রত্নধামভি প্রিয়ং মতিম্‌।

ঊর্ধ্বা যস্যামতির্ভা অদিদ্যুতৎ সবীমনি হিরণ্যপাণিরমিমীত সুক্রতুঃ কৃপা স্বঃ।।৮।।

(৪৬৫) অগ্নি হোতারং মন্যে দাস্বন্তং বসোঃ সূনুং সহসো জাতবাদসং বিপ্রং ন জাতবেদসম্‌।

য ঊর্ধ্বয়া স্বধ্বরো দেবো দেবাচ্য কৃপা।

ঘৃতস্য বিভ্রাষ্টিমনু শুক্রোশোচিষ আজুহ্বনস্য সর্পিষঃ।।৯।।

(৪৬৬) তব ত্যং নর্ষং নৃতোহপ ইন্দ্র প্রথমং পূর্ব্যং দিবি প্রবাচ্যং কৃতম্‌।

যো দেবস্য শবস্য প্রারিণা অসু রিণন্নপঃ।

ভুবো বিশ্বমভ্যদেবমোজসা বিদেদূর্জং শতক্রতুর্বিদেদিষম্‌।।১০।।

অনুবাদঃ (৪৫৭) অতিবল মহান ইন্দ্র ইচ্ছানুযায়ী তিন যজ্ঞেই (বা তিন লোকেই) বিষ্ণুর সঙ্গে (=সূর্যের সঙ্গে) অভিষুত সোমপান করে তৃপ্ত হয়েছিলেন। সেই সোমই এই অতিব্যাপ্ত ইন্দ্রকে মহৎ কর্তব্যকর্ম সাধনে হর্ষান্বিত করেছিলেন। দীপ্ত সত্য সোম সত্য ইন্দ্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন। (৪৫৮) সহস্রমানবের দর্শনীয়, কবিগণের বুদ্ধি ও জ্যোতিকে বিশেষরূপে ধারণকারী এই সূর্য পাপশূন্যা দীপ্তিমতী ঊষার সঙ্গে দিনের বেলায় সূর্যের সঙ্গে যুক্ত রশ্মিকে প্রেরণ করলেন (=রাত্রি অবসানে দিন আরম্ভে ঊষার সঙ্গে রশ্মিদের আগমন)। (৪৫৯) রাজা যেমন সজ্জনের পালক সেইরূপ ইন্দ্র শত্রুনাশের দ্বারা (=মেঘহননের দ্বারা) সকলজীবের পালনকর্তা; হে ইন্দ্র, তুমি দূর হতে নিজ নিজ কর্মে নিযুক্ত আমাদের কাছে এস; অন্নবান আমরা সকল যজ্ঞকর্মে মহান দাতা তোমাকে ধনদানের জন্য প্রার্থনা করি যেমন পুত্রগণ ধনের জন্য পিতার কাছে যাচ্‌ঞা করে। (৪৬০) সেই ধনবান উগ্রবল যজ্ঞকর্মের ধারক অপ্রতিহতগতি ইন্দ্রকে প্রচুর অন্নধনের জন্য আহবান করি; বজ্রধারী যজ্ঞযোগ্য পূজ্যতম ইন্দ্র আমাদের স্তুতির দ্বারা আবর্তিত হয় ধনদানে আমাদের সকল পথ কল্যাণযুক্ত করুন। (৪৬১) জ্ঞানবৃদ্ধির দ্বারা অগ্নিকে পুরোভাগে ধারণ করেছি; তিনি আমাদের কথা শুনুন; সেই দিব্য শক্তিকে বরণ করি; ইন্দ্র ও বায়ুকে বরণ করি। যেহেতু জগতের নাভিস্বরূপ সূর্যের উদ্দেশে এই নতুন স্তুতি স্বত-প্রণোদিতভাবে উচ্চারিত হচ্ছে সুতরাং দেবগণ (=রশ্মিগণ) যেমন ধারণশক্তির দ্বারা অন্য কর্মকে বহন করেন, তেমনি এই স্তুতিও নিশ্চয়ই ধীশক্তিসম্পন্ন দেবগণের কাছে পৌঁছাবে। (৪৬২) হে মরুদ্‌গণ্‌, বলশালী পূজনীয় সুখদাতা শীঘ্রগামী মেঘসঞ্চালনকারী স্তুতিপ্রিয় তোমাদের উদ্দেশে, মরুদ্‌যুক্ত (=প্রাণবায়ু সমন্বিত) বিষ্ণুর উদ্দেশে এই উত্তম স্তোত্রগান গমন করুক। (৪৬৩) সূর্য যেমন কিরণরাশির সহযোগে অন্ধকার নাশ করেন, সেরূপ এই শুদ্ধা শোভনা হরিৎবর্ণা সোমধারাসকল মিলিত হয়ে সকল হিংসাকে দূর করেছেন। সেই সোমধারার ঊর্ধ্বে দীপ্তিমান পবিত্র সূর্য উজ্জ্বল শোভা ধারণ করেন; তাঁর সেই বিশ্বরূপ সপ্তছন্দের দ্বারা ছন্দায়িত হয়ে তাঁকে বেষ্টন করে ভ্রমণ করে। (৪৩৬) দ্যুলোক ও পৃথিবী উভয়ের মধ্যে বর্তমান সবিতাদেব (=সূর্য); সেই সর্বকর্মে ব্যাপ্ত, সৎকর্মের প্রেরক, রমণীয় রত্ন ধারণকারী, সর্বজন প্রিয়, মননযোগ্য সবিতাদেবকে আমি অর্চনা করি। যার স্বপ্রকাশময়ী দীপ্তি গমনাভিমুখী হয়ে উদ্‌ভাসিত, যার অনুশাসনে জগৎ প্রবর্তিত, তিনি হিরণ্যহস্ত (=স্বর্ণবর্ণ কিরণ-যুক্ত) সুকর্মা, জলনির্মাণকারী আদিত্য সূর্য। (৪৬৫) আমিই সেই অগ্নিকে জানি যিনি দানাদিগুণযুক্ত, সকলের নিবাসের কারণ, বলের পুত্র (=বলের দ্বারা উৎপন্ন), জ্ঞানপ্রজ্ঞান, কৃতবিদ্য বিপ্রের মত প্রজ্ঞাবিশিষ্ট। সেই উজ্জ্বলশিখাযুক্ত ঘৃতযুক্ত অগ্নি গৃতাহূতির দ্বারা বেষ্টিত হয়ে ঊর্ধ্বগতির দ্বারা দেবগণের প্রতি হব্যবহনে সমর্থ হন। (৪৬৬) হে ইন্দ্র, প্রথমেই আকাশে তুমি মানুষের হিতকর যে বীরোচিত কর্ম পূর্ব-কালে সম্পাদন করেছিলে তা’ অত্যন্ত প্রশংসনীয় কার্য। তুমি প্রাণের কারণে নিরুদ্ধ জলকে দেবশক্তির দ্বারা (=রশ্মির বলের দ্বারা) মুক্ত করেছিলে, বলের দ্বারা পৃথিবী হতে সকল আদেবমায়াকে (অদেব=মেঘ) দূর করে জলপ্রদান করলে; হে শতকর্মা ইন্দ্র, (সেই জলের দ্বারা) অন্নকে প্রাপ্ত হলে।।

সামবেদ - ৫ম অধ্যায় পাবমান কাণ্ড

প্রথম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ পাবমান সোম

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৪ অহমীয়ু আঙ্গিরস, ২ মধুছন্দা বৈশ্বামিত্র, ৩ ভূণ্ড বারুণি বা জমদগ্নি ভার্গব, ৫ ত্রিত আপ্ত্য, ৬ কাশ্যপ মারীচ, ৭ জমদগ্নি ভার্গব, ৮ দৃঢ়চ্যুত আগস্ত্য, ৯।১০ কাশ্যপ আদিত বা দেবল।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৪৬৭) উচ্চা তে জাতমন্ধসো দিবি সদ্‌ভুম্যা দদে। উগ্রং শর্ম মহি শ্রবঃ।।১।।

(৪৬৮) স্বাদিষ্ঠয়া মদিষ্ঠয়া পবস্ব সোম ধারয়া। ইন্দ্রায় পাতবে সুতঃ।।২।।

(৪৬৯) বৃষা পবস্ব ধারয়া মরুত্বতে চ মৎসরঃ। বিশ্বা দধান ওজসা।।৩।।

(৪৭০) যস্তে মদো বরেণ্যস্তেনা পবস্বান্ধসা। দেবাবীরম্বশংসহা।।৪।।

(৪৭১) তিস্রো বাচ উদীরতে গাবো মিমস্তি ধেনবঃ। হরিরেতি কনিক্রদৎ।।৫।।

(৪৭২) ইন্দ্রায়েন্দো মরুত্বতে পবস্ব মধুমত্তমঃ। অর্কস্য যোনিমাদসম্‌।।৬।।

(৪৭৩) অসাব্যংশুর্মদায়াপ্‌সু দক্ষো গিরিষ্ঠাঃ। শ্যোনো ন যোনিমাসদৎ।।৭।।

(৪৭৪) পবস্ব দক্ষসাধনো দেবেভ্যঃ পীতয়ে হরে। মরুদ্ভ্যে বয়বে মদঃ।।৮।।

(৪৭৫) পরি স্বানো গিরিষ্ঠাঃ পবিত্রে সোমো অক্ষরৎ। মদেষু সর্বধা অসি।।৯।।

(৪৭৬) পরি প্রিয়া দিবঃ কবির্বয়াংসি নপ্ত্যোর্হিতঃ। স্বানৈর্যাতি কবিক্রতুঃ।।১০।।

অনুবাদঃ (৪৬৭) (হে পবমান সোম), ঊর্ধ্বলোকে অন্নরসরূপে উৎপন্ন জল ভূমিতে পতিত হয়ে প্রচুর অন্ন, বল ও সুখ দান করে।। (৪৬৮) হে সোম, তুমি ইন্দ্রের পানের জন্য অভিযুত হয়েছ; অতি সুস্বাদু ও আনন্দজনক ধারায় ক্ষরিত হও।। (৪৬৯) হে বর্ষণকারী, মরুদ্‌গণসমন্বিত ইন্দ্রের আনন্দের জন্য আনন্দধারা প্রবাহিত কর, যারা সকলকিছু বলের দ্বারা ধারণ করে আছেন।। (৪৭০) হে সোম, যে আনন্দ বরণীয়, যা দেবগণকে মত্ত করে এবং অন্ধকার নাশ করে সেই অন্নরূপ আনন্দরস ধারণ করে ক্ষরিত হও।। (৪৭১) তিনপ্রকার স্তুতিবাক্য (=ঋক, যজুঃ, সাম) ঊর্ধ্বলোকে যাচ্ছে, আকাশে অবস্থিত রশ্মিগণ ও বাকরূপী ধেনুগণ শব্দ করছে (=মেঘগর্জন); হরিৎবর্ণ সোম শব্দ করতে করতে যাচ্ছেন।। (৪৭২) হে সোম, তুমি মরুদ্‌গণের সঙ্গে যুক্ত ইন্দ্রের পাণের জন্য মধুরতম রসরূপে ক্ষরিত হও; ইন্দ্রের গৃহে তোমার বাস।। (৪৭৩) মেঘে অবস্থিত কর্মকুশল সোম আনন্দের জন্য অভিযুত হয়ে শ্যেন (=রশ্মি) যেমন দ্রুতবেগে ধায় সেই ভাবে আপনস্থানে (=আকাশে) গিয়ে বসলেন।। (৪৭৪) হে হরিৎবর্ণ সোম, তুমি আনন্দদায়ক, কুশলকর্ম নিষ্পাদক; তুমি দেবগণের (রশ্মিগণের) মরুদ্‌গণের (=প্রাণবায়ুগণের) ও বায়ুর (=ইন্দ্রের) পানের জন্য ক্ষতির হও।। (৪৭৫) সুন্দররূপে পরিচালিত হয়ে মেঘস্থিত সোম রশ্মিকে আশ্রয়ে করে ক্ষরিত হলেন। হে সোম, তুম আনন্দের মধ্যে সকল কিছু ধারণ কর।। (৪৭৬) সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত হয়ে সর্বকর্মা ক্রান্তদর্শী প্রিয় সোম দ্যুলোকে জলের মধ্যে নিহিত রশ্মিরূপ পাখীদের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য যাচ্ছেন।।

সামবেদ - ৫ম অধ্যায় পাবমান কাণ্ড

দ্বিতীয় খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ পাবমান সোম

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ কবি মেধাবী, ২ শ্যাবাশ্ব আত্রেয়, ৩ ত্রিত আপ্তা, ৪।৮ অহমীয়ু আঙ্গিরস, ৫ ভূণ্ড বারুণি, ৬ কাশ্যপ মারীচ, ৭ নিধ্রুবি কাশ্যপ, ৯।১০ কাশ্যপ আদিত বা দেবল।। (এই খণ্ডের মন্ত্রগুলির দেবতা বিষয়ে উল্লেখ সকল পুস্তকে একরূপ নয়)।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৪৭৭) প্র সোমাসো মদচ্যুতঃ শ্রবসে নো মধোনাম্‌। সূতা বিদথে অক্রমুঃ।।১।।

(৪৭৮) প্র সোমাসো বিপশ্চিতোহপো নয়ন্ত ঊর্ময়ঃ। বনানি মহিষা ইব।।২।।

(৪৭৯) পবস্বেন্দো বৃষা সূতঃ কৃধী তনো যশসো জনে বিশ্বা অপ দ্বিশো জহি।।৩।।

(৪৮০) বৃষা হ্যসি ভানুনা দ্যুমন্তং ত্বা হবামহে। পবমান স্বর্দৃশম্‌।।৪।।

(৪৮১) ইন্দুঃ পবিষ্ট চেতনঃ প্রিয়ঃ কবীনাং মতিঃ। সৃজদশ্বৎ রথীরিব।।৫।।

(৪৮২) অসৃক্ষত প্র বাজিনো গব্যা সোমাসো অশ্বয়া। শুক্রাসো বীরয়াশবঃ।।৬।।

(৪৮৩) প্রবস্ব দেব আয়ুষগিন্দ্রং গচ্ছতু তে মদঃ। বায়ুমা রোহ ধর্মণা।।৭।।

(৪৮৪) পবমানো অজীজনদ্‌ দিবশ্চিত্রং ন তন্যতুম্‌। জ্যোতির্বৈশ্বানরং বৃহৎ।।৮।।

(৪৮৫) পরি স্বানাস ইন্দবো মদায় বর্হনা গিরা। মধো অর্ষন্তি ধারয়া।।৯।।

(৪৮৬) পরিপ্রাসিষ্যদৎ কবিঃ সিন্ধোরূর্মাবধি শ্রিতঃ। কারুং বিভ্রৎ পুরুস্পৃহম্‌।।১০।।

অনুবাদঃ (৪৭৭) মদ্রস্রাবী সোমসকল যজ্ঞে অভিষুত হয়ে আমাদের জন্য ধনসমূহের শ্রেষ্ঠ অন্নধনের জন্য (ঊর্ধ্বে) গমন করেছেন।। (৪৭৮) মহান মাধ্যমিক রশ্মিগণের মত অজ্ঞানতানাশক সোম জলতরঙ্গ সমূহকে ঊর্ধ্বে নিয়ে যাচ্ছেন।। (৪৭৯) হে বর্ষণকারী ইন্দ্র (=সোম) অভিষুত হয়ে ক্ষরিত হও, লোকমধ্যে আমাদের যশস্বী কর, সকল দ্বেষ নাশ কর।। (৪৮০) হে পবমান সোম, তুমিই বর্ষণকারী; সূর্যের দ্বারা সূর্যরশ্মির মত ঔজ্জ্বল্যযুক্ত তোমাকে আহবান করি।। (৪৮১) ইন্দু (=সোম) অতি পবিত্র, চেতনাসম্পন্ন, প্রিয়, কবিগণের বুদ্ধি; তিনি ইন্দ্রের মত (রথী=ইন্দ্র) জলমধ্যে বিদ্যুৎ (অশ্ব=রশ্মি, বিদ্যুৎ) সৃষ্টি করতে করতে ব্যাপ্ত হন।। (৪৮২) উজ্জ্বল বীরত্বব্যঞ্জক দুগ্ধমিশ্রিত সোমরস রশ্মিদ্বারা (বা বিদ্যুৎ সহযোগে) অন্নসমূহ সৃষ্টি করলেন।। (৪৮৩) হে সোম, তোমার হর্ষ, আয়ুহিতরক অন্ন-সৃষ্টিকারক ইন্দ্রের প্রতি গমন করুক; সত্যকর্মের দ্বারা বায়ুতে আরোহণ কর (=বৃষ্টিপ্রদানের জন্য বায়ুকে আশ্রয় কর); হে দেব, ক্ষরিত হও।। (৪৮৪) সোম, ক্ষরিত হতে হতে আকাশে বৈশ্বানরের মত (=সূর্যের মত) বৃহৎ জ্যোতি বিচিত্র বিদ্যুৎকে সৃষ্টি করলেন।। (৪৮৫) বহনকারী রশ্মির দ্বারা শব্দের দ্বারা সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত বারিরাশি আনন্দের জন্য (=প্রাণীকুলের আনন্দের জন্য) মধুর ধারায় গমন করছেন (=বর্ধিত হচ্ছেন)।। (৪৮৬) বহুলোকের আরাধ্য কর্মকে ধারণ করতে করতে (=বারিরাশিকে ধারণ করতে করতে) সমুদ্রতরঙ্গের উপর নিক্ষিপ্ত হয়ে কবি সোম স্থিত হলেন।।

সামবেদ - ৫ম অধ্যায় পাবমান কাণ্ড

তৃতীয় খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ পবমান সোম

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৮।৯ অমহীয়ু, আঙ্গিরস, ২ বৃহন্মতি আঙ্গিরস, ৩ জমদগ্নির্ভাগবঃ ৪ প্রভুবসু আঙ্গিরস, ৫ মেধ্যাতিথি কান্ব ৬।৭ নিধ্রুবি ক্যাশপ, ১০ উচথ্য আঙ্গিরস।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৪৮৭) উপো যু জাতমপ্তুরং গোভির্ভঙ্গং পরিষ্কৃতম্‌। ইন্দুওং দেবা অযাসিষুঃ।।১।।

(৪৮৮) পুনানো অক্রমীদভি বিশ্বা মৃধো বিচর্ষণিঃ। শুম্ভন্তি বিপ্রং ধীতিভিঃ।।২।।

(৪৮৯) আবিশন্‌ কলশং সুতো বিশ্বা অর্ষন্নভি শ্রিয়ঃ। ইন্দুরিন্দ্রায় ধীয়তে।।৩।।

(৪৯০) অসর্জি রথ্যো যথা পবিত্রে চম্বোঃ সুতঃ। কার্ষ্মন্‌ বাজী ন্যক্রমীৎ।।৪।।

(৪৯১) প্র যদ্‌ গাবো ন ভূর্ণয়স্তেষা অযাসো অক্রমুঃ। ঘ্নন্তঃ কৃষ্ণামপত্বচম্‌।।৫।।

(৪৯২) অপ ঘ্নন্‌ পবসে মৃধঃ ক্রতুমিৎসোম মৎসরঃ। নুদস্বা দেবযুং জনম্‌।।৬।।

(৪৯৩) অয়া পবস্ব ধারয়া যয়া সূর্যমরোচয়ঃ। হিন্বায়ো মানুষীরপঃ।।৭।।

(৪৯৪) স পবস্ব য আবিথেন্দ্রং বৃত্রায় হন্তবে। বব্রিবাংসং মহীরপঃ।।৮।।

(৪৯৫) অয়া বীতী পরি স্রব যস্ত ইন্দো মদেষ্বা। অবাহন্‌ নবতীর্নব।।৯।।

(৪৯৬) পরি দ্যুক্ষং সনদ্‌ রয়িং ভরদ্বাজং নো অন্ধসা। স্বানো পবিত্র আ।।১০।।

অনুবাদঃ (৪৮৭) শব্দের দ্বারা বিদলিত শুদ্ধীকৃত যথাসময়ে বর্ষণকারী ইন্দু সোমের প্রতি (=উপযুক্ত সময়ে ক্ষরিত বারিরাশির প্রতি) দেবগণ (=রশ্মিগণ) নিজ আধিপত্যের জন্য গমন করেছেন (=বর্ষণের পর রশ্মিগণ পুনরায় জল থেকে বাস্প সৃষ্টির জন্য জলের প্রতি যাচ্ছেন)।। (৪৮৮) শুদ্ধীকৃত সোম সকল যুদ্ধ অতিক্রম করে এলেন (=পৃথিবীতে বারিরাশি পতিত হলো); সকলে সেই সঞ্চারিত সোমকে (=বিপ্র) জ্ঞান ও কর্মের দ্বারা শোভিত করছেন (অর্থাৎ বর্ষণকে প্রয়োজনমত কর্মে নিযুক্ত করছেন)।। (৪৮৯) ইন্দ্রের জন্যই অভিষুত সোম ক্ষিপ্ত হলেন; (কর্মের জন্য) কলশে প্রবেশ করলেন, সকল সৌন্দর্যকে প্রাপ্ত হলেন।। (৪৯০) গতিশীলা দ্যু ও পৃথিবীর রশ্মিতে যথানিয়মে সোম সৃষ্ট হয়ে বেগবান অশ্বের মত চক্রাকারে পথ অতিক্রম করলেন (=অন্তরিক্ষের পথ অতিক্রম করে পৃথিবীতে এলেন)।। (৪৯১) যখন তিনি ভ্রমণশীল রশ্মির মত উদকের সঙ্গে বিচরণ করছিলেন, তখন কালো মেঘের আবরণ ভেদ করে উদককে প্রাপ্ত হলেন।। (৪৯২) হে সোম, তুমি কর্মপ্রেরক ও তৃপ্তিদায়ক। তুমি যুদ্ধে মেঘকে তাড়িত করে দেবভক্ত মানুষের প্রতি উদক প্রেরণ কর।। (৪৯৩) হে সোম, সেই ধারায় ক্ষরিত হও যে ধারায় ক্ষরিত হলে পর বারিরাশি মনুষ্যকুলকে তৃপ্ত করবে ও সূর্যকে প্রকাশিত করবে।। (৪৯৪) হে সোম, যখন বিপুল আকৃতি মেঘের মধ্যে বিশাল জলরাশি নিরুদ্ধ ছিল, তখন ইন্দ্র বৃত্রকে (=মেঘকে) হত্যা করতে উদ্যত করলে তুমি ইন্দ্রকে রক্ষা করেছিলে; সেই তুমি এখন ক্ষরিত হও।। (৪৯৫) যে ইন্দ্র মত্ত হয়ে অসংখ্য মেঘ ধ্বংস করলেন, হে সোম, সেই মেঘনিঃসৃত বারিধারাকে প্রবাহিত কর।। (৪৯৬) হে সোম, রশ্মিতে প্রস্তুত বারিরাশির দ্বারা সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত হয়ে আমাদের জন্য উজ্জ্বল, সকলভারবহনকারী বলকারক শাশ্বত ধন আন।।

সামবেদ - ৫ম অধ্যায় পাবমান কাণ্ড

চতুর্থ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১৪

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ পবমান সোম

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ মেধাতিথি কান্ব, ২। ৭ ভৃণ্ড বারুণি বা জমদগ্নি ভার্গব, ৩ উচথ্য আঙ্গিরস, ৪ অবৎসার কাশ্যপ, ৫। ৬ নিধ্রুবি কাশ্যপ, ৮। ৯ কাশ্যপ মারীচ, ১০ আসিত কাশ্যপ বা দেবল, ১১ কবি ভার্গব, ১২ জমদগ্নি ভার্গব, ১৩ অয়াস্য আঙ্গিরস, ১৪ আমহীযু আঙ্গিরস।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৪৯৭) অচিক্রদদ্‌ বৃষা বরির্মহান্মিত্রো ন দর্শতঃ। সং সূর্যেণ দিদ্যুতে।।১।।

(৪৯৮) আ তে দক্ষং ময়োর্ভুবং বহ্নিমদ্যা বুণীমহেপুরুস্পৃহম্‌।।২।।

(৪৯৯) অধ্বর্যো অদ্রিভিঃ সূতং সোমং পবিত্র আ নয়। পুনাহীন্দ্রায় পাতবে।।৩।।

(৫০০) তরৎ স মন্দী ধাবতি ধারা সুতস্যান্ধসঃ। তরৎ স মন্দী ধাবতি।।৪।।

(৫০১) আ পবস্ব সহস্রিণং রয়িং সোম সুবীর্যম্‌। অস্মৈ শ্রবাংসি ধারয়।।৫।।

(৫০২) অনু প্রত্নাস আয়বঃ পদং নবীয়ো অক্রমূঃ। রুচে জনন্ত সূর্যম্‌।।৬।।

(৫০৩) অর্যা সোম দ্যুমত্তমোহভি দ্রোণানি রোরুবৎ। সীদন্‌ যোনৌ বনেস্বা।।৭।।

(৫০৪) বৃষা সোম দ্যুমাঁ অসি বৃষা দেব বৃষব্রতঃ। বৃষা ধর্মাণি দধ্রিষে।।৮।।

(৫০৫) ইষে পবস্ব ধারয়া মৃজ্যমানো মনীষিভিঃ। ইন্দো রুচাভি গা ইহি।।৯।।

(৫০৬) মন্দ্রয়া সোম ধারয়া বৃষা পবস্ব দেবেযুঃ। অব্যা বারেভিরস্ময়ুঃ।।১০।।

(৫০৭) অয়া সোম সুকৃত্যয়া তমহান্‌ৎসন্নব্যবর্ধথাঃ। মন্দান ইদ্‌ বৃষায়সে।।১১।।

(৫০৮) অয়ং বিচর্ষণির্হিতঃ পবমানঃ স চেততি। হিন্বান আপ্যং বৃহৎ।।১২।।

(৫০৯) প্র ন ইন্দো মহে তুন ঊর্মি ন বিভ্রদর্ষসি। অভি দেবাঁ অয়াস্যঃ।।১৩।।

(৫১০) অপঘ্নন্‌ পবতে মৃধোহপ সোমো অরাবৃণঃ। গচ্ছন্নিন্দ্রস্য নিষ্কৃতম্‌।।১৪।।

অনুবাদঃ (৪৯৭) বর্ষণকারী, হরিৎবর্ণ, মহান, মিত্রের মত শোভন সোম শব্দ করে চলেছেন এবং সূর্যের দ্বারা সম্যক্‌ রূপে দীপ্ত হয়েছেন।। (৪৯৮) হে সোম, তুমি দক্ষ, সুখপ্রদ, বহনশীল, পানযোগ্য এবং বহুলোকের আকাঙ্ক্ষিত; তোমাকে আজ বরণ করি।। (৪৯৯) হে অধ্বর্যা (=যজ্ঞকর্মা=সূর্য), মেঘপুঞ্জ হতে নিঃসারিত সোমকে রশ্মিতে বহন করে আন; ইন্দ্রের পানের জন্য শোধিত কর।। [এই মন্ত্রের যাজ্ঞিক অর্থ এইরূপঃ হে অধ্বর্যু (=একজন ঋত্বিক্‌), প্রস্তরের দ্বারা অভিষুত সোমকে ইন্দ্রের পানের জন্য ছাঁকনিতে ঢেলে দাও ও শোভিত কর। অধ্বর্যু=যিনি যজ্ঞকর্মের কামনা করেন এবং যজ্ঞকে সমাপ্তির পথে নিয়ে যান = সূর্য। লৌকিক আনুষ্ঠানিক বিচারে অধ্বর্যু একজন ঋত্বিক্‌। অদ্রি = মেঘ ও প্রস্তর। পবিত্র = রশ্মি এবং ছাঁকনি] (৫০০) সেই অভিষুত সোমের আনন্দধারা তড়িৎবেগে বয়ে যাচ্ছে। সেই আনন্দধারা তড়িৎবেগে বয়ে যাচ্ছে।। (৫০১) হে সোম, সুবীর্য সহস্র ধন (=বারিসম্পদ) ক্ষরণ কর; আমাদের জন্য অন্নসকল ধারণ কর।। (৫০২) প্রাচীন সামগানের অনুসরণে নতুন এই সামগান সূর্যমণ্ডলে দীপ্তি পাবার জন্য গমন করছে। [প্রত্নাসঃ = প্রাচীন; আয়বঃ = এক ধরনের সামগান]।। (৫০৩) হে সোম, তুমি অতি গম্ভীর শব্দ করতে করতে মেঘপুঞ্জের প্রতি ধাবমান হও; অন্তরিক্ষে অবস্থিত জলমধ্যে প্রবেশ কর।। (৫০৪) হে সোম, তুমি দীপ্তিমান, তুমি বর্ষণকারী; হে দেব, বর্ষণকর্মই তোমার ব্রত, বর্ষণের দ্বারাই তুমি সকল ধর্মকে ধারণ কর।। (৫০৫) হে ইন্দ্র, (=সোম), মনীষিদের দ্বারা শোভিত হয়ে অন্নলাভের জন্য ধারারূপে ক্ষরিত হও। দীপ্তশোভা ধারণ করে জলরাশির দিকে গমন কর। (৫০৬) হে সোম, দেবকামী বর্ষণকারী তুমি আনন্দ ধারায় ক্ষরিত হও; আমাদের হিতাকামী তুমি তোমার অনুগ্রহের দ্বারা সকল জলাশয়ে অবস্থিত থাক।। [যাজ্ঞিক অর্থ এইরূপ – মেঘলোমের ছাঁকনির দ্বারা শুদ্ধ হয়ে তুমি আমাদের হিতকামী]।। (৫০৭) হে সোম, তুমি এই সুকর্মের দ্বারা মহান হয়ে বৃদ্ধিলাভ কর। আনন্দভরে বর্ষণ কর। (৫০৮) এই মনুষ্যহিতকারী পবমান সোম জলের দ্বারা বৃদ্ধিকারক অন্নকে প্রচুর উৎপন্ন করে তাঁর কর্মকে জানিয়ে দিচ্ছেন।। (৫০৯) হে ইন্দু, মহান জলতরঙ্গের মত দেবনগোনকে ধারণ করে অয়াস্য ঋষির কাছে এস।। (৫১০) ইন্দ্রের সহায়তায় যুদ্ধে অনুদার মেঘকে হনন করে মেঘ থেকে নির্গত হয়ে সোম বয়ে চলেছেন।।

সামবেদ - ৫ম অধ্যায় পাবমান কাণ্ড

পঞ্চম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১২

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ পবমান সোম

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

এই খণ্ডের মন্ত্রসমূহের সপ্ত ঋষিগণ যথাক্রমে ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য, কশ্যপ মারীচ, গোতম রাহূগণ, অত্রিভৌম, বিশ্বামিত্র গাথিন, জমদগ্নিভার্গব, বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৫১১) পুনানঃ সোম ধারয়াপো বসানো অর্ষসি।

আ রত্নধা যোনিমৃতস্য সীদস্যুৎসো দেবো হিরণ্যয়ঃ।।১।।

(৫১২) পরীতো ষিঞ্চতা সুতং সোমো য উত্তমং হবিঃ।

দধন্ধাঁ যো নর্যো অপৃস্বন্তরা সুষাব সোমমদ্রিভিঃ।।২।।

(৫১৩) আ সোম স্বানো অদ্রিভিস্তিরো বারাণ্যব্যয়া।

জন্যে ন পুরি, চম্বোর্বিশদ্ধরিঃ সদো বনেষু দধ্রিষে।।৩।।

(৫১৪) প্র সোম দেববীতয়ে সিন্ধুর্ন পিপ্যে অর্ণসা।

অংশোঃ পয়সা মদিরো ন জাগৃবিরচ্ছা কোশং মধুশ্চুতম্‌।।৪।।

(৫১৫) সোম উ স্বাণঃ সোতৃভিরধি ষ্ণুভিরবীনাম্‌।

অশ্বয়েব হরিয়া যাতি ধারয়া মন্দ্রয়া যাতি ধারয়া।।৫।।

(৫১৬) তবাহং সোম রারণ সখ্য ইন্দো দিবেদিবে।

পুরুণি বভ্রো নি চরন্তি মামব পরিধী রতি তাঁ ইহি।।৬।।

(৫১৭) মৃজ্যমানঃ সুহস্ত্যা সমুদ্রে বাচমিন্বসি।

রহিং পিশঙ্গং বহুলং পুরুস্পৃহং পবমানাভ্যর্ষসি।।৭।।

(৫১৮) অভি সোমাস আয়বঃ পবন্তে মদ্যং মদম্‌।

সমুদ্রেস্যাধি বিষ্টপে মনীষিণো মৎসরাসো মদচ্যুতঃ।।৮।।

(৫১৯) পুনানঃ সোম জাগৃবিরব্যা বারেঃ পরিপ্রিয়ঃ।

ত্বং বিপ্রো অভরোহনজ্ঞিরস্তম মধ্বা যজ্ঞং মিমিক্ষ ণঃ।।৯।।

(৫২০) ইন্দ্রায় পবতে মদঃ সোমো মরুত্বতে সুতঃ।

সহস্রধারো অত্যব্যমর্ষতি তমীং মৃজন্ত্যায়বঃ।।১০।।

(৫২১) পবস্ব বাজসাতমোহভি বিশ্বানি বার্যা।

ত্বং সমুদ্রঃ প্রথমে বিধর্মন্‌ দেবেভ্যাঃ সোম মৎসরঃ।।১১।।

(৫২২) পবমানা অসৃক্ষত পবিত্রমতি ধারয়া।

মরুত্বান্তো মৎসরা ইন্দ্রিয়া হয়া মেধামভিপ্রয়াংসি চ।।১২।।

অনুবাদঃ (৫১১) হে সোম, তুমি পবিত্র, তুমি জলের বসন পরিধান করে (=পবিত্র জলে আচ্ছাদিত হয়ে) ধারারূপে বর্ষিত হও। তুমি দেব, হিরন্ময় সকল রমণীয় ধন ধারণ করে জলের উৎস অন্তরিক্ষে বাস কর। [যাজ্ঞিক অর্থ = যজ্ঞস্থানে এসে উপবেশন কর]।। (৫১২) এই সোমদেবকে সকল দিকে সেচন কর, যিনি উত্তম হবি (=অন্ন), যিনি মানুষের হিতকারী, যিনি মেঘপুঞ্জে অবস্থিত থেকে অভিষুত হয়ে সোমের (= শস্য উৎপাদন দ্বারা মানুষের হিতরক উদকের) ধারাকে প্রবাহিত করেন।। (৫১৩) হে সোম, তোমার অনুগ্রহে মেঘ নিঃসারিত বারিরাশি সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত হয়ে জলাশয় সমূহকে প্রাপ্ত হোল। দ্যু ও পৃথিবীর মধ্যে অবস্থিত উজ্জ্বল সোম আকাশ থেকে জলমধ্যে প্রবেশ করলেন, যেন কোন মানুষ নগরে প্রবেশ করছে।। (৫১৪) হে সোম, দেবতার আনন্দপানের জন্য যেমন জলের দ্বারা নদীকে পরিপূর্ণ কর, তেমনি জলের মধুর ক্ষরিত ধারার মত সোমের মদির ধারায় তোমার প্রতি জাগরুক যে তাকে পূর্ণ কর। (৫১৫) ঊর্ধ্বাকাশে হরিৎ অশ্বরশ্মির দ্বারা নিপীড়িত হয়ে সোম পরিচালিত হয়ে ধারারূপে বয়ে চলেছেন; আনন্দ সহকারে সোম ধারারূপে বয়ে চলেছেন।। (৫১৬) হে ইন্দু, প্রতিদিন আমি তোমার সখ্যতায় প্রীতিলাভ করি। বহু জলভরা মেঘ আকাশে বিচরণ করছে; আমাকে রক্ষা করবে বলে সেই নিরুদ্ধ জলকে আমার কাছে আন।। (৫১৭) হে ক্ষরণশীল সোম, তুমি সুকৌশলে পরিস্কৃত হয়ে আকাশে শব্দ করে বিচরণ কর, তুমি উজ্জ্বল বর্ণ, বহু লোকের আকাঙ্ক্ষিত প্রচুর জলসম্পদ এনে দিয়ে থাক।। (৫১৮) সূর্যের জন্য (=রশ্মির সহায়ে) ঊর্ধ্বাকাশে অবস্থিত মনের অভিলাষ পূর্ণকারী; আনন্দদায়ক, মধুক্ষরণকারী, আয়ুস্কারক সোম রাশি আনন্দধারা ক্ষরণ করছেন।। [বিষ্টপ্‌ = আদিত্য; যিনি রসগ্রহণের জন্য রশ্মির দ্বারা প্রবিষ্ট হন]।। (৫১৯) হে সোম, তুমি শুদ্ধ ও অপ্রমত্তরূপে অবস্থিত থেকে অনুগ্রহের দ্বারা জলাশয় পূর্ণ করে সকলের প্রিয় হলে। তুমি চেতনাসম্পন্ন ও অঙ্গিরশ্রেষ্ঠ; তুমি মধুপূর্ণ রসের দ্বারা আমাদের যজ্ঞকে (=কর্মকে; প্রার্থনাকে) অভিষিক্ত কর।। [অঙ্গিরা = Carbon: অঙ্গার হতে অঙ্গিরা উৎপন্ন। (৫২০) আনন্দদায়ক সোম ইন্দ্রের জন্য ক্ষরিত মরুদ্‌গণের জন্য অভিষুত হন। সহস্রধারায় বায়ুস্তর ভেদ করে তিনি আসেন; তাঁকেই মানুষেরা শুদ্ধ করে অলঙ্কৃত করেন।। (৫২১) হে শ্রেষ্ঠধন, সকল ধনকে লক্ষ্য করে ক্ষরিত হও। হে সোম, আনন্দদায়ক আকাশ তোমাকে প্রথমে দেবগণের জন্য (=রশ্মিগণের জন্য) ধারণ করেছেন।। (৫২২) অন্তরিক্ষে প্রবাহমান জলসমূহ প্রাণবায়ুসমন্বিত, আনন্দদায়ক, ধনসম্পন্ন, গতিযুক্ত ও ক্লান্তিহরণকারী; এই বারিরাশি মেধা ও শুদ্ধিকে লক্ষ্য করে অতি ধারার বর্ষিত হচ্ছেন। (অথবা এই বারিরাশি ধন উৎপন্নের জন্য জলকে অতিধারায় বর্ষণ করেন)।।

সামবেদ - ৫ম অধ্যায় পাবমান কাণ্ড

ষষ্ঠ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১০

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ পবমান সোম

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ত্রিষ্টুপ্

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৯ উশনা কাব্য, ২ বৃষগণ বাসিষ্ঠ, ৩।৭ পরাশর শাক্ত্য, ৪।৬ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণ, ৫।১০ প্রতর্দন দৈবদাসি, ৮ প্রষ্কন্ব কান্ব।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৫২৩) প্র তু দ্রব পরি কোশং নি ষীদ নৃভিঃ পুনানো অভিবাজমর্ষ।

অশ্বং ন ত্বা বাজিনং মর্জয়ন্তোহচ্ছা বর্হীরশনাভির্নয়ন্তি।।১।।

(৫২৪) প্র কাব্যমুশনের বুরাণো দেবো দেবানাং জনিমা বিবক্তি।

মহিব্রতঃ শুচিবন্ধুঃ পাবকঃ পদা বয়াহো অভ্যেতি রেবন্‌।।২।।

(৫২৫) তিস্রো বাচ ঈরয়তি প্র বহ্নিঋর্তস্য ধীতিং ব্রহ্মণো মনীষাম্‌।

গাবো যন্তি গোপতিং পৃচ্ছমানাঃ সোমং যন্তি মতয়ো বাবশানাঃ।।

(৫২৬) অস্য প্রেষা হেমনা পুয়মা ণ দেবো দেবেভিঃ সম্পৃক্ত রসম্‌।

সুতঃ পবিত্রং পর্ষেতি রেভন্‌ মিতেব সন্ধ পশুমন্তি হোতা।।৪।।

(৫২৭) সোমঃ পবতে জনিতা মতীনাং জনিতা দিবো জনিতা পৃথিব্যাঃ।

জনিতাগ্নের্জনিতা সূর্যসা জনিতেন্দ্রস্য জনিতোত বিষ্ণো।।৫।।

(৫২৮) অভি ত্রিপৃষ্ঠং বৃষণং বয়োধামঙ্গোষিণমবাবশন্ত বাণী।

বনা বসানো বরুণো ন সিন্ধুর্বি রত্নধা দয়তে বার্যাণি।।৬।।

(৫২৯) অক্রান্‌ৎসমুদ্রঃ প্রথমে বিধর্মন্‌ জনয়ন্‌ প্রজা ভুবনস্য গোপাঃ।

বৃষা পবিত্রে অধি সানো অব্যে বৃহৎসোমো বাবৃধে স্বানো অদ্রিঃ।।৭।।

(৫৩০) কনিক্রান্তি হরিরা সৃজ্যনানঃ সীদন্বনস্য জঠরে পুনানঃ।

নৃভির্যতঃ কৃণুতে নির্ণিজং গোমতো মতিং জনয়ত স্বধাভিঃ।।৮।।

(৫৩১) এষ স্য তে মধুমাঁ ইন্দ্র সোমো বৃষা বৃষ্ণঃ পরি পবিত্রে অক্ষাঃ।

সহস্রদাঃ শতদা ভূরিদাবা শশ্বত্তমং বর্হিরা বাজ্যস্থাৎ।।৯।।

(৫৩২) পবস্ব সোম মধুমাঁ ঋতাবাপো বসানো অধি সানো অব্যে।

অব দ্রোণানি ঘৃতবন্তি রোহ মদিন্তমো বৎসর ইন্দ্রপানঃ।।১০।।

অনুবাদঃ (৫২৩) হে সোমদেব, তুমি দ্রুত গমত কর; মেধকে ঘিরে উপবেশন কর; অশ্বরশ্মিসমূহের দ্বারা পরিস্রুত হয়ে অন্নকে লক্ষ্য করে (=অন্ন সৃষ্টির উদ্দেশ্য) গমন কর। পরিশোধনকারী রশ্মিগণ অশ্বের মত বলবান তোমাকে মেঘের (বা বিদ্যুতের) দ্বারা ব্যাপ্ত করে জলবর্ষণের উদ্দেশে নিয়ে যাচ্ছেন। (৫২৪) সোমদেব কবির মত উৎসাহিত হয়ে মেঘধ্বনি রূপ রসাত্মক বাক্য (বা ধ্বনি) সৃষ্টি করে দেবগণের অবস্থান (বা উৎপত্তিস্থান) জানিয়ে দিচ্ছেন। মহান ব্রতধারী, শুচি বন্ধু, পবিত্রতাকারক সোম শব্দ করতে করতে গমনসাধনের দ্বারা মেঘকে সর্বদা প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। (৫২৫) বহনকারী সোম ঋতদেবের (=সূর্যদেবের=) বৃষ্টিপ্রদান বিষয়ক বৃদ্ধি এবং অন্নদানরূপ প্রজ্ঞাকে ধারণ করে তিন প্রকার বাক্য প্রেরণ করেন (তিন প্রকার বাক্য = ঋক্‌, যজু, সাম)। গাভীগণ যেমন গোপতিকে লক্ষ্য করে শব্দ করতে করতে যায় তেমনি কামনাভিলাষী বুদ্ধিসকল অভিমুখে যাচ্ছে। (৫২৬) (ইন্দ্র হিরন্ময় বিদ্যুতের সহায়তায় মেঘ থেকে যে উদক সৃষ্টি করলেন) সেই উজ্জ্বলকান্তি উদকের দ্বারা প্রেরিত হয়ে ক্ষরণশীল সোমদেব দেবগণের (=রশ্মিগণের) সহায়তায় সেই উদককে মধুর রসযুক্ত করলেন। সেই অভিষুত সোম জলকে ঘিরে শব্দ করতে করতে সর্বধনযুক্ত হোতা অগ্নির গৃহে (=পৃথিবীতে) পরিচিত ব্যক্তির মত প্রবেশ করলেন। (৫২৭) সোম ক্ষরিত হচ্ছেন; তিনি বুদ্ধির জন্মদাতা, দ্যুলোকের জন্মদাতা; পৃথিবীর জন্মদাতা, অগ্নির জন্মদাতা, সূর্যের জন্মদাতা, ইন্দ্রের জন্মদাতা, এবং বিষ্ণুরও জন্মদাতা। (৫২৮) তিন লোকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, বর্ষণশীল, বলশালী, স্তুতিযুক্ত সোমকে লক্ষ্য করে কামনাযুক্ত বাক্য সকল যাচ্ছে। উদকের বসন পরা বরুণ যেমন নদীকে জল দান করেন, তেমনি রত্নধারক সোম বরণীয় ধন দান করেন। (৫২৯) আকাশের মত অনতিক্রমণীয় ভুবনের রক্ষক সোম প্রথমে জগৎধারণের উদ্দেশ্যে প্রজা সৃষ্টি করলেন। সেই বর্ষণশীল মহান সোম নিজ অনুগ্রহে পর্বতশিখরে রশ্মিকে আশ্রয় করে শব্দযুক্ত মেঘরূপে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হলেন। (৫৩০) সর্বদিকে সৃষ্ঠ ক্ষরণশীল শব্দকারী হরিৎবর্ণ সোম বনের জঠরে গিয়ে বসলেন (=বনমধ্যে বৃক্ষাদিতে প্রবেশ করলেন), যেখানে তিনি রশ্মিগণের দ্বারা পরিশুদ্ধ হলেন, (তারপর উদ্ভিদ হতে উৎপন্ন) অন্নসমূহের দ্বারা বাক্‌যুক্ত বৃদ্ধি উৎপন্ন হোল। (৫৩১) হে ইন্দ্র, এই তোমার বর্ষণশীল কাম্য মধুমান সোম যা আকাশে সর্বত্র ক্ষরিত হয়; ইনি সহস্রদাতা, শতদাতা, ভূরিদাতা, নিত্যশ্রেষ্ঠ ও অন্নকে আশ্রয় করে সদা বৃদ্ধিশীল। (৫৩২) হে মধুমান সোম, উপযুক্ত কালে জলের বসন পরে তুমি পর্বত শিখরে বসেছ; তুমি ক্ষরিত হও। ঘৃতরূপ মেঘরাশিকে থেকে অবতরণ কর। তুমি অতি সুখকর, আনন্দায়ক ইন্দ্রের পানীয়।

সামবেদ - ৫ম অধ্যায় পাবমান কাণ্ড

সপ্তম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১২

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ পবমান সোম

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ত্রিষ্টুপ্‌

মন্ত্রের ঋষিঃ

১. প্রতর্দন দৈবদাসি, ২।১০; পরাশর শাক্ত্য ৩ ইন্দ্রপ্রমতি বাসিষ্ঠ, ৪ বসিষ্ঠ মৈত্রাবরুণ, ৫ কর্ণশ্রু মুড়ীক বা বাসিষ্ঠ, ৬ নোধা গৌতম, ৭ কণ্ব ঘৌর, ৮ মন্যু বাসিষ্ঠ, ৯ কুৎস আঙ্গিরস, ১১ কশ্যপ মারীচ, ১২ প্রঙ্কন্ব কাণ্ব।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৫৩৩) প্র সেনানীঃ শূরো অগ্রে রথানাং গব্যন্নেতি হর্ষতে অস্য সেনা।

ভদ্রান্‌ কৃন্বন্নিন্দ্রহবান্‌ৎসখিভ্য আ সোম বস্ত্রা রভসানি দত্তে।।১।।

(৫৩৪) প্র তে ধারা মধুমতীরসূগ্রন্‌ বারং যৎ পতো অত্যেষ্যবাম্‌।

পবমান পবসে ধাম গোনাং জনয়ন্‌ৎসূর্যমপিন্বো অর্কৈঃ।।২।।

(৫৩৫) প্র গায়তাভ্যর্চাম দেবান্‌ৎসোমং হিনোত মহতে ধনায়।

স্বাদুঃ পবতামতিবারমহ্যমা সীদতু কলশং দেব ইন্দুঃ।।৩।।

(৫৩৬) প্র হিস্বানো জনিতা রোদস্যো রথো ন বাজং সনিষন্নয়াসীৎ।

ইন্দ্রং গচ্ছন্নায়ুধা সংশিশানো বিশ্বা বসু হস্তয়োরাদধানঃ।।৪।।

(৫৩৭) তক্ষদ্যদী মনসো বেনতো বাগ্‌ জ্যেষ্ঠস্য ধর্মং দ্যুকশোরনীকে।

আদীমায়ান্বরমা বাবশনা জুষ্টং পতিং কলশে গাব ইন্দুম্‌।।৫।।

(৫৩৮) সাকমুক্ষ্যে মর্জয়ন্ত স্বসারো দশ ধীরস্য ধীতয়ো ধনুত্রীঃ।

হরি পর্যদ্রবজ্জাঃ সূর্যস্য দ্রোণং ননক্ষে অত্যো ন বাজী।।৬।।

(৫৩৯) অধি যদস্মিন্বাজিনীব শুভঃ স্পর্ধন্তে ধিয়ঃ সুরে ন বিশঃ।

অপো বৃণানঃ পবতে কবীয়ান্‌ ব্রজং ন পশুবর্ধনায় মন্ম।।৭।।

(৫৪০) ইন্দুর্বাজী পবতে গোন্যোঘা ইন্দ্রে সোমঃ সহ ইন্বন্মদায়।

হন্তি রক্ষো বাধতে পর্যরাতিং বরিবস্কৃন্বন্‌ বৃজনস্য রাজা।।৮।।

(৫৪১) অয়া পবা পবস্বৈনা বসূনি মাংশ্চত্ব ইন্দো সরসি প্রধন্ব।

ব্রধ্রশ্চিদ্যস্য বাতো ন জুতিং পুরুমেধাশ্চিত্তকবে নরং ধাৎ।।৯।।

(৫৪২) মহত্তত্তসোমো মহিষশ্চকারাপাং যদ্‌গ্ররভোহবৃণীত দেবান্‌।

অধাদিন্দ্রে পবমান ওজোহজনয়ৎ সূর্যে জ্যোতীরিন্দুঃ।।১০।।

(৫৪৩) অসর্জি বক্বা রথ্যে যথাজৌ ধিয়া মণতা প্রথমা মনীষা।

দশ স্বসারো অধি সানো অব্যে মৃজন্তি বহিং সদনেস্বচ্ছ।।১১।।

(৫৫৪) অপামিবেদূর্ময়স্তর্তুরাণাঃ প্র মনীষা ঈরতে সোমমচ্ছ।

নমস্যন্তীরূপ চ যন্তি সং চা চ বিশন্ত্যুশতীরুশন্তম্‌।।১২।।

অনুবাদঃ (৫৩৩) সেনাপতি বীর সোম (=সমানগতিসম্পন্ন শক্তির রক্ষক উদকের আত্মা) জলসমন্বিত মেঘকে পাবেন বলে সকল রথের (=গমনপথের) আগে যাচ্ছেন; এঁর সেনা আনন্দ প্রকাশ করছেন। সকলের কল্যাণ করবেন বলে ইন্দ্রকে আহবান করে সখাদের জন্য (=ইন্দ্রের সখা মরুৎবায়ুগণের জন্য) সোমদেব আচ্ছাদক তেজোরাশি আহরণ করছেন।। (৫৩৪) মেঘ ভেদ করে যে পবিত্র জল প্রাপ্ত হলে তা’ থেকে তোমার মধুময় রসের ধারা সৃষ্ট হোল। হে ক্ষরণশীল সোম, সূর্য রশ্মির দ্বারা সৃষ্ট হয়ে যে জলরাশি স্ফীত হোল সেই জলের আধার থেকে জল ক্ষরিত কর।। (৫৩৫) তোমরা সোমদেবের উদ্দেশ্যে গান কর; এস ঐ দেবগণকে অর্চনা করি; বিপুল ধন প্রাপ্তির জন্য সোমকে উন্নত কর। মেঘ থেকে স্বাদু জল বর্ষণ কর; হে দেব ইন্দু, কলশে প্রবেশ কর।। (৫৩৬) দ্যুলোক ও ভূলোকের রচয়িতা উত্তমরূপে বৃদ্ধিলাভ করে অন্নলাভের উদ্দেশে রথের মত বেগে গমন করলেন; ইন্দ্রের কাছে গিয়ে অস্ত্র শানাতে লাগলেন; তিনি সকল ধন দুই হাতে ধারণ করে আছেন।। (৫৩৭) যদি বাক্‌দেবী (=মাধ্যমিক মেঘগর্জন, যা থেকে অন্ন উৎপন্ন হয়) মনের ইচ্ছায় ইজ্জ্বল অন্নসমূহ সৃষ্টি করে বৃহতের ধর্মকে পালন করেন, তবে কাময়মান শব্দকারী এবং শ্রেষ্ঠ বস্তু প্রদানকারী রশ্মিগণ সমাগত হয়ে প্রীতিজনক ইন্দুকে (=সোমকে বা জলকে কলশে স্থাপিত করেন।। (৫৩৮) ধনুর মত আকৃতি ধারণ করে দশটি ভগিনী (=দশ দিকে অবস্থিত অগ্নিশিখা) ধীমান সোমকে শোধন করে (ঊর্ধ্বে) প্রেরণ করছে। হরিৎবর্ণ সোম বেগবান ধোড়ার মত সূর্য হতে জাত ইতস্তত ভ্রমণকারী মেঘপানে ধাবিত হলেন।। (৫৩৯) ঊষার আলোক যেমন অন্ধকারকে পরাভূত করে, সূর্যোদয়ে যেমন মানুষের কর্ম পরস্পরকে স্পর্ধা করে, বুদ্ধি যেমন পশুবর্ধনের জন্য গ্যেষ্ঠ সৃষ্টি করে (=পশুদের পরাভূত করে) জ্ঞানী সোমও সেইরূপ জলকে ঘিরে (=পরাভূত ক’রে) ক্ষরিত হচ্ছেন।। (৫৪০) ইন্দু অশ্বের মত ব্যাপ্ত। তিনি প্রচুর বারিরাশি ক্ষরণ করেন। সোম ইন্দ্রের সহযোগে মত্ত হয়েছেন। যাদের হাত থেকে জীবন রক্ষা করা কর্তব্য সেই শত্রুদের পরাভূত করছেন। তিনি বলশালী রাজার মত কাম্যবস্তু উৎপাদন করেন।। (৫৪১) হে অশ্বযুক্ত ইন্দু (=গতিযুক্ত সোম দেবতা) এই ভাবেই আকাশ হতে ক্ষরিত হয়ে জলাশয়ে ধন ক্ষরণ কর। বায়ুর মত যাঁর গতি সেই মহান বহুমেধা সোম গতির জন্যই যেন মানুষকে ধারণ করেন। (৫৪২) সেই মহান সোম বিপুল জলরাশি সৃষ্টি করলেন যার গর্ভ সমস্ত দেবরশ্মিদের আচ্ছাদিত করলো (=মেঘে ঢাকা সূর্যরশ্মি)। সোম ক্ষরিত হয়ে ইন্দ্র বলাধান করলেন। সূর্যে জ্যোতি সৃষ্টি করলেন।। (৫৪৩) যুদ্ধে যেমন রথের চাকায় প্রচুর ধুলো উৎপন্ন হয় তেমনি শব্দের প্রথম আবিস্কারক (বা সৃষ্টিকর্তা) সোমদেব মনন ও কর্মের দ্বারা জল বুদ্‌বুদ্‌ সৃষ্টি করলেন। দশটি ভগিনী (=দশদিকের অগ্নিশিখা) গিরিশিখরে জলরাশির মধ্যে অবস্থিত জলবহনকারী সোমকে অগ্নিশুদ্ধ করে শব্দ করেছেন। (৫৪৪) জলরাশিই তরঙ্গমালা যা মননের দ্বারা সৃষ্ট, তা সোমকে উদ্দেশ করে প্রবল বেগে যাচ্ছে, নত হয়ে যাচ্ছে, তাতে কাময়মানা ও কাময়মান এক হয়ে গেছে।।

সামবেদ - ৫ম অধ্যায় পাবমান কাণ্ড

অষ্টম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৯

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ পবমান সোম

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ত্রিষ্টুপ্‌।। ৭ বৃহতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ অন্ধীণ্ডঃ শ্যাবাশ্বি, ২ নহুষ মানব, ৩ যযাতি নাহূষ, ৪ মনু সাংবরণ, ৫।৮ অন্বরীষ বার্ষাগির ও ঋজিশ্বা ভারদ্বাজ, ৬।৭ রেড ও সূনূ কাশ্যপ, ৮ বাক্‌ বা বিশ্বামিত্র পুত্র প্রজাপতি।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৫৪৫) পুরোজিতী বো অন্ধসঃ সূতায় মাদয়িত্নবে।

অপ শ্বানং সখায়ো দীর্ঘজিহব্যম্‌।।১।।

(৫৪৬) অয়ং পূষা রয়ির্ভগঃ সোমঃ পুনানো অর্ষতি।

পতির্বিশ্বস্য ভূমনো ব্যখাদ্‌রোদসী উভে।।২।।

(৫৪৭) সুতাসো মধুমত্তমাঃ সোমা ইন্দ্রায়া মন্দিনঃ।

পবিত্রবন্তো অক্ষরন্‌ দেবান্‌ গচ্ছন্তু বো মদাঃ।।৩।।

(৫৪৮) সোমাঃ পবন্ত ইন্দবোহস্মভ্যং গাতুবিত্তমাঃ।

মিত্রাঃ স্বানা অরেপসঃ স্বাধ্যঃ স্বর্বিদঃ।।৪।।

(৫৪৯) অভী নো বাজসাতমং রয়িমর্ষ শতস্পৃহম্‌।

ইন্দো সহস্রভর্ণসং তুমিদ্যুম্নং বিভাসহম্‌।।৫।।

(৫৫০) অভী নবন্তে অদ্রুহঃ প্রিয়মিন্দ্রস্য কাম্যম্‌।

বৎসং ন পূর্ব আয়ুনি জাতং রিহন্তি মাতরঃ।।৬।।

(৫৫১) আ হর্ষতায় ধৃষ্ণবে ধনুষ্টন্বন্তি পৌংস্যম্‌।

শুক্রা বিযন্ত্যসুরায় নির্ণিজে বিপামগ্রে মহীযুবঃ।।৭।।

(৫৫২) পরি ত্যং হর্ষতং হরিং বভ্রুং পুনন্তি বারেণ।

যো দেবান্‌ বিশ্বাঁ ইৎ পরি মদেন সহ গচ্ছতি।।৮।।

(৫৫৩) প্র সুন্বানায়ান্ধসো মর্তো ন বষ্ট তদ্‌বচঃ।

অপ শ্বানমরাধসং হতা মখং ন ভূগবঃ।।৯।।

অনুবাদঃ (৫৪৫) হে সখাগণ (মরুৎগণ = প্রাণবায়ু) তোমাদের আনন্দের জন্য মেঘ হতে প্রস্তুত আহ্লাদজনক সোমরস পূর্বেই সংগ্রহ করা হয়েছে; দীর্ঘ শব্দকারী প্রবল বাতাসকে দূর কর (শ্বান = ঝড় বাতাস)।। (৫৪৬) ইনিই পোষণকারী, ইনিই ভজনীয় সম্পদ, ইনি শোধিত হয়ে যাচ্ছেন; ইনি বিশ্বভুবনের পতি; ইনি দ্যুলোক ও পৃথিবীকে পরস্পর থেকে পৃথক করেছেন।। (৫৪৭) ইন্দ্রের হর্ষর জন্য এই উত্তম মধুময় সোম প্রস্তুত হয়েছে। যে রশ্মিযুক্ত সোমরস সকল, তোমাদের আনন্দ দেবগণকে (=রশ্মিগণকে) লক্ষ্য করে ক্ষরিত হতে হতে গমন করুক।। (৫৪৮) উত্তমরূপে পথের সকল বাধা অতিক্রমকারীর সুন্দরভাবে প্রস্তুত জলধারা আমাদের জন্য ক্ষরিত হচ্ছেন। এই সোমধারা বন্ধু, বাক্‌যুক্ত, পাপশূন্য, সুপ্রজ্ঞ এবং সূর্যকে জানেন।। (৫৪৯) হে ইন্দু, আমাদের জন্য সর্বজনকাম্য সহস্রপ্রকার বল ও ধনযুক্ত বহু অন্নসম্পদ আন।। (৫৫০) অন্তরিক্ষে জলের নির্মাত্রী রশ্মিগণ ইন্দ্রের প্রিয় কাম্য অনিষ্টরহিত সোমকে প্রাপ্ত হলেন (=সৃষ্টি করলেন), প্রথম জাত সন্তানকে মাতা যেরূপ আদর করেন সেইভাবে রশ্মিগণ নবজাত জলকে লেহন করছেন। (৫৫১) রশ্মিগণ সর্বত্র প্রগল্‌ভ গতিযুক্ত সোমের জন্য তীক্ষ্ণবল শস্ত্র বিস্তার করেছেন। (রশ্মির তীক্ষ্ণ অগ্রভাগের দ্বারা জল বৃদ্ধি করছেন)। উত্তম মিশ্রণকারী উজ্জ্বল রশ্মিগণ জলের অগ্রভাগে অবস্থিত থেকে প্রাণবান জলের জন্য মেঘরূপ বস্ত্রকে বিস্তার করছেন। (৫৫২) রশ্মিগণ সেই গমনশীল সর্বস্তুধারক হরিৎবর্ণ সোমকে জলযুক্ত করে সর্বত্র প্রেরণ করছেন, যে সোমদেব সকল দেবগণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সর্বত্র আনন্দসহকার যাচ্ছেন।। (৫৫৩) মানুষের কামনাসুলভ স্তুতি যেমন জলকে ঘিরে হয়, তেমনি সোমদেব মেঘ হতে জল নিস্কাশনের জন্য মেঘকে ঘিরে থাকেন। তিনি ক্রুর আদানকারী বায়ুকে বিনাশ করেন যেমন মাধ্যমিক ভৃণ্ড নামক রশ্মিগণ যজ্ঞকর্মকে শুস্ক করেন। [ভৃগবঃ = ভৃণ্ডগণ = মধ্যকাশে অবস্থিত রশ্মিগণ, যাঁরা জলরাশি প্রদান না করে মেঘকে শুস্ক করেন। মখ= যজ্ঞ। শ্বান = ঝড় বা প্রবল বায়ু যা বৃষ্টিকে তাড়িত করে নিয়ে যায়, বর্ষণ করে না]।।

সামবেদ - ৫ম অধ্যায় পাবমান কাণ্ড

নবম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১২

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ পবমান সোম

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ জগতী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।২ ৩।৫ কবি ভার্গব, ৪।৬ সিকতা নিবাবরী, ৭ রেণু বৈস্বামিত্র, ৮ বেন ভার্গব, ৯ বসু ভারদ্বাজ, ১০ বৎসপ্রি ভালন্দন, ১১ অত্রি ভৌম, ১২ পবিত্র আঙ্গিরস।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৫৫৪) অভি প্রিয়াণি পবতে চনোহিতো নামানি যহ্বো অধি বর্ধতে।

আ সূর্যস্য বৃহতো বৃহন্নধি রথ বিম্বঞ্চমরুহদ্‌ বিচক্ষণ।।১।।

(৫৫৫) অচোদসো নো ধন্বস্ত্বিন্দবঃপ্র স্বানাসো বৃহদ্দেবেষু হরয়ঃ।

বি চিদশ্মানা ইষয়ো অরাতয়োহর্যো নঃ সন্তু সনিষন্তু নো ধিয়ঃ।।২।।

(৫৫৬) এষ প্র কোশে মধুমাঁ অচিক্রদদিন্দ্রস্য বজ্রো বপুষো বপুষ্টমঃ।

অভ্যততস্য সুদুঘা ঘৃতশ্চুতো বাশ্রা অর্ষন্তি পয়সা চ ধেনবঃ

(৫৫৭) প্রো অযাসীদিন্দুরিন্দ্রস্য নিশকৃতং সখা সখ্যুর্ন প্র মিনাতি সঙ্গিরম্‌।

মর্য ইব যুবতিভিঃ সমর্ষতি সোমঃ কলশে শতযামনা পথা।।৪।।

(৫৫৮) ধর্তা দিবঃ পবতে কৃত্ব্যো রসো দক্ষ্যে দেবানামনুমাদ্যো নৃভিঃ।

হরিঃ সৃজানো অত্যো ন সত্বভির্বৃথা পাজাংসি কৃণুসে নদীম্বা।।৫।।

(৫৫৯) বৃষা মতীনাং পবতে বিচক্ষণঃ সোমো অহ্নাং প্রতরীতোষসাং দিবঃ।

প্রাণা সিন্ধুনাং কলশাঁ অচিক্রদদিন্দ্রস্য হ্যার্দ্যাবিশন্‌ মনীষিভিঃ।।৬।।

(৫৬০) ত্রিরস্মৈ সপ্ত ধেনবো দুদুহ্রিরে সত্যামাশিরং পরমে ব্যোমনি।

চত্বার্যন্যা ভুবনানি নির্ণিজে চারুণি চক্রে যদ্‌তৈরবর্ধত।।৭।।

(৫৬১) ইন্দ্রায় সোম সুষুতঃ পরিস্রবাপামীবা ভবতু রক্ষসা সহ।

মা তে রসস্য মৎসত দ্বয়াবিনো দ্রবিণস্বন্ত ইহ সনিত্বন্দবঃ।।৮।।

(৫৬২) অসাবি সোম অরুষো বৃষা হরী রাজেব দস্মো অভি গো অচিক্রদৎ।

পুনানো বারমত্যে ষ্যব্যয়ং শ্যেনো ন যোনিং ঘৃতবন্তমাসদৎ ।।৯।।

(৫৬৩) প্র দেবমচ্ছা মধুমন্ত ইন্দবোহসিষ্যদন্ত গাব আ ন ধেনবঃ।

বর্হিষদো বচনাবন্ত ঊধভিঃ পরিস্ত্রতমুস্রিয়া নির্ণিজং ধিরে।।১০।।

(৫৬৪) অঞ্জতে ব্যঞ্জতে সমঞ্জতে ক্রতুং রিহন্তি মদ্বাহভ্যঞ্জতে।

সিন্ধোরুহচ্ছ্বাসে পতয়ন্তমুক্ষণং হিরণ্যপাবাঃ পশুমস্নু গৃভ্‌ণতে।।১১।।

(৫৬৫) পবিত্রং তে বিততং ব্রহ্মণস্পতে প্রভুর্গাত্রাণি পর্ষেষি বিশ্বতঃ।

অতপ্ততনূর্ন তদামো অশ্লুতে শৃতাস ইদ্‌ বহন্তঃ সং তদাশত।।১২।।

অনুবাদঃ (৫৫৪) যিনি অন্নের হিতকারী সেই বিচক্ষণ সোম মহান সূর্যের অতি ব্যাপ্ত রথের উপর আরোহণ করলেন, মহান হয়ে জলের মধ্যে বর্ধিত হলেন, সকলের প্রীতিকর জলরাশি ক্ষরিত করলেন (৫৫৫) বাণরুপ তীক্ষ্ণ আলোক ক্ষেপণকারী সর্বরস-হরণকারী, বর্ষণবিমুখ, অদানকারী মেঘসমূহকে বিদীর্ণ করে আমাদের প্রতি অনুগ্রহকারক সোমদেব মহান দেবগণের মধ্যে অবস্থিত উত্তমরূপে পরিচালিত উজ্জ্বলবর্ণ জলরাশিকে অন্তরিক্ষ হতে প্রেরণ করুন। তিনি আমাদেরই, তিনি আমাদের ধর্ম ও প্রজ্ঞায় প্রবেশ করেন।। (৫৫৬) ইন্দ্রের উদ্যত বজ্র মেঘে অবস্থিত জলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জল মধুমান রসকে প্রস্তুত করল। সুন্দররূপে, দোহনযোগ্য, উদক্ষরণকারী বাক্‌ ও রশ্মিগণ সেই জলকে নিয়ে আসছেন।। (৫৫৭) ইন্দ্রের সখা ইন্দু উত্তমরূপে শোধিত হয়ে গমন করলেন; সখার মত রসহরণকারী মেঘকে হনন করলেন; মানুষেরা যেমন যুবতী সমভিব্যহারে গমন করে তেমনি সোম রশ্মিগণসহযোগে শতপথে কলশে (=পৃথিবীরূপ কলশে) প্রবেশ করলেন।। (৫৫৮) দ্যুলোকের ধারক, দেবগণের সৃষ্ট, দক্ষ, রসরূপ সোম রশ্মিসহায়ে মত্ত হয়ে দ্যুলোক হতে ক্ষরিত হচ্ছেন। অশ্বের মত বেগবান, বর্ষণশীল উজ্জ্বল সোম উদকের দ্বারা অনায়াসে নদীসমূহের বলবৃদ্ধি করলেন।। (৫৫৯) সোমদেব সকলকে অনুগ্রহ বুদ্ধিতে দর্শন করেন; তিনি বর্ষণক্রিয়ার দ্বারা বুদ্ধিসমূহের বর্ষণকারী; তিনি দ্যুলকের ঊষার আলোকে বিস্তৃত করে দিন করেন (=মেঘ হতে বারিবর্ষণের দ্বারা আলোকের বিস্তার সাধন করেন); তিনি নদীসমূহের প্রাণ জলরাশিকে সৃষ্ট করেন; ইন্দ্রের প্রিয় সোম প্রজ্ঞাযোগে সব কিছুতে প্রবিষ্ট হন।। (৫৬০) পরম আকাশে অবস্থিত তিন ভুবনের সাত প্রকার বাক্‌ (বা রস্মি) উদকের শ্রেষ্ঠ অংশকে এঁর জন্য (=সোমদেবের জন্য) পুনঃ পুনঃ দোহন করেন। অন্য যে কোন মনোরম চার ভুবন উজ্জ্বল আকাশে চক্রাকারে আবর্তিত হয় তা সত্যের নিয়মে বির্ধিত হয়। [নিখিল বিশ্ব সাতভাগে বিভক্ত। সূর্য, অন্তরিক্ষ ও পৃথিবী এই তিন লোক আমাদের ভুবন]।। (৫৬১) হে সোম তুমি সুন্দর প্রক্রিয়ার জাত হয়েছ, তুমি ইন্দ্রের জন্য ক্ষরিত হও। যাদের হাত থেকে জীবন রক্ষা করে কর্তব্য সেই অপশক্তি ও রোগসমূহ দূর হোক। যারা অসৎ, তারা যেন তোমার রস আস্বাদন করতে না পারে। ক্ষরণশীল জলরাশি আমাদের জন্য হোক।। (৫৬২) মনের অভিলাষ পূর্ণকারী উজ্জ্বল সোম প্রস্তুত হয়েছেন। রাজার মত শত্রুপরাভবকারী সোমদেব মেঘকে পরাভূত করে জলরাশি সৃষ্টি করেন এবং ইন্দ্র যেমন অন্তরিক্ষে অবস্থান করেন তেমনি বর্ষণোন্মুখ হতে জলযুক্ত জলাশয়ে গিয়ে অবস্থান করছেন।। (৫৬৩) অন্তরিক্ষে অবস্থিত গাভীর মত শব্দকারী, মেঘের মধ্যে অবস্থিত মধুময় জলরাশি ইন্দ্রকে লক্ষ্য করে প্রবাহিত হলে আকাশ উজ্জ্বলবর্ণ ধারণ করলো।। (৫৬৪) সুবর্ণরশ্মিগণ বর্ষণ কর্মকে রাঙিয়ে তুলছে, সুপ্রকাশিত করছে, সম্যক্‌ মিশিয়ে দিচ্ছে, লেহন করছে, ক্ষরণ করছে। নদীর উচ্ছ্বাসে পতনোন্মুখ বারিকণাকে (=জলকে) সুবর্ণরশ্মিগণ পশুর মত ধরে নিয়ে জলে প্রবেশ করাচ্ছে।। (৫৬৫) হে ব্রহ্মের রক্ষক সোম, পবিত্র তোমার বিস্তার; তোমার বিপুল অঙ্গ সর্বদিকে বিস্তৃত। অতপ্ত দেহের মত অপক্ক জল (=যা রশ্মির দ্বারা সম্যক্‌ পরিশোধিত হয় নি এমন যে জল) রোগ বিস্তার করে; সম্যক্‌ পরিপক্ক জলরাশির দ্বারাই সকল ভোগ সাধিত হয়।।

সামবেদ - ৫ম অধ্যায় পাবমান কাণ্ড

দশম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১২

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ পবমান সোম

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ উষ্ণিক্‌

মন্ত্রের ঋষিঃ

১।৭।১১ দাক্ষুষ অগ্নি, ২ মানব চক্ষু, ৩।১০ পর্বত ও নারদ কান্ব, শিখন্ডিনী ও অপ্সরা কাশ্যপা, ৪।৯ পর্বত ও নারদ কান্ব, ৫ ত্রিত আপ্ত্য, ৬ আপ্সব মনু, ৮।১১ দ্বিত আপ্ত্য।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৫৬৬) ইন্দ্রমচ্ছ সূতা ইম বৃষণং যন্তু হরয়ঃ। শ্রুষ্টে জাতাস ইন্দবঃ স্বর্বিদঃ।।১।।

(৫৬৭) প্র ধন্বা সোম জাগৃবিরিন্দ্রায়েন্দো পরি স্রব। দ্যুমন্তং শুস্মমা ভর স্ববির্দম্‌।।২।।

(৪৬৮) সখায় আ নিশীদত পুনানায় প্র গায়ত। শিশুং ন যজ্ঞৈ পরি ভূষত শ্রিয়ে।।৩।।

(৪৬৯) তং বঃ সখায়ো মদায় পুনানমভি গায়ত। শিশং ন হব্যৈঃ স্বদয়ন্ত গূর্তিভিঃ।।৪।।

(৪৭০) প্রাণা শিশুর্মহীনাং হিন্বন্নৃতস্য দীধিতিম্‌। বিশ্বা পরি প্রিয়া ভুবদধ দ্বিতা।।৫।।

(৪৭১) পবস্ব দেববীতয় ইন্দো ধারাভিরোজসা। আ কলশং মধুমান্‌ৎসোম নঃ সদঃ।।৬।।

(৪৭২) সোমঃ পুনান ঊর্মিণাব্যং বারং বি ধাবতি। অগ্রে বাচঃ পবমানঃ কনিক্রদৎ।।৭।।

(৪৭৩) প্র পুনানায় বেধসে সোমায় বচ উদ্যতে। ভৃতিং ন ভরা মতিভির্জুজোষতে।।৮।।

(৪৭৪) গোমন্ন ইন্দো অশ্ববৎসুতঃ সুদক্ষ ধনিব। শুচিং চ বর্ণমধি গোষু ধারয়।।৯।।

(৫৭৫) অস্মভ্যং ত্বা বসুদিবমভি বাণিরণূষত। গোভিষ্টে বর্ণমভি বাসয়ামসি।।১০।।

(৫৭৬) পবতে হর্যতো হরিরতি হ্বরাংসি রংহ্যা। অভ্যর্ষ স্তোতৃভ্যো বীরবদ্‌ যশঃ।।১১।।

(৫৭৭) পরি কোশং মধুশ্চুতং সোমঃ পুনানো অর্ষতি। অভি বানীঋর্ষীণাং সপ্তানূষত।।১২।।

অনুবাদঃ (৫৬৬) এই অভিষুত উজ্জ্বল সোমসকল, যারা এইমাত্র জাত হলেন, যাঁরা সূর্যকে জানেন, তাঁরা বর্ষণশীল ইন্দ্রের কাছে গমন করুন। (৫৬৭) হে সোম, অন্তরিক্ষ হতে সদাজাগ্রতরূপে এস; হে ইন্দু, ইন্দ্রের জন্য ক্ষরিত হও, অতি গম্ভীর শব্দকারী, বলদীপ্ত, সূর্যবেত্তা ইন্দ্রকে পরিস্রবণে ভরে দাও।। ইন্দু, ইন্দ্রের জন্য ক্ষরিত হও, অতি গম্ভীর শব্দকারী, বলদীপ্ত, সূর্যবেত্তা ইন্দ্রকে পরিস্রবণে ভরে দাও।। (৫৬৮) সে সখাগণ, এস, বস; ক্ষরণশীল সোমকে ঘিরে গান কর। শিশুর মত নবজাত এই সোমের শ্রীবৃদ্ধির জন্য যজ্ঞের দ্বারা একে পরিভূষিত কর।। (৫৬৯) হে সখাগণ, তোমাদের আনন্দের জন্য সেই ক্ষরণশীল সোমের উদ্দেশে গান গাও। শিশুর মত নবজাতক এই সোমকে গানের দ্বারা এবং হব্যদানের দ্বারা আহ্লাদিত কর। (৫৭০) জলরাশির প্রাণ এই শিশু জলের উজ্জ্বল সৌন্দর্যকে ধারণ করেন। তারপর দুভাগে বিভক্ত হয়ে সকলের প্রিয় এই জল পৃথিবীর সকল কিছু হলেন।। (দুইভাগ = পৃথিবীর উত্তর ভাগ ও দক্ষিণভাগ)।। (৫৭১) হে ইন্দু, সকল ঔজ্জ্বল্য ধারণ করে দেবগণের আনন্দের জন্য ধারারূপে ক্ষরিত হও। হে মধুমান সোম, অন্তরিক্ষ হতে কলশে (=পৃথিবীতে) আগমন কর। [কলশ = পৃথিবীরূপ কলশ যেখানে সর্বদাই জল থাকে যেমন কলশে জলের তলানি অবশিষ্ট থাকা]।। (৫৭২) ক্ষরণের জন্য প্রস্তুত শোধিত সোম মেঘ থেকে তরঙ্গায়িত হয়ে জলাশয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। সম্মুখে শব্দকে রেখে ক্ষরণশীল সোম শব্দ করতে করতে আসছেন।। (৫৭৩) জগৎধারক ক্ষরণশীল সোমের উদ্দেশে স্তুতি উচ্চারিত হচ্ছে। ভৃতির মত পরিপূর্ণ স্তুতিবাক্যের দ্বারা তাকে প্রীত করা হচ্ছে।। (৫৭৪) হে ইন্দু, তুমি জলপূর্ণ, রশ্মিযুক্ত, অভিষুত, সদক্ষ ধনযুক্ত; তোমার দীপ্তি ও বর্ণলীলা জলরাশির উপরে ধারণ কর। (৫৭৫) ধনবিদ তোমাকে লক্ষ্য করে আমাদের স্তুতিবাক্য স্তব করেছে; জলমধ্যে তোমার বর্ণলীলা আমরা উপভোগ করি। (৫৭৬) আনন্দময় হরি (=সোম) দ্রুতগমনের দ্বারা কুটিল পথ সকল অতিক্রম করে ক্ষরিত হলেন। স্তোতাদের জন্য বীরযুক্ত যশ (=অন্ন) দান করলেন। (৫৭৭) মেঘের সকল দিক থেকে মধুক্ষরা শুদ্ধ সোম বর্ষণ করছেন। ঋষিদের সপ্ত ছন্দে রচিত বাণী তাঁকে লক্ষ্য করে স্তব করেছিল।।

সামবেদ - ৫ম অধ্যায় পাবমান কাণ্ড

একাদশ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৮

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ দেবতা পবমান সোম

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ককুপ্‌, ৫ যবমধ্যা গায়ত্রী

মন্ত্রের ঋষিঃ

১ গৌরিবীত শাক্ত্য, ২ ঊর্ধ্বসদ্মা আঙ্গিরস, ৩। ৮ ঋজিশ্বা ভারদ্বাজ, ৪ কৃতযশা আঙ্গিরস, ৫ ঋণঞ্জয় রাজর্ষি আঙ্গিরস, ৬ শক্তি বাসিষ্ঠ, ৭ ঊরু আঙ্গিরস।।

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৫৭৮) পবস্ব মধুমত্তম ইন্দ্রায় সোম ক্রতুবিত্তমো মদঃ।

মহি দ্যুক্ষতমো মদঃ।।১।।

(৫৭৯) অভি দ্যুম্নং বৃহদ্‌ যশ ইষস্পতে দীদিহি দেব দেবযুম।

বি কোশং মধ্যমং যুব।।২।।

(৫৮০) আ সোতা পরি ষিষ্ণতাশ্বং ন স্তোমমপ্তৃরং রজস্তুরম্‌।

বনপ্রক্ষমুদপ্রুতম্‌।।৩।।

(৫৮১) এতমু ত্যং মদচ্যুতং সহস্রধারং বৃষভং দিবোদুহম্‌।

বিশ্বা বসূনি বিভ্রতম্‌।।৪।।

(৫৮২) স সুন্বে যো বসুনাং যো রায়াময়ানেতা যা ইড়ানাম্‌।

সামো যঃ সুক্ষিতীনাম্‌।।৫।।

(৫৮৩) ত্বং হ্যাতঙ্গ দৈব্যং পবমান জনিমানি দ্যুমত্তমঃ।

অমৃতত্বায় ঘোষয়ন্‌।।৬।।

(৫৮৪) এষ স্য ধারয়া সুতোহব্যা বারেভিঃ পবতে মদিন্তমঃ।

ক্রীড়ন্নুর্মিরপামিব।।৭।।

(৫৮৫) য উস্রিয়া অপি যা অন্তরশ্মনি নির্গা অকৃন্তদোজসা।

অভি ব্রজং তত্নিষে গব্যমশ্ব্যং বর্মীব ধৃষ্ণবা রুজ।।৮।।

অনুবাদঃ (৫৭৮) হে সোম, তুমি উত্তম মধুময় রসযুক্ত ও উত্তম কর্মযুক্ত। তুমি মত্ত হয়ে ইন্দ্রের জন্য ক্ষরিত হও। তুমি অতি দীপ্তিমান, মত্ত, মহান।। (৫৭৯) হে অন্নের অধিপতি দেব, আকাশস্থ মেঘকে উত্তমরূপে মিশ্রিত কর; দেবকাম উজ্জ্বল প্রভূত অন্নকে আমাদের উদ্দেশে দান কর।। (৫৮০) যিনি অশ্বের মত গতিসম্পন্ন ও স্তবযুক্ত, যিনি বৃষ্টি প্রদানকারী ও অন্তরিক্ষচারী, যিনি উদকের দ্বারা পরিপ্লুত হয়ে বনে বনে শব্দ সহকারে প্রবেশ করেন, সেই সোমকে সর্বদিকে সেচন কর।। (৫৮১) এই সেই সোম যাঁকে দ্যুলোক থেকে দোহন করে আনা হয়েছে; ইনি সহস্রধারায় মধুক্ষরা; বিশ্বের সকল ধন ধারণ করে আছেন।। (৫৮২) সেই সোমকেই অভিষুত করা হয়েছে, যিনি সম্পদের, অন্নের ও কর্ষণযোগ্য সুন্দর ভূমির মধ্যে অবস্থান করে আমাদের সকল ধন দান করেন।। (৫৮৩) হে অতি উজ্জ্বলকান্তি পবমান সোম, তুমি ক্ষিপ্ত ও দ্যুলোকসন্বন্ধযুক্ত; তুমি অমৃতত্ব ঘোষণা করতে করতে ক্ষরিত হয়ে থাক (=মৃত্যু নাই, ভয় নাই, একথা বলতে বলতে তুমি ক্ষরিত হও)।। (৫৮৪) দেখ, মদশ্রেষ্ঠ সোম-ধারা মেঘ থেকে উত্তমরূপে নিঃসৃত হয়ে তরঙ্গায়িত ছন্দে খেলা করতে করতে জলাশয়ের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য ক্ষরিত হচ্ছেন।। (৫৮৫) হে সোম, মেঘের মধ্যে যা কিছু জল ও রশ্মি ছিল তা তুমি বলের দ্বারা নির্গত করেছ; তুমি বর্মধারী দুর্ধর্ষ বীরের মত মেঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাকে বিদীর্ণ করে অন্ন ও গতির বিস্তার সাধন করেছ।।

সামবেদ - ৬ষ্ঠ অধ্যায় আরণ্যক কাণ্ড

প্রথম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৯

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১-৩ ইন্দ্র, ৪ বরুণ, ৫।৭।৮ পবমান সোম, ৬ বিশ্বদেবগণ, ৯ অন্ন।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ১ বৃহতী, ২।৯ ত্রিষ্টুপ, ৩।৭।৮ গায়ত্রী, ত্রিষ্টুপ অথবা চতুস্পদা গায়ত্রী, ৬ একপাৎ জগতী বা গায়ত্রী।।

মন্ত্রের ঋষিঃ

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৫৮৬) ইন্দ্র জ্যেষ্ঠং ন আ ভর অজিষ্ঠং পুপুরি শ্রবঃ।

যদ্‌ দিধূক্ষেম বজ্রহস্ত রোদসী উভে সুশ্রিপ্র পপ্রাঃ।।১।।

(৫৮৭) ইন্দ্রো রাজা জগতশ্চর্ষণীনাম-ধিক্ষমা বিশ্বরূপং যদস্য।

ততো দদাতি দাশুষে বসুনি চোদদ্রাধ উপস্তুতং চিদর্বাক্‌।।২।।

(৫৮৮) যস্যেদমা রজোষুজস্তুজে জনে বং স্বঃ। ইন্দ্রস্য রন্ত্যং বৃহৎ।।৩।।

(৫৮৯) উদুত্তমং বরুণ পাশমস্মদবাধমং বি মধ্যমং শ্রথায়।

অথাদিতা ব্রতে বয়ং তবানাগসো অদিতয়ে স্যাম।।৪।।

(৫৯০) ত্বয়া বয়ং পবমানেন সোম ভরে কৃতং বি চিনুয়াম শশ্বৎ।

তন্নো মিত্রো বরুণো মামহন্তামদিতিঃ সিন্ধুঃ পৃথিবী উত দ্যৌঃ।।৫।।

(৫৯১) ইমং বৃষণং কৃণুতৈকমিন্‌ মাম্‌।।৬।।

(৫৯২) স ন ইন্দ্রায় যজ্যবে বরুণায়ঃ মরুদ্‌ভ্যঃ। বারিবোবিৎ পরি স্রব।।৭।।

(৫৯৩) এনা বিশ্বান্যর্য আ দ্যুম্নানি মানুষ্যণাম্‌। সিষাসন্তো বনামহে।।৮।।

(৫৯৪) অহমস্মি প্রথমজা ঋতস্য পূর্বং দেবেভ্যো অমৃতস্য নাম।

যো মা দদাতি স ইদেবমাবদমন্নমদন্তমস্মি।।৯।।

অনুবাদঃ (৫৮৬) হে উদকবান বজ্রহস্ত ইন্দ্র, তুমি যে অন্নের দ্বারা দ্যু ও পৃথিবী উভয়কে ধারণ করে রেখেছ আমাদের কাছে সেই উত্তম বলকর পুষ্টিকর অন্ন আন।। (৫৮৭) ইন্দ্র জগতের রাজা, মানুষের রাজা; পৃথিবীতে যে বিশ্বরূপ প্রকটিত তাও তাঁর। তাঁকে যিনি দান উৎসর্গ করেন; ইন্দ্র তাঁকে ধন প্রদান করেন; তিনি স্তুত হলে ধন প্রেরণ করেন।। (৫৮৮) যে ইন্দ্রের বিপুল আনন্দদায়ক জল ও তেজ এই সমস্ত যা কিছু হয়েছে তা ইন্দ্রের জ্যোতিযুক্ত বজ্রের দ্বারা জাত হয়েছে।। (৫৮৯) হে বরুণ, আমাদের উপরের পাশ খুলে দাও, নীচের পাশ খুলে দাও, কটিদেশে বন্ধ হয়ে খুলে দাও। তারপর হে আদিত্য, অমৃতরসাস্বাদের জন্য আমরা প্রমাদ রহিত হয়ে তোমার কর্মে নিযুক্ত থাকবো।। (৫৯০) হে সোম, তোমার ক্ষরণের দ্বারা কৃত যে জল তা আমরা সংগ্রহ করি; আমরা যেন চিরকালই তা সংগ্রহ করতে পারি। সুতরাং মিত্র, বরুণ, আদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী এবং দ্যুলোক আমাদের পূজা গ্রহণ করুন।। (৫৯১) হে সোমধারা, তোমরা আমাকেও তোমাদের মতই বর্ষণশীল কর।। (৫৯২) হে ঈশ্বর, তোমার এই সকল বিশ্বধন মানুষদের। আমরা তোমার সেবা করতে ইচ্ছুক, আমরা এই বিশ্বধন কামনা করি।। (৫৯৪) আমি জলরূপে জাত হবার পূর্বে সর্বপ্রথমে দেবগণের জন্য অমৃতবারিরূপে জাত হয়েছিলাম। যিনি আমাকে দান করেন তিনিই এরূপ বলছেন – আমিই অন্ন, আমিই অন্ন, আমিই অদন্ত অন্ন।।

সামবেদ - ৬ষ্ঠ অধ্যায় আরণ্যক কাণ্ড

দ্বিতীয় খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ৭

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১। ৩। ৪। ৭ ইন্দ্র, ২ পাবমান সোম, ৫ বিশ্বদেবগণ, ৬ বায়ু।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ১। ৩। ৪। ৬ গায়ত্রী, ২ জগতী, ৫ ত্রিষ্টুপ, ৭ অনুষ্টুপ।। ঋষি ১ শ্রুতকক্ষ আঙ্গিরস, ২ পবিত্র আঙ্গিরস, ৩। ৪ মধুছন্দা বৈশ্বামিত্র, ৫ প্রথ বাসিষ্ঠ, ৬ গৎসমদ শৌনক, ৭ নৃমেধ ও পুরুমেশ আঙ্গিরস।।

মন্ত্রের ঋষিঃ

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৫৯৫) ত্বমেরদধারয়ঃ। কৃজ্ঞাসু রোহিণীষু চ।। পরষ্ণীষু রুষৎ পয়ঃ।।১।।

(৫৯৬) অরুরুচসুষসঃ পৃশ্নিরগ্রিয় উক্ষা মিমেতি ভুবনেষু বাজযুঃ।

মায়াবিনো মমিরে অস্য মায়য়া নৃচক্ষসঃ পিতরো গর্ভমাদধুঃ।।২।।

(৫৯৭) ইন্দ্র ইদ্ধর্যোঃ সচা সস্মিশ্র আ বচোষুজা। ইন্দ্রো বজ্রী হিরণ্যয়ঃ।।৩।।

(৫৯৮) ইন্দ্র রাজেষু নোহব সহস্রপ্রধনেষু চ। উগ্র উগ্রাভিরুতিভিঃ।।৪।।

(৫৯৯) প্রথশ্চ যস্য সপ্রথশ্চ নামানুষ্টুভস্য হবিষো হবির্ষৎ।

ধাতুর্দ্যুতানাৎসবিতুশ্চ বিষ্ণো রথস্তরমাজভারা বসিষ্ঠঃ।।৫।।

(৬০০) নিযুত্বান্‌ বায়বা গহ্যয়ং শুক্রো অয়াভি তে। অন্তাসি সুন্বতো গৃহম্‌।।৬।।

(৬০১) যজ্জায়তা অপূর্ব্য মঘবন্‌ বৃত্রহত্যায়। তৎ পৃথিবীমপ্রথয়স্তদস্তভ্‌না উতো দিবম্‌।।৭।।

অনুবাদঃ (৫৯৫) হে ইন্দ্র, এই উজ্জ্বলবর্ণবিশিষ্ট জলকে তুমি কৃষ্ণবর্ণা, লোহিতবর্ণা ও কুটিলাগামিনী নদীসমূহে স্থাপন করেছ।। (৫৯৬) সূর্যোদয়ের পূর্বে ঊষার আলোক প্রকাশিত হলে (=অতি প্রত্যুষে) হিমকণারূপ উদক ক্ষরিত হয়; অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন দর্শনকারী মাধ্যমিক দেবগণ (=আকাশের মধ্যে অবস্থিত পিতৃগণ নামে অভিহিত রশ্মিগণ) সর্বতোভাবে অন্নের গর্ভ স্থাপন করেন।। (৫৯৭) ইন্দ্রই উদক ও বিদ্যুতের সম্যক্‌ মিশ্রণকর্তা (=উদক ও বিদ্যুতের মিশ্রণক্রিয়া থেকে বৃষ্টি হয়); তাঁর ইচ্ছামাত্রই রশ্মিগণ যুক্ত হয়। ইন্দ্র বজ্রধারী ও হিরণ্ময়।। (৫৯৮) হে ইন্দ্র, তুমি উগ্র (=উগ্রকার্যের দ্বারা কর্মকে মিলিত করে থাক); তোমার উগ্রতারূপ সকলপ্রকার রক্ষণ শক্তির দ্বারা অন্নে ও সহস্র ধনে আমাদের রক্ষা কর।। (৫৯৯) যার নাম প্রথ ও সপ্রথ (=যা অতিবিস্তৃত বলে পরিচিত) যা অনুষ্টুভের হবির হবি সেই রথন্তর সামগানকে ধাতা, সবিতা ও বিষ্ণুর তেজ হতে বসিষ্ঠ আহরণ করলেন।। (৬০০) হে বায়ু, তুমি নিষুতগণকে নিয়ে এস; এই উজ্জ্বল সোমরস তোমার জন্য। তুমি সোম অভিষবকারীর গৃহে যাও।। (৬০১) হে অপূর্ব মঘবান ইন্দ্র, তুমি মেঘহননের জন্য যখন জন্মেছ তখন পৃথিবীকে প্রথিত করেছ আর দ্যুলোককে স্তব্ধ করেছ।।

সামবেদ - ৬ষ্ঠ অধ্যায় আরণ্যক কাণ্ড

তৃতীয় খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১৩

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১ প্রজাপতি, ২। ৩ সোম, ৪। ৫। ৮। ১৩ অগ্নি, ৬ অপাংনপাৎ, ৭ রাত্রি, ৯ বিশ্বদেবগণ; ১০ লিঙ্গোক্ত, ১১ ইন্দ্র ১২ আত্মা বা অগ্নি।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ত্রিষ্টুপ, ১। ৭ অনুষতুপ, ৪ গায়ত্রী, ৮। ৯ জগতী, ১০ মহাপঙক্তি।। ঋষি ১। ৫। ৭। ১০ বামদেব গৌতম, ২। ৩ গৌতম রাহুগণ, ৫ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র, ৬ গৃৎসমদ্‌ শৌনক, ৮ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য, ৯ ঋজিশ্বা ভারদ্বাজ, ১১ হিরণ্যস্তুপ আঙ্গিরস, ১২। ১৩ বিশ্বামিত্র গাথিন।।

মন্ত্রের ঋষিঃ

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৬০২) মহি বর্চো অথৌ যশহথো যজ্ঞস্য যৎ পয়ঃ। পরমেষ্ঠী প্রজাপতি র্দিবি দ্যামিব দৃংহতু।।১।।

(৬০৩) সং তে পয়াংসি সমু যন্তু বাজাঃ সং বৃষ্ণয়ান্যভিমাতিষাহঃ।

আপ্যায়মাণ অমৃতায় সোম দিবি শ্রবাংস্যুত্তমানি ধিষ্ব।।২।।

(৬০৪) ত্বমিমা ওষধী; সোম বিশ্বাস্তমপো অজনয়স্তৎ গাঃ।

ত্বমাত্নোরুর্বাহন্তরিক্ষং ত্বং জ্যোতিষা বি তমো ববর্থ।।৩।।

(৬০৫) অগ্নিমীলে পুরোহিতং যজ্ঞস্য দেবমৃত্বিজম্‌। হোতারং রত্নধাতম।।৪।।

(৬০৬) তে মন্বত প্রথমং গোনাং ত্রিঃ সপ্ত পরমং নাম জানন্‌।

তা জানতীরভানুষত ক্ষা আবির্ভূবন্নরুনীর্যশস্য গাবঃ।।৫।।

(৬০৭) সমন্যা যন্ত্যুপয়ন্তান্যাঃ সমানমূর্বং নদ্যস্পৃণন্তি।

তমু শূচিং শুচয়ো দীদিবাংসমপান্নপাতমুপ যন্ত্যাপঃ।।৬।।

(৬০৮) আ প্রাগাদ ভদ্রা যুবতিরহ্বঃ কেতুন্‌ৎসমীৎর্সতি।

অভূদ্‌ ভদ্রা নিবেশনী বিশ্বস্য জগতো রাত্রী।।৭।।

(৬০৯) প্রক্ষস্য বৃষ্ণো অরুষস্য নূ মহঃ প্র নো বগচো বিদথা জাতবেদসে।

বৈশ্বানরায় মলির্নব্যসে শুচিঃ সোম ইব পবতে চারুরগ্নয়ে।।৮।।

(৬১০) বিশ্বে দেবা মম শৃন্বন্তু যজ্ঞমুভে রোদসী অপাং নপাচ্চ মম্ন।

মা বো বচাংসি পরিচক্ষ্যণি বোচং সুম্নেষ্বিদ্‌ বো অন্তমা মদেম্‌।।৯।।

(৬১১) যশো মা দ্যাবাপৃথিবী যশ্যে মেন্দ্রবৃহস্পতী।

যশো ভগস্য বিন্দতু যশো মা প্রতিমুচ্যত্যম্‌ যশসাত স্যাঃ সংসদোহহম্‌ প্রবদিতা স্যাম্‌।।১০।।

(৬১২) ইন্দ্রস্য নু বীর্যাণি প্রবোচং যানি চকার প্রথমানি বজ্রী।

অহন্নহিমন্বপস্ততর্দ প্র বক্ষণা অভিনৎ পর্বতানাম্‌।।১১।।

(৬১৩) অগ্নিরশ্মি জন্মনা জাতবেদা ঘৃতং মে চক্ষুরমতৃং ম আসন্‌।

ত্রিধাতুরর্কো রজসো বিমানোহজস্রং জ্যোতির্হাবরশ্মি সর্বম্‌।।১২।।

(৬১৪) পাত্যাগ্নির্বিপো অগ্রং পদং বেঃ পাতি যহ্বশ্চরং সূর্যস্য।

পাতি নাভা সপ্তশীর্ষানমগ্নিঃ পাতি দেবানামুপমাদমৃম্বঃ।।১৩।।

অনুবাদঃ (৬০২) যজ্ঞসাধনভূত যে অন্ন, বল ও জল আমাতে আছে তা পরমেষ্ঠী প্রজাপতি দ্যুলোক আকাশের মত ধারণ করুন। (৬০৩) হে সোম, তোমার জলরাশি অন্ন বীর্য বর্ধন করুক ও অপশক্তি নাশ করুক; তুমি অমরত্বের জন্য বৃদ্ধিলাভ করে দ্যুলোকে উত্তম অন্ন ধারণ কর। (৬০৪) হে সোম, তুমি সকল ওষধী, জলরাশি ও পশুদের সৃষ্টি করেছ; তুমি জ্যোতির দ্বারা তমোনাশ করে বিশাল আকাশকে আরও বিস্তৃত করেছ। (৬০৫) অগ্নিকে আমি পূজা করি, তিনি যজ্ঞের পুরোহিত, ঋত্বিক্‌, হোতা এবং অতি উৎকৃষ্ট ধনদাতা। (৬০৬) তাঁরা (সপ্ত ঋষিগণ বা রশ্মিগণ) প্রথমে তিনলোকে গোরশ্মিসমূহের নমন অনুমোদন করলেন এবং সপ্তলোকে রশ্মিগণের উৎকৃষ্ট নমন বিষয়ে জানলেন। ঊষাকালে সেই দীপ্ত অরুণবর্ণা রশ্মিগণ উদকের সঙ্গে আবির্ভূত হয়ে পৃথিবীকে স্তব করেছিলেন। (৬০৭) সমানভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জল একে অন্যের সঙ্গে মেশে; সমান ভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সমুদ্রকে নদীসমূহ প্রীত করে। সেই নির্মল জলরাশি শুচি ও দীপ্যমান অপাং নপাৎ (=অগ্নি) দেবতা অভিমুখে গমন করে। (৭০৮) কল্যাণময়ী ঊষা সর্বপ্রথমে উচ্চাকাশে দিনের আলো প্রেরণ করে প্রজ্ঞা সৃষ্টি করেন; কল্যাণী রাত্রি দেবী জগতের সকলপ্রাণীর সুখের আশ্রয় স্বরূপা। (৬০৯) সর্বব্যাপী, বর্ষণকারক, দীপ্তিমান, মহান জাতবেদা অগ্নির উদ্দেশে এই জ্ঞানময় স্তুতি করছি। বিশ্বের প্রিয় বৈস্বানর অগ্নির উদ্দেশে এই নবীন শূচি স্তোত্র সোমের (=জলের মত) নির্গত হচ্ছে। (৬১০) বিশ্বদেবগণ (=সকল রশ্মিগণ), দ্যুলোক ও পৃথিবী উভয়ে এবং অপাং নপাৎ অগ্নি (=জলের রক্ষক বা জলের পৌত্র অগ্নি) আমার এই বুদ্ধিপূর্বক রচিত স্তোত্র শ্রবণ কর। তোমরা আমার এই স্তোত্র বর্জন কোরো না; তোমাদের আনন্দের মধ্যে বাস করে আমরাও হৃষ্ট হবো। (৬১১) দ্যুলোক ও পৃথিবী আমাকে যশ (=অন্ন, জল ও সম্পদ) দান করুন, ইন্দ্র ও বৃহস্পতি যশ দান করেন; ভগদেবতার (=সূর্যের) যশ আমি যেন প্রাপ্ত হই; যশ আমাকে সুপ্রকাশিত করুক। যশের সহায়ে আমি সভাতে যেন সুবক্তা হই। (৬১২) ইন্দ্রর বিরত্বব্যঞ্জক কর্মসমূহ এখনই বলছি। যে কর্মসমূহ বজ্রধারী ইন্দ্র প্রথম থেকেই করে আসছেন। তিনি মেঘকে হনন করেন; পরে বারিরাশিকে ভূমিতে পাতিত করেন; এবং পর্বত ভেদ করে নদীসমূহকে প্রবাহিত করেন। (৬১৩) আমি অগ্নি, আমি জন্ম থেকেই জ্ঞানযুক্ত, ঘৃত (বা জল) আমার চক্ষু, অমৃত আমার মুখে। আমিই তিন লোক ধারণ করে আছি; আমিই ঋক্‌, আমি অন্তরিক্ষের পরিমাপকারী, আমিই অজস্র জ্যোতি; আমিই সকল হবি (=অন্ন বা জল)। (৬১৪) বিপ্র অগ্নি রক্ষাকর্তা; তিনি প্রথমে গমনশীল সূর্যের বিচরণস্থল আকাশকে রক্ষা করেন এবং প্রাণবায়ু মরুদ্‌গণকে রক্ষা করেন। মহান অগ্নি দেবগণের হর্ষকেও রক্ষা করেন।

সামবেদ - ৬ষ্ঠ অধ্যায় আরণ্যক কাণ্ড

চতুর্থ খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১২

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১।২ অগ্নি, ৩-৭ পুরুষ, ৮ দ্যাবাপৃথিবী, ৯-১১ ইন্দ্র, ১২ গোগণ (=রশ্মিগণ)।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ অনুষ্টুপ, ১-২ পঙ্‌ ক্তি, ৮।১১।১২ ত্রিষ্টুপ।।

মন্ত্রের ঋষিঃ

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৬১৫) ভ্রাজন্ত্যগ্নে সমিধান দীদিবো জিহ্বা চরত্যন্তরাসনি।

স ত্বং নো অগ্নে পয়সা বসুবিদ্‌ রয়িং বর্চো দৃশেহদাঃ।।১।।

(৬১৬) বসন্ত ইন্নু রন্ত্যো গ্রীষ্ম ইন্নু রন্তাঃ।

বর্ষাণ্যনু শরদো হেমন্তঃ শিশির ইন্নু রন্ত্যঃ।।২।।

(৬১৭) সহস্রশীর্ষাঃ পুরুষঃ সহস্রাক্ষঃ সহস্রপাৎ।

স ভূমিং সর্বতো বৃত্বাত্যতিষ্ঠদ্‌ দশাঙ্গুলম্‌।।৩।।

(৬১৮) ত্রিপাদূর্ধ্ব উদৈৎ পুরুষ পাদহস্যেহাভবৎ পুনঃ।

তথা বিম্বঙ্‌ ব্যক্রামদশনানশনে অভি।।৪।।

(৬১৯) পুরুষ এবেদং সর্বং যদ্‌ ভূতং যচ্চ ভাব্যম্‌।

পাদোহস্য সর্বা ভূতানি ত্রিপাদস্যামৃতং দিবি।।৫।।

(৬২০) তাবানস্য মহিমা ততো জ্যয়াংশ্চ পুরুষঃ।

উতামৃতত্বস্যেশানো যদন্নেনাতিরোহতি।।৬।।

(৬২১) ততো বিরাডজায়ত বিরাজো অধি পুরুষঃ।

স জাতো অত্যরিচ্যত পশ্চাদ্‌ ভূমিমথো পুরঃ।।৭।।

(৬২২) মন্যে বাং দ্যাবাপৃথিবী সুভোজসৌ যে অপ্রথেথামমিতমভি যোজনম্‌।

দ্যাবাপৃথিবী ভবতং স্যেনো তে নো মুঞ্চতমংহসঃ।।৮।।

(৬২৩) হরী তে ইন্দ্র শ্মশ্রুণ্যুতো তে হরিতৌ হরী।

তং ত্বা স্তুবন্তি কবয়ঃ পুরুষাসো বনর্গবঃ।।৯।।

(৬২৪) যদ্‌ বর্চো হিরণ্যস্য ষদ্‌ বা বর্চো গবামৃত।

সত্যস্য ব্রহ্মণো বর্চস্তেন মা সংসৃজামসি।।১০।।

(৬২৫) সহস্তন্ন ইন্দ্র দগ্ধযোজ ঈশে হ্যস্য মহতো বিরপ্‌শিন্‌।

ক্রতুং ন নৃমণং স্থবিরং চ বাজং বৃত্রেষু শত্রুন্‌ৎসহনা কৃধী নঃ।।১১।।

(৬২৬) সহর্শভাঃ সহবৎসা উদেত বিশ্বা রূপাণি বিভ্রতীর্দব্যুধ্নীঃ।

উরুঃ পৃথুরয়ং বো অন্তু লোক ইমা আপঃ সুপ্রপাণা ইহ স্ত।।১২।।

অনুবাদঃ (৬১৫) হে প্রজ্জ্বলিত জ্যোতির্ময় অগ্নি, তোমার মুখ মধ্যে জিহ্বা বিচরণ করে (=তোমার মধ্যে বাক্‌ অবস্থিত)। হে অগ্নি, হে পরমধন, তুমি আমাদের অন্ন সহ রমণীয় ধন ও তেজ জ্ঞানদৃষ্টির জন্য দান কর।। (৬১৬) বসন্ত কালই রমণীয়, গ্রীষ্মও রমণীয়, বর্ষাকালের পরে শরৎ হেমন্ত ও শীতকালও রমণীয়।। (৬১৭) পুরুষের (=এই আত্মার) সহস্র মস্তক, সহস্র চক্ষু, সহস্র পদ। তিনি পৃথিবীর সকল দিক ব্যাপ্ত করে দশ আঙ্গুল পরিমাণ অতিরিক্ত থেকে অবস্থান করেন।। (৬১৮) পুরুষের তিন পদ ঊর্ধ্বমুখী, আর এক পদ (=এক অংশ) এই বিশ্বকে বার বার প্রকটিত করে। তারপর তিনি ভোজনকারী (=প্রাণ বা চৈতন্যযুক্ত) এবং ভোজন রহিত (=অচেতন) তাবৎ বস্তুতে ব্যাপ্ত হন।। (৬১৯) এই পুরুষই এই সব যা কিছু, যা হয়েছে এবং যা হবে। তাঁর এক পদ-ই এই সকল বস্তু, আর দ্যুলোকে অমরণধর্মা তিন পদ অবস্থান করে।। (৬২০) সেই পুরুষের মহিমা এরূপ হলেও তিনি তাঁর সৃষ্টির চেয়ে মহৎ। এর এই সর্বেশ্বরের অমৃতত্বের কারণ তিনি অন্নভোগের দ্বারা অতিরোহণ করেন (ভোগকে অতিক্রম করে ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন)।। (৬২১) তাঁহা হতে বিরাট্‌ (=ব্রহ্মান্ড) জাত হয়েছে এবং তিনি সেই বিরাটে অধিষ্ঠিত পুরুষরূপে বিরাজমান। তারপর তিনি সেই ভাবে পৃথিবী এবং জীবদেহে অবস্থান করেও অতিরিক্ত রূপে (পৃথকভাবে) অবস্থান করেন।। (৬২২) হে দ্যুলোক ও পৃথিবী, আপনারা শোভন পালয়িত্রী তা আমি জানি; আপনারা অপরিমিত ধন ও সুখ দান করুন; হে দ্যাবাপৃথিবী, আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করুন।। (৬২৩) হে ইন্দ্র, তোমার রশ্মিসকল হরিৎবর্ণ, আর তোমার অশ্বদ্বয় (=দেশ ও কাল) সকল কিছু হরণকারী। কবিগণ, পুরুষগণ, জ্ঞানভক্তিযুক্ত সেবকগণ তোমাকে স্তব করেন।। (৬২৪) হিতরমনীয় যে জ্যোতি অথবা স্নিগ্ধ যে জ্যোতি, এবং সত্যস্বরূপ ব্রহ্মের যে জ্যোতি, তার সঙ্গে আমি যেন নিজেকে যুক্ত করতে পারি।। (৬২৫) হে শব্দকারী (বা সত্য বাক্যযুক্ত) ইন্দ্র, তোমার পরাভবকারী তেজ ও বল আমাদের দাও। তুমিই মহৎ বলের ঈশ্বর। সৎকর্মের দ্বারা যে ধন লাভ হয় সেই পরম ধন ও অমিত শক্ত আমাদের দাও। আমাদের পাপনাশক শক্তির উপায় বলে দাও।। (৬২৬) মনবাঞ্ছা পূর্ণকারী, সৎকর্মের সৃষ্টিকারী ও ধারক, হে অমৃতধারা, তোমরা আমাদের প্রাপ্ত হও; বিপুল এই বিশ্ব তোমাদের কৃপার অধীন হোক; তোমাদের অমৃতধারা আমাদের অনায়াসলভ্য হোক।

সামবেদ - ৬ষ্ঠ অধ্যায় আরণ্যক কাণ্ড

পঞ্চম খণ্ড - মন্ত্র সংখ্যাঃ ১৪

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ১ পবমান অগ্নি, ২-১৪ সূর্য (৪-৬ সূর্য বা আত্মা)।।

মন্ত্রের ছন্দঃ

মন্ত্রের ছন্দঃ ১, ৪-১৪ গায়ত্রী, ২ জগতী, ত্রিষ্টুপ।। ঋষি ১ শতং বৈখানস, ২ বিভ্রাট্‌ সৌর্য, ৩ কুৎস আঙ্গিরস, ৪-৬ সর্পরাজ্ঞী, ৭-১৪ প্রস্কণ্ব কান্ব।।

মন্ত্রের ঋষিঃ

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-
(৬২৭) অগ্ন আয়ুংসি পবস আসুবোর্জভিষং চ নঃ।

আরে বাধস্ব দুচ্চুনাম্‌।।১।।

(৬২৮) বিভ্রাড্‌ বৃহৎপিবতু সোম্যং মধ্বায়ুর্দধদ্যজ্ঞপতাববিহূতম্‌।

বাতজূতো যো অভিরক্ষতি ত্মনা প্রজাঃ পিপর্তি বহূধা বি রাজতি।।২।।

(৬২৯) চিত্রং দেবানামুদ্‌গাদনীকং চক্ষুর্মিত্রস্য বরুণস্যাগ্নেঃ।

আপ্রা দ্যাবাপৃথিবী অন্তরিক্ষং সূর্য আত্মা জগতস্তথুষশ্চ।।৩।।

(৬৩০) আয়ং গৌঃ পৃশ্নিরক্রমীদসদন্মতরং পুরঃ।

পিতরং চ প্রযন্‌ৎস্ব।।৪।।

(৬৩১) অশতশ্চরতি রোচনাস্য প্রাণাদপানতী।

ব্যখ্যন্মহিষো দিবম্‌।।৫।।

(৬৩২) ত্রিংশদ্ধাম বি রাজতি বাক্‌ পতঙ্গায় ধীয়তে।

প্রতি বস্তোরহ দ্যুভিঃ।।৬।।

(৬৩৩) অপ ত্যে তায়বো যথা নক্ষত্রা যন্ত্যক্তুভিঃ সুরায় বিশ্বচক্ষসে।।৭।।

(৬৩৪) অদৃশ্রন্নস্য কেতবো বি রশ্ময়ো জনাঁ অনু।

ভ্রাজন্তো অগ্নয়ো যথা।।৮।।

(৬৩৫) তরণির্বিশ্বদর্শতো জ্যোতিস্কৃদসি সূর্য।

বিশ্বমাভাসি রোচনম্‌।।৯।।

(৬৩৬) প্রত্যঙ্‌ দেবানাং বিশঃ প্রত্যঙ্‌ ঙুদেষি মানষান্‌।

প্রত্যঙ্‌ বিশ্বং স্বর্দৃশে।।১০।।

(৬৩৭) যেনা পাবক চক্ষসা ভুরণ্যন্তং জনাঁ বরুণ পশ্যসি।।১১।।

(৬৩৮) উদ্‌ দ্যামেষি রজঃ পৃথ্বহা মিমানো অক্তুভিঃ।

পশ্যঞ্জন্মানি সূর্য।।১২।।

(৬৩৯) অযুক্ত সপ্ত শন্ধ্যুবঃ সূরো রথস্য নপত্র্যঃ।

তাভির্মাতি স্বযুক্তিভিঃ।।১৩।।

(৬৪০) সপ্ত ত্বা হরিতো রথে বহন্তি দেব সূর্য।

শোচিস্কেশং বিচক্ষণ।।১৪।।

অনুবাদঃ (৬২৭) হে অগ্নি, তুমি আমাদের আয়ু দাও; বল ও অন্ন দাও; দুষ্ট প্রকৃতির দূরে রাখ।। (৬২৮) অতি দীপ্ত সূর্যদেব মধুর সোম পান করুন, যজ্ঞকারীর (-সৎকর্মকারীর) আয়ু বৃদ্ধি করুন। তিনি বায়ু দ্বারা প্রেরিত হয়ে প্রজাদের স্বয়ং রক্ষা করেন, পালন করেন ও বহুরূপে বিরাজ করেন।। (৬২৯) বিচিত্র রশ্মিসমূহের সমষ্টিরূপ সূর্য উদিত হয়েছেন; তিনিই মিত্র, বরুণ ও অগ্নির চক্ষুস্বরূপ; দ্যুলোক, ভূলোক ও অন্তরিক্ষ স্বীয় মহত্ত্বে পূর্ণ করেছেন। সূর্য স্থাবর ও জঙ্গমের আত্মা।। (৬৩০) এই নানারূপ বিচিত্র বর্ণ গমনশীল অগ্নি (=সূর্য) পূর্বদিকে উদিত হয়ে মাতা পৃথিবীকে প্রাপ্ত হন, পরে দ্যুলোকে আকাশপথে গমন করেন। (৬৩১) এঁর দীপ্ত এঁর দেহের মধ্যে (বা দ্যু ও পৃথিবীমধ্যে) বিচরণ করে, এবং এঁর প্রাণ হতে নিঃশ্বাসরূপে প্রাণবায়ু নির্গত হয় (=এঁর প্রাণই বাহিরে নির্গত হয় প্রাণবায়ু রূপে); ইনিই দ্যুলোকে বিপুলাকৃতি ধারণ করে ব্যাপ্ত হন।। (৬৩২) তিরিশ স্থানে ইনি বিরাজ করেন (=সৌর মাস তিরিশ দিনের কথা বলা হয়েছে); পতঙ্গের মত গমশীল এই সূর্যের উদ্দেশে স্তব উচ্চারিত হয়। তিনি দিবারাত্র নিজ করণে উদ্‌ভাসিত।। (৬৩৩) সর্বজগতের প্রকাশক সূর্যের উদয়ে নক্ষত্রগণ রাত্রির সঙ্গে চোরের মত পালিয়ে গেল।। (৬৩৪) দীপামান অগ্নির মত সূর্যের প্রজ্ঞানরূপ, রশ্মিসকল মানুষদের লক্ষ্য করতে করতে চলেছে।। (৬৩৫) হে সূর্য, তুমি ক্ষিপ্রগামী, বিশ্বদ্রষ্টা ও জ্যোতির কারক। তুমি সমস্ত দীপ্ত বস্তুকে প্রকাশিত কর। (৬৩৬) হে সূর্য দেবগণের প্রজাবৃন্দকে (=রশ্মি দ্বারা সৃষ্ট জীবদের) দেখবার জন্য পশ্চিম দিকে মুখ করে উদিত হও (=পূর্বদিকে উদিত হও পশ্চিমমুখী হতে), মানুষদের দেখবার জন্য (পূর্বদিকে) পশ্চিম মুখ হয়ে উদিত হও, সর্ব জগতকে দেখবার জন্য (পূর্বদিকে) পশ্চিম মুখ হয়ে উদিত হও। (৬৩৭-৬৩৮) হে বরুণ (=সূর্য) হে পবিত্রতাকারক, তুমি যে অনুগ্রহ দৃষ্টিতে জনগণমধ্যে অবস্থিত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে সৎকর্মানুষ্ঠানকারীকে দর্শন করে থাক, সেই অনুগ্রহ দৃষ্ঠিতে, হে সূর্য, তুমি রাত্রির সঙ্গে দিনকে সৃষ্টি করে, জাত প্রাণিসমূহকে অবলোকন করে দ্যুলোক এবং মহান অন্তরিক্ষলোক নানাভাবে পরিভ্রমণ কর।। (৬৩৯) রথবাহক সাতটি অশ্বকে (=সপ্ত রশ্মিকে) সূর্য তাঁর রথে যুক্ত করলেন, স্বয়ংযুক্ত সেই অশ্বের সহায়তায় তিনি গমন করছেন।। (৬৪০) হে সূর্যদেব, সাতটি অশ্ব তোমাকে রথে বহন করে; হে সর্বদ্রষ্টা, জ্যোতিই তোমার কেশ।

সামবেদ - মহানাম্নী আর্চিক

মহানাম্নী আর্চিক

মন্ত্রের দেবতাঃ

মন্ত্রের দেবতাঃ ত্রৈলোক্য-আত্মা ইন্দ্র

মন্ত্রের ছন্দঃ

প্রজাপতি

মন্ত্রের ঋষিঃ

মন্ত্রের অনুবাদঃ

মন্ত্রঃ-

(৬৪১) বিদা মঘবন্‌ বিদা গাতুমনুশংসিষো দিশঃ।
শিক্ষা শচীনাং পতে পূর্বাণাং পুরুবসো।।১।।

(৬৪২) আভিষ্ট্রমভিষ্টিভিঃ স্বাহতর্ন্নাংশুঃ।
প্রচেতন প্রচেতয়েন্দ্র দ্যুম্নায় ন ইষে।।২।।

(৬৪৩) এবা হি শক্রো রায়ে বাজায় বজ্রিবঃ।
শবিষ্ঠ বজ্রিন্নুঞ্জস মংহিষ্ঠঃ বজ্রিন্নুঞ্জস।
আ যাহি পিব মৎস্ব।।৩।।

(৬৪৪) বিদা রায়ে সুবীর্যং ভুবো বাজানাং পাতবশাঁ অনু।
মঙ্ঘিষ্ঠ বজ্রিন্নুঞ্জসে যঃ শবিষ্ঠঃ শূরানাম্‌।।৪।।

(৬৪৫) যো মংহিষ্ঠো মধোনামংজুর্ন্ন শোচিঃ।
চিকিত্বো অভি নো নযেন্দ্রো বিদে তমু স্তুহি।।৫।।

(৬৪৬) ঈশে হি শক্রোস্তমূতয়ে হবামহে জেতারমপরাজিতম্‌।
স নঃ স্বর্ষদতি দ্বিযঃ ক্রতুশ্ছন্দ ঋতং বৃহৎ।।৬।।

(৬৪৭) ইন্দ্রং ধনস্য সাতয়ে হবামহে জেতারমপরাজিতন্‌।
স নঃ স্বর্ষদতি দ্বিষঃ স নপ স্বর্ষদতি দ্বিষঃ।।৭।।

(৬৪৮) পূর্বস্য যত্তে অদ্রিবোংশুর্মদায়।
সুম্ন আ ধেহি নো বসো পূর্তিঃ শবিষ্ঠ শস্যতে।
বশী হি শক্রো নূনং তন্নব্যং সন্যসে।।৮।।

(৬৪৯) প্রভো জনস্য বৃত্রতন্‌ৎসমর্যেষু ব্রবাবহৈ।
শূরো যো গোষু গচ্ছতি সখা সুশেবো অদ্বযুঃ।।৯।।
(পঞ্চ পুরীষদপদ)

(৬৫০) এবাহ্যেহতহতহতব। এবা হ্যগ্নে। এবাহীন্দ্র।
এবা হি পূষন্‌। এবা হি দেবাঃ ওঁ এবাহি দেনাঃ।।১০।।

অনুবাদঃ

(৬৪১) হে মহাধন, তুমি সর্বজ্ঞ; তুমি আমাদের স্তুতি জান; আমাদের সৎমার্গ প্রদর্শন কর। হে বহুধন, হে হবু কর্মের অধিপতি, আমাদের ধন দান কর।।

(৬৪২) হে ইন্দ্র, হে প্রশস্ত জ্ঞানযুক্ত, তুমি আমাদের ভক্তিভাব জান। তুমি অন্ন ও ধনলাভের নিমিত্ত হও; আমাদের প্রার্থনা শোন।

(৬৪৩) হে বজ্রধারী ইন্দ্র, ধন ও অন্নদানে তোমার প্রসাদ আমাদের ওপর নেমে আসুক। হে দেব, হে বলিষ্ঠ, হে বজ্রী, সম্পদ লাভের দ্বারা আমাদের সমৃদ্ধ কর। হে মহান দাতা, সোমপানের জন্য এস; সোমপানে হৃষ্ট হও।।

(৬৪৪) হে বজ্রী, ধন রক্ষার জন্য সুবীর্য দান কর। তুমি অন্নবলের অধিপতি, আমাদের কামনা জেনে, হে মহান দাতা, হে বজ্রী, হে বলীয়ানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলশালী, আমাদের অতিদানে সমৃদ্ধ কর।।

(৬৪৫) যিনি ধনসমূহের শ্রেষ্ঠদাতা, যিনি আদিত্যের ন্যায় দীপ্তি, সেই সর্বজ্ঞ ইন্দ্রকে আরাধনা কর। হে জ্ঞানবান ইন্দ্র, আমাদের লক্ষ্য করে ধন আন।।

(৬৪৬) সেই জাতা, অপরাজিত, দেব ঈশ্বরকেই আমাদের রক্ষার জন্য আহ্বান করি। তিনি আমাদের রিপু বিনাশ করে আমাদের কর্ম, ছন্দ, প্রভূত বারি সম্পদ দান করুন।।

(৬৪৭) জেতা ও অপরাজিত ইন্দ্রকে ধনলাভের জন্য আহ্বান করি। তিনি আমাদের দ্বেষ নাশ করুন, আমাদের রিপু নাশ করুন।।

(৬৪৮-৬৪৯) হে মেঘবিদারক ইন্দ্র, তোমার যে চিরায়ত ধন, তোমার মত্ততার জন্য যে সোমরস আছে, তা আমাদের দাও। হে নিবাসপিদ, আমাদের সুখ দাও। হে বলিষ্ঠ, তোমার পূর্ণ দান সকলেই চায়, কারণ তুমি সর্বনিয়ন্তা, শক্তিমান। হে প্রভু, হে বৃত্রহন্তা, হে চিরনূতন, তুমি ও আমি অবশ্যই সৎকর্মে ও সদালাপে নিযুক্ত থাকবো। যে ইন্দ্র অন্ন-বাক্‌-জল দানে সমর্থ, তিনিই সখা, শোভন সুখকর, কেবল সত্যস্বরূপ

(=মনে ও মুখে এক)।।

(৬৫০) হে অগ্নি, তুমি এইরূপই

(=তোমার প্রশংসা বা গুণ এইরূপ)। হে ইন্দ্র, তুমিও এইরূপ; হে পূষন্‌, তুমিও এইরূপ; হে দেবগণ, তোমরাও এইরূপ; হে দেবগণ, তোমরাও এইরূপ।।